রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এরশাদের শূন্য আসন ধরে রাখা অস্তিত্বের লড়াই : যোগ্য প্রার্থীর সন্ধানে জাতীয় পার্টি

news-image

সোহেল রশীদ,রংপুর : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এখানে নির্বাচন করতে আগ্রহী আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ একাধিক দলের প্রার্থীরা সরব হয়ে ওঠেছে। তারা এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে নারাজ। এদিকে জাতীয় পার্টির তাদের এই আসনটি ধরে রাখতে সকল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি জাতীয় পার্টির অস্তিত্বের লড়াই বলে নেতাকর্মীরা মনে করেন। তাই যোগ্য প্রার্থীর সন্ধানে মরিয়া হয়ে ওঠেছে জাতীয় পার্টি।
এদিকে গত জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের আশানুরূপ ফলাফল করতে না পারায় এবং এরশাদের অবর্তমানে রংপুর সদর আসনটি ধরে রাখতে পারবে কিনা জাতীয় পার্টি এনিয়ে অনেকের মাঝে প্রশ্ন ওঠেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির দূর্গখ্যাত রংপুরের ৬টি আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে জিতেছে মাত্র দু’টি আসন। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনেও জাতীয়পার্টি ৮টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পেয়েছেন একজন। সব মিলে এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। আর এরশাদ ক্রেজ কাজে লাগিয়ে অতীতে নির্বাচনী বৈতরী যেভাবে পারি দিত জাতীয় পার্টি এবারে তাদের নির্বাচনী পালে তেমন হাওয়া লাগবে না বলে নির্বাচনী পূর্বাভাস তাই বলছে। সব মিলে এই আসন ধরে রাখতে যোগ্য প্রার্থীর সন্ধানে মরিয়া হয়ে ওঠেছে জাতীয় পার্টি।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদ্য প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ ১৯৯১ সালে রংপুর সদর-৩ আসন থেকে প্রথম বারের মত এমপি নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি জেলে ছিলেন। তখন থেকে সদর আসনটি এরশাদের দখলে। ১৯৯৬ সালে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ২১টিতেই জয় পায় জাতীয় পার্টি। এরপর থেকে দলটির আসন সংখ্যা শুধু কমেছে। শুধু সংসদ এবং উপজেলা নির্বাচনই নয়। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। রংপুরের ৭৮টি ইউনিয়নের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিতেছে। তাই এরশাদের মৃত্যুর পর রংপুরে জাতীয় পার্টি আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সংশয় দেখা দিয়েছে। এরশাদের ব্যক্তি ইমেজ তার প্রতি মানুষের ভালোবাসার মাপকাঠিতে জাতীয় পার্টির বর্তমান নেতৃত্বের কেউ ‘এরশাদের’ সমতুল্য নয় বলে সাধারণ মানুষ এমনকি দলের নেতাকর্মীরাও মনে করেন। তার ব্যক্তি উপস্থিতি যেমন দলের নেতৃত্বকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে সক্ষম ছিলো তেমনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রভাব ছিলো। প্রশাসনের ছিলো তার প্রচ্ছন্ন প্রভাব। যা চোখে দেখা যেত না । বোঝা যেত নানা ভাবে।

বিগত উপজেলা নির্বাচনে রংপুরের গঙ্গাচড়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, মিঠাপকুর ও কাউনিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নিজেদের কোনো প্রার্থীই দিতে পারেনি জাতীয় পার্টি। গুরুত্বপূর্ণ সদর আসনে প্রার্থী দিলেও সরকার দলীয় প্রার্থীর সাথে সুবিধা করতে পারেনি। এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিকট আনেক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয় জাতীয় পার্টির প্রার্থী। শুধু পীরগাছা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে এরশাদের অবর্তমানে দলটি কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। জাতীয় সংসদ নির্বচনকে সামনে রেখে দলের মধ্যে অন্তত হাফ ডজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে এরশাদ পরিবার থেকে ৩জনের নাম এখন আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে। তবে তাদের সাথে সাধারণ মানুষের জনসমপৃক্ততা শুণ্যের কোঠায়। এরশাদের ভাতিজা হুসাইন মকবুল আসিফ শাহরিয়ার, আমেরিকা প্রবাসী এরশাদের ভাই হুসেইন মুহম্মদ মোরশেদ ও এরশাদের ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ। এর মধ্যে মকবুল আসিফ শাহরিয়ার রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি জাতীয় পার্টির রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার সাথে রংপুরের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের নাড়ীর সম্পর্ক রয়েছে। এরশাদ পরিবারের সদস্য হলেও বাকি দু’জন রংপুরের মানুষের কাছে অপরিচিত।এ ছাড়া দলের প্রার্থীর জন্য কাজ করছেন দলের মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির। তার সাথে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সম্পর্কটা খুব কাছের। মাঠের কর্মীদের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে।

গত নির্বাচনে রংপুর-৫(মিঠাপুকুর) আসন থেকে পরাজয়ের পর এসএম ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গির এবারে রংপুর-৩ (সদর) আসনে নির্বাচনের প্রস্তুুতি নিচ্ছেন। তিনি এ জন্য প্রচারণাও চালিয়ে আসছেন। তিনি মিঠাপুকুরের বাসিন্দা হওয়ায় তার সাথে রংপুর সদরের সাধারণ মানুষের সস্পৃক্ততা নিই বললে চলে।

এদিকে বিগত একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য রংপুর সদর আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ৯ জন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহাম্মেদ, জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক রোজি রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক লতিফা শওকত, রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুব মহিলা লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক নাসিমা জামান ববি, সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হোসনে আলা লুৎফা। অন্যদিকে বিএনপি থেকে নির্বাচন করেন জোটের শরীক পিসিবির সভাপতি রিটা রহমান। তিনি ছাড়াও এবার বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহানগর বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান সামু’র নাম দলীয় নেতাকর্মীদের মুখে শোনা যাচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর

স্ত্রী পালিয়েছে পরকীয়ার টানে, ক্ষোভে শ্যালিকাকে অপহরণ করে পাঁচমাস ধরে ধ’র্ষণ!

‘নাইমকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে খুন করি’

‘সুন্দরী-গরিব-অসহায় ছাত্রীদের জম মতিন স্যার’

বাংলাদেশেও ট্রাম্পের কৃচ্ছ্রনীতির খড়্গ!

৭ বছর পর পরিবারকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত খাদিজা

সাদিয়া অন্যকে বাঁচানো নিজেই আক্রান্ত ক্যান্সারে

রওশন এরশাদ, নায়ক আলমগীরসহ অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিয়েছি

বাংলাদেশিরা নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন কাতারে

গ্রুপ চ্যাট বন্ধ করছে ফেসবুক

প্রশিক্ষণে গিয়েই মাদকে ফাঁসানোর হুমকি, এএসপি বহিষ্কার

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নবীনগরের কিশোর পুরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত

কন্ডিশনিং ক্যাম্পে মাশরাফি, নেই তামিম