শুক্রবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে প্রবাসীদের ধ’র্ষণ করলে গুনাহ হয় না?

news-image

সৌদিতে যখন বাঙালি নারী গৃহশ্রমিকদের ঘরে আটকে রেখে দিনের পর দিন। সৌদি আরবের পরিবারের বাপ ছেলে মেয়ের জামাই মিলে বাঙালি মুসলিম নারীদের পালাক্রমে ধ’র্ষণ করে। ঠিকঠাক খাবার দেয়না। পানি পর্যন্ত দিতে চায় না। তাদের বেতন দেয় না। চিকিৎসা দেয় না। বাঙালি মুসলিম নারীদের প্রতি সৌদি মুসলিম পরিবার গুলো প্রায় এমন জঘন্যরকমের ব্যবহার করে আসছে।

সৌদি অরবসহ মিডলইস্টের মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, ইরান, ইয়েমেন, মিশর, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া নারীদের সাথে এমন আচরণ করে আসছে ররব পরিবারের মুসলিম নারী পুরুষ সদস্যরা।

নারী কর্মীদের নিরাপত্তায় উদগ্রীব হয়ে ভারত শ্রীলংকাসহ অনেক গুলো দেশ মিডলইস্ট দেশ গুলোতে গৃহকর্মীর কাজে নিয়োগ দেওয়া একেবারেই বন্দ করে দিয়েছে। তারা শিক্ষিত দক্ষ নারী কর্মী হাসপাতালসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপদ জায়গায় বুঝে তাদের জনশক্তি বিনিয়োগ করেছে।অনেকেই আছেন যারা নিরুপায় হয়ে এসব মধ্যেও সৌদি আরবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দেশ দূতাবাস নারীদের খোঁজ খবর রাখে না। শুনলেও অভিযোগ দিলেও কর্তারা আমল দেয়না।

আবার এমনও দেখা গেছে, আশ্রয়রের জন্যে নিজ দেশের দূতাবাস কর্তাদের কাছে এসে সেখানেও নিগৃহীত হয়েছে। এমনকি ধ’র্ষণ করা হয়েছে।এসব পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সমাজের দুর্বল মুসলিম জনগোষ্ঠীর নারীদের জীবন। এরকম শুধু বাংলাদেশ মুসলিম নারীদের ক্ষেত্রে ঘটছে না। পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম প্রধানদেশের পরিচিত দৃশ্য।

বাংলাদেশে বহু মুসলিম রাজনৈতিক শক্তি এবং দরগাহ কেন্দ্রীক শক্তিও পীর মাজার আছে। তারা রাজনৈতিকভাবে মাঝে মাঝে দিক-বিদিকের ইশারায় রাস্তা গরম করে হুংকার শুনিয়ে দেন।অথচ তারা আজ পর্যন্ত সৌদি আরবসহ মধ্যপাচ্যের দেশে গুলোতে বাঙালি মুসলিম নারীদের উপর হয়ে যাওয়া পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কোন দিন মুখে একটা শব্দ উচ্চারণ করে না।

প্রতিবাদ না করার কারণ হচ্ছে সৌদি শাসকদের অর্থ সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশসহ মুসলিম জনগোষ্ঠী প্রধান দেশ গুলোর ইসলামের নাম করে রাজনীতি মাঠে একটা জায়গা নিয়ে চলছে এবং বিভিন্ন সময়ে উটকো বিষয় নিয়ে তারা রাজনৈতিক আলোচনায় থাকছে। তাদের দৌড় এই পর্যন্তই। এর চেয়ে বেশি দূর যাওয়ার যোগ্যতা নৈতিক শক্তি সৎসাহস কোনটাই তাদের নেই।

অার কিছু ধার্মীক মানুষ আছে তারা ভেড়া-ছাগলে পালের মতো এসব ধর্মীয় নেতা নামের কল্লা বেচা চামড়া কালেকশন ও ব্যবসায়ীদের পিছে ঘুরে জীবন নষ্ট করছেন সময় নষ্ট করছে।এই ধরণের ধর্মীয় লেবাসধারী গোষ্ঠী গুলো যেমন সৌদি রাজপরিবারের ইচ্ছে চরিতার্থ করছে নিজ নিজ দেশে অন্য দিকে স্থানীয় ইসলামী সচ্ছ শক্তিগুলো আছে তাদের জন্যে বিশাল রকমের অসুবিধা হয়ে আছে। তারা মানুষকে আসলটাকে নকল বলে তালগোল পাকিয়ে দিচ্ছে অন্য দিকে মানুষ ইসলামের উদার শিক্ষা হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনীতি না প্রতিষ্টিত হয়ে গেছে। রাজনৈতিকদের হাত ধরে সমাজে শ্রেনীবৈষম্য বাড়ছে যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ বন্টন করা হচ্ছে না। সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়নি, ন্যায় বিচারক কম থামের অপশাসনকলেও তাদের সাধীনতা কমেছে। এককথায় সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব বাড়ছে। দিনে দিনে মানুষ নিরুপায় হচ্ছে নিরীহ হচ্ছে।

যেখানে নিজ দেশেই মানুষের অধিকার নেই। বিচার নেই। মুসলিম নারীদের ধ’র্ষণ করা হয়। রাস্তায় পিটিয়ে মারা হয়। দুই বেলা ভাত খেতে দেহ বিক্রি করতে হচ্ছে। সেই জনগোষ্ঠীর ইসলামী রাজনৈতিক শক্তি বিদেশি দূতাবাস ঘেরাও করা করতে যাওয়া করতে চাও এসব বড়োই মূখ্যতা নিজ জাতি ধর্ম ভাষার মানুষের সাথে তামাশার দৃশ্য ছাড়া আর কিছু নয়।

বাঙালি মুসলিম নেতাদের বুঝতে হবে। ভারত মুসলিমদের সাথে যেমন ব্যবহার করছে। তার বাংলাদেশেও কাকতালীয় ভাবে ঘটে যাচ্ছে। ভারত বাংলাদেশ ঘটনা গুলো প্রায় সমান সমান। ভারতের বিরুদ্ধে না গিয়ে সময় নষ্ট না করে যদি উদ্দেশ্য সত হয়ে থাকে তবে বাংলাদেশের মানুষ তথা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বঞ্চিত মানুষে পাশে দাড়িয়ে সমস্যা সমাধানের দিকে যাওয়া উচিত।তাহলে ধর্ম কর্ম জন্ম পীর বুজুর্গী কাজে আসবে। দেশে সমাজে ময়লা থাকলে, সাদা পোশাক নিরাপদ নয়!

লেখক: সাংবাদিক