মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০১৯ ইং ১লা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের বিখ্যাত ২০টি মজার খাবার

news-image

ভ্রমণপিপাসু মানুষদের মধ্যে ভোজনপ্রেম থাকবে না, তা কি আর মানানসই! ঘুরবো অথচ খাবো না-সেটা কি করে হয়। আবার কারো কারো মুখে তো এটাও শুনতে পাওয়া যায় “পেট ঠান্ডা তো জগৎ ঠান্ডা”। বাংলাদেশের ভেতরে ভ্রমণপিপাসুরা যে জায়গায়ই যাক না কেন ঘুরাঘুরির পাশাপাশি যদি সেখানকার বিখ্যাত কোন খাবারের স্বাদ গ্রহণ না করে তবে কি আর ভ্রমণ পূর্ণতা পায়?

আমরা বাঙালিরা জন্মলগ্ন থেকেই ভোজনরসিক। ভোজনপ্রেম আমাদের সংস্কৃতিতেই বয়ে বেড়াচ্ছে। গোটা পৃথিবীর বিখ্যাত সব খাবারের তুলনায় আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমিতে কিন্তু বিখ্যাত খাবারের পরিমাণ নেহায়েত কমও নয়। বাংলাদেশের ৬৪ জেলা তাদের নিজস্ব খাদ্যের জন্য আলাদা আলাদা জায়গা করে নিয়েছে মানুষের মনে। আবার অনেক খাবার নিজ জেলার সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে গেছে সমগ্র বাংলাদেশে। এমনকি বিশ্বের অনেক দেশেই সেই সব খাবারের চর্চা হয়। চলুন তবে আজ তেমনি কিছু বিখ্যাত খাবার নিয়ে আলোচনা করা যাক।

বিরিয়ানি : বিরিয়ানি বা পোলাও পছন্দ করে না এমন ভোজনরসিক সম্ভবত বাঙালিদের মধ্যে পাওয়া অনেক কষ্টকর হয়ে যাবে। বিরিয়ানি নামটি শুনলেই আমাদের মনে আসে পুরান ঢাকার হাজীর বিরিয়ানির কথা। পুরান ঢাকার বিখ্যাত এই বিরিয়ানি তাদের সেবা দিয়ে চলেছে প্রায় শতবর্ষ ধরে। তবে বিরিয়ানি এখন শুধু পুরান ঢাকায় নয় সারা বাংলাদেশেই জনপ্রিয় খাবার হিসেবে প্রচলিত। পুরান ঢাকার পোলাও বিরিয়ানির মধ্যে জনপ্রিয়তায় রয়েছে বুন্দিয়া পোলাও, খাসির বিরিয়ানি, সাদা পোলাও দিয়ে ঝাল গরুর মাংস ইত্যাদি। পুরান ঢাকায় এখনও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে টিকে আছে কিছু পুরনো খাবারের প্রতিষ্ঠান- যেমন কাজী আলাউদ্দিন রোডের হাজির বিরিয়ানি, বেচারাম দেউড়ির নান্না বিরিয়ানি, চকবাজারের শাহ সাহেবের পোলাও ইত্যাদি। পুরান ঢাকা গেলেই চারদিকে শুধু বিরিয়ানি আর পোলাও এর গন্ধ, যা আপনাকে চেখে দেখতে বাধ্য করবে। জীবনে অনেক বিরিয়ানি হয়তো খেয়েছেন কিন্তু হাজীর বিরিয়ানি একবার খেয়ে আসুন কথা দিলাম এর স্বাদ ভুলতে পারবেন না জীবনেও।

বাকরখানি : সারা বাংলাদেশে এমন কি বর্হিবিশ্বেও পুরান ঢাকার বাকরখানির বেশ সুনাম রয়েছে। বাকরখানির সাথে পুরান ঢাকার নাম গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। লোকমুখে শোনা যায়, জমিদার আগা বাকির খাঁর নাম থেকে এ রুটির নাম দেয়া হয়েছে বাকরখানি। মিষ্টি এবং নোনতা দুই ধরনের বাকরখানি পাওয়া যায়। বাকরখানি তৈরির মূল উপকরণ হচ্ছে ময়দা/আটা, তেল ও লবণ।

 পুরান ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও তাদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় বাকরখানি রাখেন। আর এ বাকরখানি তারা খান বিভিন্ন পদের সঙ্গে। তবে সবচেয়ে বেশি বাকরখানি দুধ চায়ের সঙ্গে খাওয়া হয়। আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, অথবা ঢাকায় বেড়াতে যান তবে অবশ্যই পুরান ঢাকার বাকরখানির স্বাদ নিতে ভুলবেন না।

ইলিশ মাছ

মাছের রাজা ইলিশ স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় । সর্ষে ইলিশ, ইলিশ ভাপা, ইলিশের পোলাও যাই রান্না হোকনা কেন তার গন্ধেই জানান দেয় আশেপাশে কোথাও ইলিশ রান্না হচ্ছে। আর পদ্মা নদীর ইলিশ তো জগৎবিখ্যাত । প্রতিবছর বিপুল পরিমান ইলিশ বিদেশে রপ্তানি করা হয়। তবে মাওয়া ফেরিঘাটের ইলিশ ভাজা যে জীবনে একবার না খেয়েছে তার খাদ্যজীবন পুরোই বৃথা।

কাবাব

ভোজনরসিকদের অন্যতম প্রিয় খাবারের তালিকায় কাবাব থাকবেই। মোগলদের হাত ধরে ঢাকায় প্রচলন শুরু হয় সুস্বাদু এই সব কাবাবের। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা পুরান ঢাকার মানুষের কাছে আজও কাবাব সন্ধ্যাকালীন এবং রাতের খাবার হিসেবে পছন্দের শীর্ষে। পুরান ঢাকায় জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে শিক কাবাব। জনপ্রিয় কাবাবের মধ্যে আরো রয়েছে শিক কাবাব, বটি কাবাব, রেশমি কাবাব, টুন্ডা কাবাব, টিক্কা কাবাব, টেংরি কাবাব, গরুর ছেঁচা মাংসের কাবাবসহ নানা ধরনের মাছের কাবাব। পুরান ঢাকা থেকে কাবাবের এই স্বাদ ছড়িয়ে গেছে দেশ জুড়েই। তবে সারাদেশে তৈরি হওয়া কাবাবের তুলনায় পুরান ঢাকার কাবাবের স্বাদ অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

মেজবানি গরুর মাংস

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান মেজবান। গরুর মাংসের মজাদার নান পদ দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। এই বিখ্যাত মেজবাহি গরুর মাংস সত্যিকার অর্থেই স্বাদে অনন্য। বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিশেষ মশালায় রান্না করা এই মাংসের পদ একবার যে খেয়েছে আজীবন তার মুখে লেগে থাকবেই। তাই এর স্বাদ নিতে চাইলে আপনি যেতে হবে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। তবে ইদানিং ঢাকাতেও বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে আসল মেজবানি গরুর মাংসো পাওয়া যায়।

ভুনা খিচুড়ি

এই খাবারটির দাবিদার কিন্তু গোটা বাংলাদেশের সবাই। মানে হলো ভুনা খিচুড়ি খেতে কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠান লাগে না। হয়তো একটু বৃষ্টি অথবা আকাশ মেঘলা, ব্যাস! ভুনা খিচুড়ি বাদে আর কথাই হবে না। ভুনা খিচুড়ি সাথে মাংস, বেগুনভাজা অথবা ডিম ভুনা একেবারে আসর জমিয়ে দেয়।

মাংসের কালাভুনা

কালাভুনা নামক খাবারের উৎপত্তি এবং প্রচলনের পূর্ণ দাবিদার কিন্তু চাটগাঁইয়ারাই। তাই চট্টগ্রাম মানেই মাংসের কালাভূনার মনোহারি স্বাদ। নামের মতোই খাবারটি দেখতে কালো হলেও এর স্বাদ অনন্য । গরু অথবা খাসির মাংস বিশেষ মসলা দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে রান্না করা হয় এই মাংস। কালাভুনার আসল স্বাদ কিন্তু আপনি চট্টগ্রাম গেলেই পাবেন ।

চিংড়ি মাছের মালাইকারি

বড় বড় রান্না করা চিংড়ি যখন পাতে তুলে দেয়া হয় তখন খুশিতে চোখ দুটো আপনা-আপনি বড় হয়ে যায়। আবার তা যদি হয় চিংড়ি মাছের মালাইকারি তাহলে তো কথাই নেই! নারিকেলের সাথে চিংড়ির এমন ভালোবাসা মালাইকারি না খেলে বোঝাই যাবেনা। চিংড়ি এবং নারিকেলের তৈরী মালাইকারির স্বাদ আপনি হয়তো ঘরে বসেই নিতে পারবেন কিন্তু যদি মালাইকারির সত্যিকারের সুস্বাদ পেতে আপনাকে যেতে হবে সাতক্ষীরা, বরিশাল বা উপকূলীয় জেলায়।

নারিকেলের পেটে চিংড়ি

বরিশালের বিখ্যাত একটি খাবার নারিকেলের পেটে চিংড়ি। চিংড়ি মসলা সহ মাখিয়ে নারিকেলের ভিতর ঢুকিয়ে তা জ্বলন্ত চুলায় দিয়ে রান্না করা হয় এই খাবার। বরিশাল ছাড়া এই খাবারটি অন্য কোথাও পাবেন না। মজার এই খাবারটির আসল স্বাদ পেতে চাইলে তাই আপনাকে বরিশালেই যেতে হবে।

শুঁটকি

শুঁটকি মাছের কদর দেশজুড়ে সবার কাছেই রয়েছে। শুঁটকি মাছ বা শুকনো মাছ পছন্দ করে না এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। মিঠাপানির মাছের শুঁটকি যেমন জনপ্রিয় তেমনি বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের শুঁটকিও সমান জনপ্রিয়। কম দাম আর তুলনাহীন স্বাদের কারণে সকল শ্রেণীর মানুষ শুটকির প্রতি আকৃষ্ট থাকে।

বগুরার দই

বগুড়ার কথা উঠলে প্রথমেই দইয়ের কথা মনে আসে। বগুড়া শহর মূলত মানসম্মত এবং স্বাদে অনন্য দইয়ের জন্য বিখ্যাত। নিজেদের পদ্ধতিতে তৈরি করা এই দই স্বাদে অতুলনীয়। দেশ ভাগের আগে থেকে এই দই সারা বাংলাদেশের মানুষের ভোজনের তালিকায় স্থান দখল করে। প্রিয়জন বা অতিথি আপ্যায়নে বগুড়ার দইয়ের বিকল্প নেই। বগুড়ার কোনো উৎসবে ভোজের তালিকায় দই নেই এমনটা কখনও হয় নি। তাই বগুড়ায় গেলে একবার হলেও এই অনন্য স্বাদের দই খেয়ে আসার অনুরোধ রইল।

পোড়াবাড়ির চমচম

বাংলাদেশের বিখ্যাত সব মিষ্টান্নের মধ্যে টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ীর চমচম স্বাদে, গন্ধে অতুলনীয়। চমচমের অতুলনীয় স্বাদের দরুন দেশ বিদেশে এই মিষ্টির আলাদা সুনাম ছড়িয়ে আছে। লালচে রঙের এই মিষ্টির উপরিভাগে চিনির গুঁড়া দেওয়া থাকে আর ভেতরটা থাকে রসালো নরম। টাঙ্গাইল জেলার জন্মের আগে থেকে এই মিষ্টি বিশ্বে প্রসিদ্ধি লাভ করে। তাই টাঙ্গাইলে যাবেন আর চমচমের স্বাদ না নিয়ে ফিরে এসে আফসোসের পরিমাণ কেন বাড়াবেন?

কুমিল্লার রসমালাই

রসমালাই শুধু এই বাংলায় নয় দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় মিষ্টান্ন। তবে রসমালাই এর কথা মনে আসলেই নিশ্চয়ই কুমিল্লার কথা মাথায় আসে। এত মজা যে কুমিল্লার মাতৃভান্ডারের রসমালাই সারাদেশে এক নামেই চিনে। শুধু দেশে নয় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক ভাবেও মিলেছে এর স্বীকৃতি। তবে খ্যাতির বিড়ম্বনাও আছে। এই রসমালাইয়ের চাহিদা ও খ্যাতি দেশ-বিদেশে এত ছড়িয়েছে যে এখন ভেজালের ভিড়ে সেই আসল রসমালাই খুঁজে পাওয়া কষ্টের। তবে আশাহত হবেন না, আমরা দিচ্ছি আপনাকে আসল এবং আদী রসমালাই এর দোকানের ঠিকানা। আর এই জন্যে সরাসরি আপনাকে যেতে হবে কুমিল্লা শহরের মনোহরপুরে অবস্থিত কুমিল্লা মাতৃভান্ডাার নামের দোকানে। সেখানে সিরিয়াল দিয়ে তবেই আনতে পারবেন সেই আসল রসের রসমালাই।

মুক্তাগাছার মন্ডা

মন্ডা আর মুক্তাগাছা এরা যেন একে অপরের পরিপূরক। এখানকার মণ্ডার সুখ্যাতি শোনেননি এমন মানুষ বোধ হয় পাওয়া যাবে না। ছানা দিয়ে তৈরী বিশেষ এই মিষ্টিটি কেবলমাত্র ময়মনসিংহের মুক্তাগাছাতেই পাওয়া যায়। ময়মনসিংহ সদর থেকে ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমে মুক্তাগাছার অবস্থান। মুক্তাগাছা গেলে এক সাথে জমিদারবাড়ি দর্শন করাও হয়ে যাবে সেই সাথে বোনাস হিসেবে মণ্ডার স্বাদ নেওয়া হয়ে যাবে। ‘গোপাল পালের প্রসিদ্ধ মণ্ডার দোকান’ এইখানেই পাওয়া যাবে আসল এই মন্ডার স্বাদ।

বালিশ মিষ্টি

বালিশ মিষ্টি নাম শুনলে অজান্তেই মনে আসে নেত্রকোণার কথা। গয়ানাথ ঘোষ প্রায় শত বছরেরও বেশি সময় আগে এই বিখ্যাত বালিশ মিষ্টি তৈরীর প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেন। গোয়ানাথের স্বপ্ন ছিল নতুন কোন ধরনের মিষ্টি তৈরি করে অমর হয়ে থাকবেন এবং হলোও তাই। একদিন তিনি বিশাল সাইজের একটি মিষ্টি তৈরি করলেন। যার আকার অনেকটা কোল বালিশের মতো। তাই ক্রেতাদের পরামর্শে নাম রাখেন বালিশ মিষ্টি। নেত্রকোনা শহরে গয়ানাথের দোকান ছাড়াও প্রায় সব দোকানেই এই মিষ্টি পাওয়া যায় কিন্তু গয়ানাথের মিষ্টির স্বাদ একেবারেই অন্যরকম। তাই নেত্রকোনা ভ্রমণে গেলে বালিশ মিষ্টির স্বাদ না নিয়ে ফিরে আসাটা বোকামো হবে।

নানান পিঠা

বাঙালি ঐতিহ্যের বিশাল একটা অংশ জুড়ে রয়েছে পিঠা-পুলি। গ্রামে গ্রামে এ ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে। শীতকালে শহরে-গ্রামে পিঠা-পুলি খাওয়ার ধুম পড়ে যায়, দেশব্যাপী পিঠা উৎসব শুরু হয়। ছোট-বড় সবার খাবারের পছন্দের তালিকাতে পিঠা থাকেই। বিভিন্ন রকমের পিঠা আবার আকৃতিতে, স্বাদ বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। কোনো কোনো পিঠা মিষ্টি, কোনটি বা ঝাল আবার কোনো কোনো পিঠা তো টকও হয়ে থাকে। অসাধারণ স্বাদের কিছু পিঠার মধ্যে জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত কিছু পিঠা হচ্ছেঃ

ভাপা পিঠাঃ ভোজনরসিকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ভাপা পিঠা। শীতের সময় গ্রামের ঘরে ঘরে এই পিঠা তৈরির ধুম লেগে যায়, আর শহরের রাস্তার মোড়ে-অলি-গলিতেও চলে ভাপা পিঠা বিক্রি।

চিতই পিঠাঃ চিতল পিঠা প্রথম কোথায় প্রচলন শুরু হয় বা এর উৎপত্তিস্থলের কথা বলতে গেলে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ উভয় স্থানেরই নাম শুনা যায়। গোলাকার ও চ্যাপ্টা এই পিঠা স্বাদে অসাধারণ। চিতই পিঠা গুড় বা খেজুরের রস দিয়ে খেতে বেশি মজা।

নকশী পিঠাঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাতে বিভিন্ন রকম নকশী পিঠা পাওয়া গেলেও জানা যায়, ভৈরবের নকশী পিঠা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। তেলে ভাঁজার আগে টুথ পিক, সূচ বা ছুরি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের নকশা করা হয় এ পিঠাতে। আবার কখনও বা বাজার থেকে নকশা কিনে এনে ছাঁচে ফেলেও পিঠার নকশা করা হয়।

অন্যান্য আরও পিঠার মধ্যে রয়েছে পুলি পিঠা, পাটিসাপটা, পানতোয়া, কুলশি, খেজুরের পিঠা, ক্ষীর কুলি, গোলাপ ফুল পিঠা, তেলের পিঠা, সেমাই পিঠা ইত্যাদি। এছাড়াও বরগুনার চুইয়া পিঠা, চ্যাবা পিঠা, মুইট্টা পিঠা, আল্লান, বিসকি ইত্যাদিও ভেজনরিকদের খাবারের তালিকার জায়গা দখল করে আছে।

দেশ জুড়ে বিভিন্ন ফল

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম, লিচু যেমন বিখ্যাত তেমনি গাজীপুরের কাঁঠালের কোনো তুলনাই হয় না। আর বরিশালের পেয়ারা কিন্তু কম যায়না, তেমনি মধুপুরের আনারস যেন মধুর সম্ভার। এছাড়াও জাম, জামরুল, জাম্বুরা, আতা, সফেদা, কমলা, কলা, পেঁপে, নারিকেল, তরমুজ ইত্যাদি বিপুল পরিমান ফলের সম্ভার রয়েছে গোটা বাংলাদেশ জুড়েই।

ছানা-মাঠা

সকালের নাস্তা হিসেবে প্রায় অনেকেরই ছানা-মাঠা খাওয়ার অভ্যাস আছে। মাঠা বিক্রির সঙ্গে পুরান ঢাকার অতীত ইতিহাস আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে। মাঠা ও ছানার মূল উপাদান দুধ আর এই দুধের উৎস হচ্ছে পুরান ঢাকার বিভিন্ন দুধের আড়ৎ। পুরান ঢাকাতে খুব ভোরে নাজিরাবাজার চৌরাস্তায় শ্যামলের মাঠা, নারিন্দা পুলিশ ফাঁড়ির বিপরীতে সৌরভের মাঠা, লালবাগের চৌরাস্তা, শাঁখারী বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রেতাদের মাঠার দোকান নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। আপনার যদি খুব ভোরে বের হওয়ার অভ্যেস থাকে এবং মাঠা খেতে পছন্দ করেন তবে অবশ্যই ঢু মেরে আসতে ভুলবেন না।

শ্রীমঙ্গলের সাত রং এর চা

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী শীতলতম উপজেলা হচ্ছে শ্রীমঙ্গল। পাহাড় আর চা বাগান উপজেলাটিকে সাজিয়ে তুলেছে আপনরূপে। এই উপজেলার একটি বিখ্যাত পানীয় হচ্ছে সাত রং এর চা। অর্থাৎ আপনি যে চা পান করবেন তাতে সাতটি রঙের লেয়ার থাকবে। স্বাদেও এই চা দশে দশ । প্রকৃতির টানে এবং চায়ের মায়ায় অসংখ্য পর্যটক আসেন শ্রীমঙ্গলে ।

বাংলাদেশের প্রতিটি আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এরকম আরও নানা খাবারের সম্ভার। কোনটা শত বছরের পুরোনো আবার কোনটির তারচেয়েও বেশী। আরও অনেক খাবার নিয়ে আবার কোনদিন আলোচনা করবো। তার আগে কমেন্টে আমাদের জানিয়ে দিন কোন কোন খাবার আপনার এখনো খাওয়া বাকি এবং আপনার এলাকায় বিখ্যাত আর কি খাবার আছে।

এ জাতীয় আরও খবর