বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে দুর্নীতি : সর্ব প্রধান কারারক্ষী বরখাস্ত, ২৬ জন বদলী

news-image
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র। জড়িত ২৬ কারারক্ষীকে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে। বরখাস্ত করা হয়েছে সর্ব প্রধান কারারক্ষী আবদুল ওয়াহেদ।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করতে কারা অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব সৈয়দ বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি করা হয়। তিনি সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপ সচিব মো. মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এই কমিটি গত ৬ এপ্রিল ৫১ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্তে বন্দি বেচা-কেনা, সাক্ষাৎ বাণিজ্য, সিট বাণিজ্য, খাবার বাণিজ্য, চিকিৎসা বাণিজ্য এবং জামিন বাণিজ্যের প্রমাণ মিলে। এ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারে বন্দিদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিক্রি করা হয়। ওয়ার্ড নিয়ন্ত্রণ করে পুরাতন বন্দি ও কারারক্ষীরা। ওয়ার্ড থেকে হাসপাতালে চিকিৎসার নামে বিক্রি হয়। চিকিৎসার জন্যে মাসে ১০/২০ হাজার টাকা দিতে হয়। অন্য ওয়ার্ডে থাকতে হলে ৫/৬ হাজার টাকা দিতে হয়। কারা কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে ওয়ার্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয় পুরনো বন্দীরা।

প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, সর্ব প্রধান কারারক্ষী আবদুল ওয়াহেদ নিম্নমানের খাবার সরবরাহের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, এসব নিম্নমানের খাবার সরবরাহের সঙ্গে তিনি, প্রধান কারারক্ষী, ডেপুটি জেলার, জেলার এবং জেল সুপার জড়িত। কারাগারে ২টি ক্যান্টিন রয়েছে। একটি কারাগারের ভেতরে, অন্যটি বাইরে। বাইরের ক্যান্টিনে মূল্য তালিকা নেই। ভেতরের ক্যান্টিনে খাবারের মূল্য কয়েকগুণ বেশি নেওয়া হতো। ক্রয়কৃত মালামালের বিপরীতে মূল্য পিসি (প্রিজনার ক্যাশ) কার্ড থেকে কর্তন করা হয়। শুধুমাত্র কর্তনকৃত মোট টাকার পরিমাণ থাকে। কোনো পণ্যের নাম লেখা থাকে না।
মাসিক ১০-২০ হাজার টাকায় আর্থিকভাবে সচ্ছল/প্রভাবশালী বন্দিরা হাসপাতালটিকে নিজস্ব বাসাবাড়িতে পরিণত করেছে। পরিদর্শনের সময় ১২টি বেডের বন্দিরা পালিয়ে যায়। ৯ জন বন্দিকে হাসপাতালে পাওয়া যায়।প্রতিবেদনে বলা হয়, অফিস কলের মাধ্যমে সাক্ষাতের সময় অফিসে অবস্থানের জন্যে আত্মীয় স্বজনকে বন্দিপ্রতি পাঁচশ টাকা দিতে হয়। কারা অভ্যন্তরের জানালা দিয়ে কথা বলার জন্যে বন্দিকে একশ টাকা দিতে হয়। অফিস কল এবং সাক্ষাৎকালে টাকা আদায়ের সঙ্গে সর্বপ্রধান কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী জড়িত। পরবর্তীকালে এই টাকা ডেপুটি জেলার, জেলার এবং জেল সুপারের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়। বন্দিরা আদালত থেকে জামিন লাভ করলেও অর্থ প্রদান না করলে জামিননামা আটককে রেখে মুক্তি বিলম্বিত করা হয়। এর জন্য সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা দিতে হয়। এই প্রতিবেদন দাখিলের পর তদন্ত কমিটির মতামত ও সুপারিশের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে কারা মহাপরিদর্শকের পক্ষে অতিরিক্ত কারা মহা পরিদর্শক মো. বজলুর রশিদ ৫ মে চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহা পরিদর্শককে নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠান। যাতে ২৬ জন কারারক্ষীর নামের তালিকা দিয়ে তাদের কম গুরুত্বপূর্ণ কারাগারে বদলী পূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করত বলা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেলার এজি মাহমুদ ২৬ জন কারারক্ষীর বদলীর কথা স্বীকার করে জানান, বেনামী দরখাস্তের প্রেক্ষিতে তদন্ত হয়। এই তদন্তের পর আইজি প্রিজনের নির্দেশে তাদের বদলী করা হয়েছে এবং একজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর