মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০১৯ ইং ১লা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১০০ বছর বাঁচতে চাইলে এই সহজ ১৩টি কাজ নিয়মিত করুন

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট।। অনেকেই স্বপ্ন দেখেন শত বছর বেঁচে থাকার। তাই হয়তো একে অপরকে শুভকামনা করতে গিয়ে প্রার্থনা করে বলে শত বছর বেঁচে থাকো। শত বছর বাঁচলে হয়তো এক শতাব্দীর সাক্ষী হিসেবে অনেক ঘটনাই চাক্ষুষ করতে পারবেন। কিন্তু বললেই তো শত বছর বেঁচে থাকা যায় না। রোগ-শোক, প্রাকৃতিক পরিবেশ কত কি মানুষের আয়ু কমিয়ে দেয়। তবে কিছু কাছ আছে যা করলে আয়ু কমে না বাড়ে। যেনে নেই সেসব কাজ, যা করলে বেঁচে থাকতে পারবেন শত বছর। লিখেছেন- তালহা বিন জসিম

ধূমপানকে না: যদি আপনি টানা চারবছর ধূমপান করেন তাহলে আপনার হার্ট অ্যাটাক ঝুকি বেড়ে যায়। আর দশ ব্ছর পর হতে পারে ক্যান্সার। পনের বছর পর শারীরবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের ক্ষমতা কমে যায়। তাই ধূমপান ছাড়ুন জীবনের আয়ূ বাড়ান। ধূমপায়ী নারীদের বন্ধ্যাত্ব এবং সন্তান প্রসবে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। দেখা গেছে, একটি সিগারেট জ্বালালে প্রায় ৭০০০ বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ বের হয়। তাই ধূমপানকে অকাল মৃত্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ধূমপানের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতি দশজনের মধ্যে একজন মারা যাচ্ছে।

প্রতিদিন শরীরচর্চা: প্রতিদিন শরীরচর্চা করুন। নিয়মিত ত্রিশ মিনিট করে হাঁটুন। শরীরচর্চা শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্ককেও ভালো থাকতে সহায়তা করে নানাভাবে। এমনকি বাড়িয়ে দেয় মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা। শরীরচর্চা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিসহ স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। ব্রিটেনের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পেটে শরীরচর্চা করার ফলে বেশি মেদ ঝরানো সম্ভব হয়। সপ্তাহে ১৫০ মিনিট শরীরচর্চা ৩১ শতাংশ মৃত্যু ঝুকি কমিয়ে দেয়। অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ৪৫০ মিনিট হাঁটা জীবনের আয়ু সাড়ে চার বছর বাড়িয়ে দেয়। প্রতি দুই বছরে ৭৫ মিনিট করে আয়ু যোগ করে।

সবজি ও ফল খান নিয়মিত: প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখুন শাখ-সবজি ও ফল। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক বিন নুয়েন জানান, দৈনিক পাঁচ থেকে সাত রকম ফল ও সবজি খাবারে যুক্ত করলে মানসিক চাপ ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে। যাঁরা দিনে তিন বা চার পদের সবজি খান তাঁদের মানসিক চাপের ঝুঁকি ১৮ শতাংশ কম থাকে। সে তুলনায় যাঁরা দিনে দুই রকম ফল খান তাঁদের মানসিক চাপের ঝুঁকি ১৬ শতাংশ কম থাকে।

পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতিদিন কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমুবেন। যদি পর্যাপ্ত ঘুম না হয় তাহলে হৃদরোগ, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুকি বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের পরামর্শপত্র অনুযায়ী ৬ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের রাতে অন্তত ৯-১১ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ৮-১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মানুষের রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন, তবে কারও কারও নিয়মিত ৬ ঘণ্টা ঘুমেও সব ঠিকঠাক থাকতে পারে। ৬৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়সীদের জন্য ঘুমানো প্রয়োজন ৭-৮ ঘণ্টা।
বিশ্বের ১৫৩টি গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কম ঘুমের কারণে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং মোটা হয়ে যাবার সম্পর্ক আছে।

রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখুন: নিয়মিত চেকআপে রাখুন আপনার রক্তচাপ। উচ্চ রক্তচাপ হলে কমানোর ব্যবস্থা, কমে গেলে পর্যাপ্ত রাখার ব্যবস্থা করা। মোট কথা রক্তচাপ ১২০/৮০ ভিতরে রাখুন। যেসব কারণে বা খাবারে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় তা নিয়ন্ত্রণ করুন।

পরিবারকে সময় দিন মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখুন। কাছের মানুষদের সাথে আড্ডা দিন। তাদের সাথে নিয়মিত সময় কাটান। বন্ধু পরিবারের সাথে ঘুরতে যান। সামাজিক হোন। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যারা শতায়ূ হয়েছেন তাদের বেশির ভাগ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যের সাথে সু-সম্পর্ক ছিলো। যাদের সামাজিক বন্ধন ভালো তাদের ৫০ শতাংশ জীবনের আয়ু বেড়ে যায়।

মেদ কমান মেদ বা চর্বি হলো রোগের প্রজননকেন্দ্র। তাই চর্বি থেকে দূরে থাকুন। চর্বিযুক্ত খাবার থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য খাদ্য অভ্যাসে পরিবর্তন নিয়ে আসুন। রক্তে অতিরিক্ত চর্বি কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোকের ঝুকি বেড়ে যায়। বয়স ৩০ বছরের বেশি হলে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর একবার রক্তের চর্বির মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত।

ডিপ্রেশন বা বিষন্নতাকে না মনের গভীরে কোনভাবেই বিষন্নতাকে জায়গা দেয়া যাবে না। বিষণ্ণতা একটি মানসিক রোগ। তাই এই রোগ হলেই মনের ডাক্তারের কাছে চলে যান। চিকিৎসা নিতে কোন কার্পন্য করবেন না। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বিশ্বে প্রায় ৬২ কোটি মানুষ বিষাদগ্রস্ততা ও দুশ্চিন্তাজনিত মানসিক রোগে ভুগছেন। বিষন্নতা ৩০ শতাংশ অকাল মৃত্যুর ঝুকি বাড়িয়ে দেয়।

চাপ ব্যবস্থপনা বিভিন্ন কারণে চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে আমাদের। তাই শারীরিক ও মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা শিখে ফেলুন। চাপ নেয়ার ক্ষমতা তৈরি করুন। যত চাপ ব্যবস্থাপনা সুন্দরভাবে করতে পারবেন। তত নিজের জীবনের আয়ু বাড়াতে পারবেন। ক্রমাগত চাপের মধ্যে জীবনযাপন করলে চার থেকে আট বছর আয়ু কমে।

জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ ঠিক করুন। তা অর্জন করার চেষ্টা করুন। এমন লক্ষ্য ঠিক করুন যা আপনার ক্ষমতার চেয়ে বড়।

নিয়মিত সহবাস করুন : গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ নিয়মিত যৌন জীবন আয়ু বৃদ্ধি করে। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী নিয়মিত সহবাস। সেক্সকালে অনেক ক্যালরি পোড়ে যাতে করে শরীরচর্চার সব উপকারিতা পাওয়া যায়। নিয়মিত সেক্স চাপ বা স্ট্রেস ও ব্যথা দূর করে থাকে। ভালো ঘুমে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সেক্স ৫০ শতাংশ মৃত্যু ঝুকি কমায়।

ইতিবাচক চিন্তা করুন : যেকোন অবস্থায় ইতিবাচক চিন্তা করুন। জীবনের চলার পথে অনেক দু:সময় আসবে কিন্তু ইতিবাচক চিন্তাই করুন। এতে করে হতাশা আসবে না। জীবনের প্রতি আস্থাও হারাবেন না। গবেষণায় দেখা যায়, যারা ইতিবাচক চিন্তা করেন গড়ে সাত বছর বেশি বাঁচেন।

প্রচুর পানি পান : প্রতিদিন ন্যূনতম ৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে। আমাদের শরীরের তিন ভাগের দুই ভাগই পানি দিয়ে তৈরি। তাই শরীরের প্রতিটি কাজের জন্য পানি জরুরি। পানি শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দিতে এবং হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই কম পানি পান জটিল ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে। উৎস: যমুনা টিভি

এ জাতীয় আরও খবর