বৃহস্পতিবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সারাদেশে বজ্রপাতে গতকাল পর্যন্ত ২ মাসে নিহত ১২৯, কাজে আসছে না ৬৮ কোটি টাকার রাডার

news-image

নিউজ ডেস্ক।। বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত দুই মাসে গতকাল পর্যন্ত ১২৯জন বজ্রপাতে মারা গেছেন।সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম জানায়, গত দুইমাসে মারা গেছে ১২৬জন। এরসাথে যুক্ত হয়েছে গত দুই দিনের মৃতের সংখ্যা। বর্ষা মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই বজ্রপাতে প্রাণহানি ঘটছে। গত রোববার বরিশালের হিজলায় দুইজন ও গতকাল সোমবার নেক্রকোনার দুর্গাপুরে ১জন মারা গেছেন। এছাড়া গত শনিবার বজ্রপাতে ১৫ জনের মৃত্যু হয়।

পাবনার বেড়ায় বজ্রপাতে দুই ছেলে, বাবাসহ চারজন নিহত হন। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের করুণ মৃত্যু হয়। ময়মনসিংহে বজ্রপাতে তিনজন নিহত হন। নেত্রকোনার কলমাকান্দায় একজন নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার বজ্রপাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুসহ দুইজন এবং শেরপুরে এক কৃষক নিহত হন। ২৮ জুন সাতক্ষীরায় বজ্রপাতে একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন নিহত হন।বজ্রপাতের আগাম সতর্কবার্তা দিতে ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালে দেশের আটটি স্থানে লাইটনিং ডিটেকটিভ সেন্সর স্থাপন করা হয়। বজ্রপাত চিহ্নিতকরণ এসব রাডার ঢাকা, চট্টগ্রাম, পঞ্চগড়, নওগাঁ, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা এবং পটুয়াখালীতে স্থাপন করা হয়।

কিন্তু কারিগরি দক্ষতার অভাবে রাডারগুলো কোনো কাজে আসছে না। বজ্রপাতের পূর্বাভাস দেওয়া এবং রাডার পরিচালনা বা তথ্য সংগ্রহের দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল আবহাওয়া অধিদপ্তরে নেই। এ বিষয়ে রাডার বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন,‘ বজ্রপাতের পূর্বাভাস দেওয়া এবং রাডার পরিচালনা বা তথ্য সংগ্রহের দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল আবহাওয়া অধিদপ্তরে নেই। ফলে রাডারগুলো কোনো কাজে আসছে না। যুক্তরাষ্ট্রের রাডার কোম্পানি প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তাদের এজেন্টদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অযত্নে অবহেলায় রাডারগুলো নষ্ট হচ্ছে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, রাডারগুলো চালু ও বন্ধ করার দায়িত্ব আমাদের। অনেক সময় নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে চালু হয় না। আর তথ্য পর্যালোচনার বিষয়টি প্রশাসন বিভাগ বলতে পারবে। উৎস : আমাদের সময়.কম।

এ জাতীয় আরও খবর