বৃহস্পতিবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ধ’র্ষণের পর নার্স হ’ত্যা: বাস মালিক গ্রে’প্তার

news-image

ঢাকা ইবনেসিনার সিনিয়র নার্স শাহিনূর আক্তার তানিয়াকে চলন্ত বাসে ধ’র্ষণের পর হ’ত্যার ঘটনায় স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসটির (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৪২৭৪) এর মালিক হ’ত্যার মা’মলার আ’সামি আল মামুনকে (৩৬) গ্রে’প্তার করেছে পুলিশ।বুধবার দুপুরে পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রে’প্তার করা হয়।

গ্রে’প্তার হওয়া স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসটির মালিক আল মামুন গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার ঘোড়াদিয়া গ্রামের আসাদুজ্জামান মনিরের ছেলে।বৃহস্পতিবার সকালে বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সারোয়ার জাহান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মা’মলার তদন্ত কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সারোয়ার জাহান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু, বাসের হেলপার লালন মিয়া ও কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার রফিকুল ইসলাম রফিক আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়ে ছিল, বাসমালিক আল মামুন তাদের ‘ধর্ষণ ও হ’ত্যাকা’ণ্ডে ব্যবহৃত বাসটির ব্যাপারে ভুল তথ্য দিতে প্ররোচিত করেছিল।

আ’সামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়টি ওঠে আসায় তাকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে।মা’মলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জাহান আরও জানান, গ্রে’প্তারের পর বিকেলে আল মামুনকে আদালতে হাজির করার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরবর্তীতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও তিনি জানান।

নিহত নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়া কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। তিনি ঢাকার ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কল্যাণপুর শাখায় সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

কর্মস্থল ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার জন্য গত ৬ মে বিকেলে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৪২৭৪) উঠেছিলেন শাহিনুর আক্তার তানিয়া। বাড়ির নিকটতম এলাকা বাজিতপুর উপজেলার বিলপাড় জামতলীতে চলন্ত বাসে দলবদ্ধ ধ’র্ষণের শিকার হন। ধ’র্ষণ শেষে তাকে বাস থেকে ফেলে হ’ত্যা করা হয়। পরে স্বর্ণলতা পরিবহনের কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম রফিক ও সুপারভাইজার আল আমিন নার্স তানিয়ার নিথর দেহ কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে।

তানিয়া হ’ত্যাকা’ণ্ডের পরদিন ৭ মে রাতে নিহত শাহিনুর আক্তার তানিয়ার বাবা মো. গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে বাসের চালক নূরুজ্জামান নূরু, হেলপার লালন মিয়া, হাসপাতালে তানিয়ার ম’রদেহ আনয়নকারী আল আমিন এবং পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন এই চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আ’সামি করে বাজিতপুর থানায় ধ’র্ষণ ও হ’ত্যা মা’মলা দায়ের করেছিলেন।

মা’মলার এজাহারভুক্ত চার আ’সামির মধ্যে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু ও হেলপার মো. লালন মিয়া এই দু’জন ছাড়াও সন্দিগ্ধ আ’সামি কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, লাইনম্যান মো. খোকন মিয়া ও পিরিজপুর কাউন্টার মাস্টার মো. বকুল মিয়া ওরফে ল্যাংড়া বকুলকে ঘটনার রাতেই গ্রে’প্তার করে পুলিশ।

পরে গত ৮ মে আদালত গ্রে’প্তার হওয়া পাঁচ আসামির প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮দিন করে রি’মান্ড মঞ্জুরের পর ওইদিন তাদের রি’মান্ডে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু, বাসের হেলপার লালন মিয়া ও কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার রফিকুল ইসলাম রফিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের জবানবন্দিতে বাসমালিক আল মামুনের নাম ওঠে আসে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু ও হেলপার লালন মিয়া জানায়, বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু, বাসের হেলপার লালন মিয়া এবং নূরুর খালাতো ভাই ও বাসটির অপর হেলপার বোরহান এই তিনজনে মিলে তানিয়াকে ধ’র্ষণ করে।কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালিদ বলেন, বাসমালিক আল মামুনকে গ্রে’প্তার করায় অন্যান্য আসামিদরে ধরতে অনেকটা সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, বোরহান ও আল আমিনকে গ্রে’প্তারেও অভিযান চলছে। কিন্তু তারা পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে অজ্ঞাতস্থানে আত্মগোপনে রয়েছে। তবে বোরহান ও আল আমিন পুলিশের জালে ধরা পড়বেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ জাতীয় আরও খবর