সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গরুটি কিনলেই ‘পালসার’ ফ্রি

news-image

যশোরের মণিরামপুরের ইত্যা গ্রামের ক্ষুদ্র গরু ব্যবসায়ী ইয়াহিয়া মোল্লা। ব্যবসার পাশাপাশি শখের বসে একটি করে ষাঁড় পোষেন তিনি। গত তিন বছর ধরে তার পোষা ষাঁড়টির এখন দাম ১২ লাখ টাকা। ষাঁড়টির নাম দিয়েছেন ‘পালসার বাবু’। পালসার নামেই বাড়ির সবাই ডাকে তাকে। এবারের কোরবানিতে গরুটি বিক্রি করতে চান ইয়াহিয়া। ক্রেতাকে গরুর সঙ্গে পালসার উপহার দেয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

ইয়াহিয়া নিজে ষাঁড়টির যত্ন নিতে পারেন না। সব সময় সন্তানের মতো ষাঁড়টিকে আগলে রেখেছেন তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। এই কাজে নেননি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কোনো পরামর্শ। অভাবের সংসারে ষাঁড়টি মনোয়ারার একমাত্র সম্বল।

এদিকে গরুর দাম ১২ লাখ টাকা লোকমুখে এমন কথা শুনে ‘পালসার বাবু’কে দেখতে ইয়াহিয়ার বাড়িতে জমছে উৎসুক জনতার ভিড়। প্রতিনিয়ত খুলনা, পাইকগাছা, শার্শা, ঝিনাইদহ, যশোরসহ উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু, কিশোর-কিশোরীরা আসেন। অনেকে মোবাইলে ধারণ করছেন ষাঁড়টির ছবি। আবার বাড়িতে আসা উৎসুক জনগণকে সাধ্যমতো আপ্যায়নও করেন ইয়াহিয়া।

উপজেলার ঘুঘুরাইল গ্রামের ইনতাজ আলীর বলেন, লোকমুখে ১০ লাখ টাকার গরুর কথা শুনে আইছি। এত বড় গরু জীবনে প্রথম দেখলাম।গাবুখালী গ্রামের সুনিতা হাওলাদার বলেন, পাঁচ বছর আগে দুই লাখ টাকার একটা ষাঁড় দেখিলাম। ১০ লাখ টাকা গরুর দাম! এমন কথা শুনে দেখতি আইছি।কৃষ্ণবাড়ি গ্রামের বৃদ্ধা সুকৃতা মণ্ডল বলেন, গতকাল আমার শাশুড়ি ও জারা মিলে গরু দেখতে আইল। তাগের (তাদের) মুখে শুইনে এখন আইছি। এবার গরু জীবনে চোহি (চোখে) পড়িনি।

ঘুঘুরাইল গ্রামের ইদ্রিস আলী বলেন, ১২ লাখ কেন ১৫ লাখেও এই গরু বিক্রি হতে পারে। মানুষ দাম দেখবে না, চেহারা দেখে এই গরু কিনবে।মনোয়ারা বেগম বলেন, রোজার ঈদের পর থেকে গরু দেখতে বাড়িতে লোকজন আসা শুরু করেছে। গত দশদিন ধরে মানুষের ভিড় বেড়েছে। বিকেল হলে উঠানে লোক ভরে যায়।

ইয়াহিয়া বলেন, আমি ক্ষুদ্র গরুর ব্যবসায়ী। ১৯৯৬ সাল থেকে একটি করে বড়ান জাতের (শংকর) গরু পুষে আসছি। ৪৫ হাজার টাকায় তিন বছর আগে ‘হলেস্টিয়ান’ জাতের এই গরুটা কেনা। শখ করে ওর নাম দিয়েছি ‘পালসার বাবু’। গত বছর সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দাম হলো। বিক্রি করিনি। ঢাকার একটা পার্টি (গরু ব্যবসায়ী) সাড়ে আট লাখ দাম বলেছে। গরুর গায়ে বিশ মণ মাংশ আছে। এবার গরুর দাম চাচ্ছি ১২ লাখ টাকা। ওই দামে গরু বিক্রি করতে পারলে ক্রেতাকে খুশি হয়ে পালসার বাইক উপহার দেব।

ইয়াহিয়া বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কোনো পরামর্শ ছাড়াই গরুটা পুষছি। ছয় কাঠা জমিতে ঘাস লাগানো আছে। সেই ঘাস আর খইল ও ভুসি খাওয়াইয়ে গরু এতো বড় করেছি।ফ্যানের বাতাস ছাড়াতো বড় গরু পোষা যায় না শুনেছি। আমি কিন্তু একদিনের জন্যও গরুকে ফ্যানের বাতাস খাওয়াইনি।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুজার সিদ্দিকী বলেন, কাশিমনগর ইউপিতে একটা বড় গরু আছে শুনেছি। কিন্তু আমি সেই গরু কোনোদিন দেখিনি।