বুধবার, ১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১৫ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা; প্রশাসন বলছে, নিয়ন্ত্রণ করা খুব ‘টাফ’!

news-image

প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত এক মাস ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরের ব্যস্ততম ‘মনতলা থেকে সীতারামপুর’ ঘাট পর্যন্ত নৌকা পারাপারে পাঁচ টাকার স্থলে ১০ টাকা করে আদায় করছেন ইজারাদারের লোকজন। এর আগে গত ১ জুলাই থেকে এই নৌঘাটে জেলা পরিষদ থেকে ‘মাশুল তালিকা’ টাঙানো হয়। সেখানে বলা হয় কোনোভাবেই যেন পাঁচ টাকা ও ১৫ টাকার বেশি নৌকা ভাড়া আদায় করা না হয়। আর এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া আদায়কারীদের সমস্যা হচ্ছে।

সরজমিনে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার উত্তরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ এ খেয়াঘাট দিয়ে নবীনগর উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। কিন্তু খেয়াঘাটের ইজারাদারদের লোকজন বছরের পর বছর ধরে যাত্রীদের কাছ থেকে জন প্রতি পাঁচ টাকার বদলে ১০ টাকা করে আদায় করছেন। পাশাপাশি মোটরসাইকেল পারাপারে ১৫ টাকা নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও, ইজারাদারের লোকজন প্রতি মোটরসাইকেলের ভাড়া ৫০ টাকা করে আদায় করছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নবীনগর সদরে প্রশাসনের চোখের সামনে দীর্ঘদিন ধরে এমন জুলুম অত্যাচার চললেও, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বরাবরাই রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পত্র-পত্রিকা ও ফেসবুকে প্রচুর লেখালেখি হলে, এর প্রতিকার নিয়ে গত ২৯ জুন সংশ্লিষ্ট ইজারদার, সুধীজন, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নবীনগর ডাকবাংলোর প্রাঙ্গনে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার এক ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জেপি দেওয়ান, ওসি রনোজিত রায়, নবীনগর বাজার কমিটির সভাপতি মনির হোসেনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে নতুন করে ইজারা না হওয়ায়, স্থানীয় প্রভাবশালী তিন ব্যক্তিকে ঘাটটি ১৫ দিনের জন্য খাস কালেকশানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনোভাবেই জন প্রতি পাঁচ টাকা ও মোটরসাইকেল থেকে ১৫ টাকার বেশি আদায় করা যাবে না বলে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু গত এক মাস ধরে আগের মতোই খাস কালেকশানকারীরা ১০ টাকা ও ৫০ টাকা করেই আদায় করছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন হয়তো ম্যানেজ (!) হয়ে গেছেন। নাহলে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিদিন সাধারণ মানুষের ওপর এতটা অত্যাচার হওয়ার পরও প্রশাসন কেন চুপ করে আছে?এ বিষয়ে কথা বলতে নবীনগরের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও ফোন ধরেননি।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নওয়াব আসলাম হাবিবের সঙ্গে আজ শুক্রবার সকালে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ১০ লাখ টাকার ঘাট ৩৮ লাখ টাকায় নিয়ে গেলে ওরাতো (ইজারাদার) অনিয়ম করবেই। আসলে এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা খুব ‘টাফ’ হয়ে গেছে।

নবীনগরের প্রশাসনকে এ বিষয়ে কেন ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিচ্ছেন না; এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা পরিষদের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বললেন, ‘এর আগে নবীনগরের এক ওসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনি (ওসি) ম্যানেজ হয়ে সব টাকা পয়সা নিয়ে চলে গেছেন। আসলে যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেই রক্ষকই তখন ভক্ষক হয়ে যান। তাই দায়িত্ব নিলেই হবে না, স্ট্রং মনিটরিংও করতে হবে।’