বৃহস্পতিবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

একটি মোবাইল ফোনকে ঘিরেই রিফাত হ’ত্যার গল্প শুরু

news-image

জেলা প্রতিনিধিঃ ‘একটি মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ড সংঘটিত হয়েছে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে  এ তথ্য জানিয়েছেন বরগুনা জেলা পুলিশের এক সদস্য। ওই পুলিশ সদস্য জানান, গত ২৬ জুন বুধবার রিফাত শরীফ হ’ত্যাকা’ণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার দুদিন আগে সোমবার হেলাল নামে একজনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় রিফাত শরীফ। হেলাল রিফাত শরীফের বন্ধু হলেও নয়ন ব’ন্ডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। সেই মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য নয়ন ব’ন্ড মিন্নির দারস্থ হয়।

পরে রিফাত শরীফের কাছ থেকে ফোন উদ্ধার করে মিন্নি। কিন্তু ওই ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে রিফাত শরীফের মা’রধরের শিকার হন মিন্নি। পরে হ’ত্যাকা’ণ্ডের আগের দিন মঙ্গলবার নয়নের সঙ্গে দেখা করে মিন্নি সেই মোবাইল নয়নের হাতে তুলে দেন।

এ সময় মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফের হাতে যে মা’রধরের শিকার হয়েছেন তার প্র’তিশোধ নিতে নয়নকে মা’রধর করতে বলেন। তবে মা’রধরের সময় নয়ন যাতে উপস্থিত না থাকেন, সেটাও মিন্নি নয়নকে বলেন। এরপর ওইদিন সন্ধ্যায় বরগুনা কলেজ মাঠে মিটিং করে রিফাত শরীফকে মা’রধরের প্রস্তুতি গ্রহণ নেয় ব’ন্ড বাহিনী।

তিনি আরও জানান, রিফাত শরীফের ওপর হা’মলার আগ মুহূর্তে রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নি কলেজ থেকে বের হলেও কলেজের সামনে রিফাতকে মা’রধরের পরিকল্পনা অনুযায়ী কোনো প্রস্তুতি দেখতে না পেয়ে সময়ক্ষেপণের জন্য রিফাত শরীফকে নিয়ে আবার কলেজে প্রবেশ করেন।

এর কিছুক্ষণ পরই ব’ন্ড বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য একত্রিত হয়ে রিফাত শরীফকে আ’টক করে মা’রধর করতে করতে কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে পূর্ব দিকে নিয়ে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী রিফাতকে মা’রধর করা হচ্ছে দেখেই মিন্নি তখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন।

পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে নয়ন বন্ড’ রিফাত শরীফকে মা’রধর শুরু করলে মিন্নি তখনই এগিয়ে আসে। মূলত মিন্নি রিফাত শরীফকে বাঁচাতে নয়, রিফাত শরীফকে মা’রধরের অভিযোগ থেকে নয়ন ব’ন্ডকে বাঁচাতেই বারবার নয়ন ব’ন্ডকে প্রতিহত করেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হন মিন্নি।

এদিকে আলোচিত রিফাত হ’ত্যা মা’মলার প্রধান সাক্ষী ও নি’হত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ ও বুধবার মিন্নির রি’মান্ড মঞ্জুরের পরও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছে মিন্নি। ইতোমধ্যে মিন্নি রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং এ হ’ত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে মিন্নি যুক্ত ছিলেন।’

প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এ মা’মলার ১২ নম্বর আ’সামি টিকটক হৃদয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুধু টিকটক হৃদয় একাই নন, এ মা’মলার একাধিক অভিযুক্ত রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডে মিন্নির জড়িত থাকার কথা জানিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।’

অন্যদিকে বুধবার আদালতে মিন্নির রি’মান্ড শুনানির সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির আদালতকে বলেন, ‘হ’ত্যাকা’ণ্ডের আগে ও পরে এ মা’মলার একাধিক অভিযুক্তের সঙ্গে মিন্নির কথোপকথনের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এ সময় প্রযুক্তির সহায়তায় সংগৃহীত সেই সব তথ্য-প্রমাণ আদালতে তুলে ধরেন তিনি।

মিন্নির রি’মান্ড শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত থাকা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সঞ্জীব দাস বলেন, মিন্নির শুনানির সময় আদালতে রিফাত হ’ত্যা মা’মলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য শেষে আদালত মিন্নির সঙ্গে কথা বলেন। ‘আপনার পক্ষে কোনো আইনজীবী আছে কি না? এবং আপনার কোনো কিছু বলার আছে কিনা?’ আদালতের এমন প্রশ্নের জবাবে মিন্নি বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমি রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমি আমার স্বামী রিফাত শরীফ হ’ত্যাকা’ণ্ডের বিচার চাই।’

সঞ্জীব দাস আরও বলেন, ‘আদালত রিফাত হ’ত্যায় অভিযুক্তদের সঙ্গে হ’ত্যাকা’ণ্ডের আগে ও পরে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে মিন্নি চুপ হয়ে যান এবং আদালতের এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। পরে আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী তার পাঁচদিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন।’

এ জাতীয় আরও খবর