শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

টানা ১২দিন ধরে কর্মচারীদের আন্দোলনে অচল রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

news-image

রংপুর ব্যুরো : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কর্মচারীদের উপর হামলার বিচার ও চার দফা দাবি পূরণের লক্ষ্যে টানা ১২ দিন থেকে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে কর্মচারীরা। গতকাল রোববার রেজিস্ট্রার দপ্তরে তালা দেওয়ার পর সেই তালা ভেঙ্গে ফেলার কারণে সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করে ৩শতাধিক কর্মচারি। এদিকে তালা ভাঙ্গা নিয়ে দিনভর উত্তেজনার পর অফিস টাইম শেষের পর ৫টায় কর্মচারীরা নিজেই তালা খুলে দেয়। এদিকে গত ১২ দিনেও দাবি পূরণের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন শক্ত আশ্বাস না পাওয়ায় কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আমরণ অনশনে যাওয়ার হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে তাই আগামীকাল মঙ্গলবার আবারও তালা লাগানোর ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন প্রশাসন ভবনে প্রতিদিন তালা দিয়ে অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দিয়ে জানানো হয়েছে।

কর্মচারীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে তালা দিয়ে প্রতিবাদ করে কর্মচারীরা। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে কর্মচারীদের উপর হামলা করে তালা ভেঙ্গে দেয় প্রশাসন। দীর্ঘ আন্দোলন করার পর ফলাফল না পেয়ে বাধ্য হয়ে গতকাল রোববার রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামালের দপ্তরে তালা দেয়। পরে কর্মচারীরা বিকাল ৫টার পর ক্যা¤পাস থেকে চলে গেলে প্রক্টরিয়াল বডির ৩জন গিয়ে তালা ভেঙ্গে দেয়। তাই সোমবার সকাল ১০টায় প্রশাসন ভবনের দুই গেটেই তালা ঝুলিয়ে বিভিন্ন ¯ে¬াগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করে কর্মচারীরা। পরে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) আতিউর রহমানের নেতৃত্বে প্রক্টরিয়াল বডির অন্যান্য সদস্যবৃন্দসহ, ৫০/৬০ জন শিক্ষক, সাজোয়া পুলিশ, আনসার বাহিনী তালা ভাঙ্গতে যায়। সেখানে রড হাতে বহিরাগত লোককেও সেখানে দেখা যায়। এ সময় আন্দোলরত কর্মচারীদের সাথে প্রশাসনের বাকবিতন্ডা শুরু হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় মুখোমুখি অবস্থান নেয় দুই পক্ষ। এ অবস্থা বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলার পর কর্মচারীরা তালা খুলে দিয়ে চলে যায়।

আরও জানা যায়, আন্দোলন চলাকালীন সময়ে দুইবার কর্মচারীদের সঙ্গে নামমাত্র বৈঠকে বসেছিলেন প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষ থেকে কিন্তু দাবি পূরণের ব্যাপারে কোন ধরণের আশ্বাস না পাওয়ায় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পরিবহণ বন্ধ করে দেয় এবং প্রশাসন ভবনে তালা দিতে বাধ্য হয় কর্মচারীরা। এদিকে কর্মচারীদের আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোতে ক্লাস-পরীক্ষা চললেও কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে বিভিন্ন বিভাগের ফলাফল আটকে আছে । এতে ভয়াবহ সেশন জটে পড়ার আবারও আশঙ্কা প্রকাশ করছে শিক্ষার্থীরা।

কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাসুম খান বলেন, গত রবিবার আমরা দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম প্রশাসনকে কিন্তু কোন সমাধান না হওয়ায় রেজিস্ট্রার দপ্তরে তালা লাগিয়েছিলাম কিন্তু পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকেল ৫ টায় তালা ভাঙ্গিয়ে ফেলা হয়। সোমবার সকাল ১০ টায় আবার প্রশাসনিক ভবনের দুইপাশে তালা লাগিয়েছি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের তিনটি দাবীর সমাধান করে না দেওয়া হবে ততদিন পর্যন্ত আমরা এই আন্দোলন সংগ্রাম থেকে পিছপা হবোনা। কর্মচারী নেতারা জানান, তালা লাগানো রেখে গেলে প্রশাসনিক ভবনের কোন ক্ষয়ক্ষতি হলে আমাদের উপর দায়ভার আসবে তাই খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তালা লাগানো থাকবে যতদিন দাবি পূরণ না হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) আতিউর রহমান বলেন, কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম যেম তাঁদের আন্দোলনের কারণে অন্যান্যদের সমস্যা না হয়। কর্মচারীদের দাবি দাওয়া নিয়ে আমাদের কাজ চলছে খুব শীঘ্রই দাবি পূরণ হবে। আন্দোলনে রড-হাতুড়ি হাতে বহিরাগতদের নিয়ে প্রশাসনের স¤পৃক্তার বিষয়ে প্রক্টর বলেন, আমি জানিনা কে এই ব্যক্তি, খোঁজ নিয়ে জানাবো। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাড়ির দায়িত্বে নিয়োজিত উপপরিদর্শক (এসআই) মহিব্বুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে, সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। রড-হাতুড়ি নিয়ে আটক হওয়া বহিরাগতের ব্যাপারে তিনি বলেন, থানায় পাঠিয়েছি তাঁর ব্যাপারে এখনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ তাঁর দপ্তরে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন রবিবার থেকে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করছে কর্মচারীরা। গত ২৫ শে জুন এবং ৩ জুলাই প্রশাসনের সাথে দুই দফায় বসার পরেও কর্মচারীরা কোন সমাধানে না পাওয়ায় ১৩ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তাদের দাবিগুলো হলো, কর্মচারী বান্ধব পদোন্নতি/আপগ্রেডশন নীতিমালা বাস্তবায়ন, ৪৪ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান, ১০ম গ্রেড প্রাপ্ত ২৫ জন কর্মকর্তার পদমর্যদা প্রদান ও মাস্টার রোল কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ।

এ জাতীয় আরও খবর

আইয়ুব বাচ্চুকে হারানোর এক বছর

তিলের খাজা তৈরির রেসিপি

বার্সেলোনা থেকে এল ক্লাসিকো সরিয়ে ফেলার প্রস্তাব

গ্রামীণফোনের সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পাওনা আদায়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

নারায়ণগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মর্টারশেল উদ্ধার, নিস্ক্রিয় করলো সেনাবাহিনী

কাভার্ডভ্যান চাপায় ট্রাফিক সার্জেন্ট নিহত

ইলিশ ধরা নিয়ে গোলাগুলি, বিএসএফ সদস্য নিহত

নানা অভিযোগ : কাউন্সিলর পদ হারালেন সাঈদ

এফডিসিতে সমর্থকদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, মৌসুমীর অভিযোগ

আবরারের ছোট ভাই ফাইয়াজ কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে ভর্তি হলেন

টি-টোয়েন্টি সিরিজ : দলে ফিরলেন আরাফাত সানি ও আল আমিন