বৃহস্পতিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৯ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাজাপুর থানার সাবেক ওসি মুনিরের দূর্নীতি ও তথ্য গোপনের তদন্ত করছে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি

news-image

কামরুল হাসান মুরাদ : ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানা থেকে ষ্টান্ডরিলিজ হওয়া সাবেক (ওসি) মুনির উল গিয়াসের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার তথ্য গোপন ও ভূয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে বিল-ভাউচার করে অর্থ আত্মসাতের লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুরে খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজির বরাবরে অভিযোগকারী ও ‘২০১৩ সালের পুলিশ হেফাযতে নির্যাতন প্রতিরোধ’ আইনের ১৫/১ ধারায় বিচারাধীন (নং-৪৮৪১৪/১৮) মামলার বাদী রাজাপুরের কলেজ ছাত্র ইমরান হোসেন আদনানের স্বাক্ষ্য প্রদান করেছে।

জানা গেছে, কয়েকমাস পূর্বে বিএনপিপন্থী পুলিশ কর্মকর্তা উক্ত মুনির উল গিয়াস ওরফে দিপু ( বিপি নং-৭১৯৫৩৬১৬৪২) কলারোয়া থানার ওসি পদে যোগদান করলে নির্যাতিত কলেজ ছাত্র আদনান খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি ও সাতক্ষিরা জেলার পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে গত ২ জুলাই সকাল ১০টায় খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষী প্রদানের জন্য কলেজ ছাত্র আদনানকে রাজাপুর থানায় বেতার বার্তার (সূত্র নং-৭৩০৪,তাং- ২৯/০৬/২০১৯ইং) প্রদান করে।

সে অনুযায়ী আদনান স্বাক্ষ প্রদানের প্রস্তুতী নিলে রাজাপুরে সাবেক ওসি মুনিরের ঘনিষ্ট সহচর অলিউর রহমান ওলির মাধ্যমে ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকলে ২ জুলাই স্বাক্ষ্য দিতে খুলনা যেতে ব্যর্থ হলেও বিষয়টি রাজাপুর থানা পুলিশকে অবহিত করে মুনির উল গিয়াস ও তার সহযোগী ওলিসহ কয়েকজনের নামে একটি জিডি দায়ের করেন। এ অবস্থায় উর্ধতন মহলের পরামর্শে বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুরে সে খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের স্বপক্ষে তথ্যপ্রমান গ্রহন করেন। ডিআইজি কার্যালয়ে তদন্তের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর মো: রবিউল প্রায় ৩ঘন্টা তাদের স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন।

এ বিষয় কলেজ ছাত্র ইমরান হোসেন আদনান জানান, রাজাপুর থানায় কর্মরত অবস্থায় শেখ মুনীর উল গিয়াস একটি চুরি মামলায় স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য থানায় নিয়ে মধ্যযুগীয় নির্যাতন করে এবং তাকেসহ তার ছোট ভাই সাংবাদিক কামরুল হাসান মুরাদকেও একটি মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলার আসামী করে চরম হয়রানি করে। পরবর্তীতে ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে দুটি মামলা থেকেই নির্দোশ প্রমানিত হয়ে সে ‘২০১৩ সালের পুলিশ হেফাযতে নির্যাতন প্রতিরোধ’ আইনের ১৫/১ ধারায় ওসি মুনীর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট আসামীদের বিরুদ্ধে রুল জারী করলে এখোন পর্যন্ত সেই মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এছাড়া আদনাননের দায়েরকৃত মামলায় ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে উক্ত (ফৌঃ রিভিশন নং-১৭২/১৭) তার বিরুদ্ধে সোমনাদেশে দিলে খুলনা পিটিসিতে কর্মরত মুনির উল গিয়াস একাধিক বার আদালতে হাজির হয়। অথচ সে ঝালকাঠি পুলিশ অফিসের ক্লার্ককে ম্যানেজ করে বেতার বার্তায় আসামী হাজিরার বদলে নিজেকে সাক্ষী হিসাবে উল্লেখ করিয়ে ভূয়া বেতার বার্তা প্রদানসহ মিথ্যা বিল-ভাউচার করে সরকারী তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করলে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।