বুধবার, ১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি, বড়তে লোকসান

news-image

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় গবাদিপশু বেচা-কেনার বড় হাটগুলো ইতোমধ্যে জমে উঠেছে। এবার ভারতীয় গরু নেই; কিন্তু হাটগুলোতে দেশীয় গরুর ব্যাপক আমদানী ঘটছে। কোরবানির জন্য পশু কিনতে ক্রেতারা যেমন ভিড় করছেন, তেমনি রাজধানী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর থেকে ব্যাপারীরা আসছেন গরু ছাগল কিনতে।

জেলার বড় হাটগুলোর মধ্যে মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়া, নিয়ামতপুর উপজেলার ছাতড়া, সাপাহার, দীঘির হাট, ধামইরহাট, বদলগাছী উপজেলার কোলা, রানীনগর উপজেলার আবাদপুকুর ও আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ। এছাড়া আরো অন্তত ৩০ টি হাটে পশু বেচা কেনা হচ্ছে।

গত বছরের মত এবারও নওগাঁর হাটগুলোতে মাঝাড়ি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। এইসব গরুর আমদানীও বেশি, বেচাকেনাও বেশি। একেকটি দেশীয় মাঝাড়ি গরু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায়। চাহিদা বেশি থাকায় এই গরুগুলো কিছুটা বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে খামারে মোটা তাজা করা গরুর চেয়ে কৃষকের বাড়িতে পালিত গরুর দাম তুলনামূলক কম।

হাটগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, দেশীয় গরুর প্রচুর আমদানি ঘটছে। অন্যান্য বছর এইসব হাটে ভারতীয় গরু আমদানি হতো। এবার এখন পর্যন্ত কোনো হাটেই ভারতীয় গরু আসতে দেখা যায়নি। এরপরও বড় গরুতে লোকসানের মুখে পড়েছেন খামারিরা।

খামারিরা বলছেন, কম দামেও বড় গরু কিনছে না ব্যাপারীরা। ফলে গেল বছর যে গরু লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই আকারের গরু এবার ক্রেতারা ৮০ হাজার টাকার বেশি দাম করছেন না। যেসব গরু ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে দরদাম হাঁকা হচ্ছে, সেগুলোতে লোকসান হচ্ছে।

সোমবার ছাতরা হাটে বড় গরু বিক্রি করতে এসে স্থানীয় খামারি আফজাল হোসেন ও অন্যান্য বেশ কয়েক জন খামারি জানান, বড় গরু পালনে খরচ বেশি। বর্তমান বাজারে লাখ টাকার একটি গরু পালনে খরচ হয়েছে ১ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। যে গরু পালনে আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে সেই গরুর দাম উঠছে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা।

গরু কিনতে চট্টগ্রাম থেকে এসে ব্যাপারী সোলায়মান মিয়া জানান, কোরবানির বাজারে সব খানেই মাঝারি আকারের গরু ক্রেতার সংখ্যা বেশি। তাই সঙ্গত কারণেই তারা দেশীয় মাঝারি আকারের গরু বেশি কিনছেন।