বুধবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সংসদে শামীম ওসমান বললেন, আমি লজ্জিত

news-image

নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেছেন, আমি লজ্জিত, আমি কিছু করতে পারছি না। রোববার রাতে সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে একথা বলেন সরকার দলীয় এ সংসদ সদস্য।শামীম ওসমান বলেন, বেশ কয়েকটি পত্রিকায় খবর উঠেছে শামীম ওসমানের এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি। আমি সবসময় সত্য কথা বলার চেষ্টা করি, যেটা অন্যায় যেটা মিথ্যা, অসত্যটার প্রতিবাদ করি। সত্যের পক্ষে কথা বলি। যে ঘটনা নিয়ে কথা বলা হয়েছে সেই ঘটনা সত্য।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের জন্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি অফিসারদের কোয়ার্টার নির্মাণ করছে। চার বছর আগে ওই কাজের টেন্ডার হয়েছে, সবকিছু সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং পূর্বের গণপূর্ত মন্ত্রী থাকা অবস্থায় ওখানে একটি খেলার মাঠ করার দবি উঠেছিল। তৎকালীন মন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলাম খেলার মাঠ রাখার জন্য। পরে সেই দাবি রেখেছেন। ইতোমধ্যে খেলার মাঠের জন্য ১২ কোটি টাকা অনুদানও দিয়েছেন। কিন্তু লক্ষ করা গেছে বিআইডব্লিউটিএ যে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করেছিল সেখানে একটি চাঁদাবাজ গোষ্ঠী চাঁদা আদায় করছে। ওয়াকওয়েটা পুরো ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেখানে মাল লোড-আনলোড করছে। সেখানে শ্রমিকদের কাছে থেকে দুই একটা টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে খেলার মাঠের নাম করে। ওখানে তিন বছর ধরে একটা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যারা টেন্ডার নিয়েছেন তারা কাজ করতে পারছে না সন্ত্রাসীদের জন্য। সন্ত্রাসীদের নখ এবং দাঁত কতটুক বড়। চাঁদাবাজদের হাত কতটুক বড়? সেখানে প্রতিদিন ৪-৫ লাখ চাঁদা আদায় হয়।

তিনি বলেন, যেহেতু পত্রিকায় নিউজ লেখা হয় শামীম ওসমানের এলাকায়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জিডি করেছে। আসলে সন্ত্রাসীদের এই শক্তির উৎস কোথায়? ৫ লাখ টাকা ভাগ হয়ে যাচ্ছে। সেই কাজ শুরু করতে পারছে না। আমি লজ্জিত কিছু করতে পারছি না বলে। এই জন্য বললাম যে ওই চাঁদাবাজির পক্ষে আমার সমর্থন নেই। তাই মন্ত্রীকে অনুরোধ করব অতিদ্রত এই বদনাম থেকে রক্ষা করুন এবং চাঁদাবাজ যত বড় শক্তিই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।