রবিবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যৌ’ন নি’র্যাতনের কথা গোপন করলেই মুক্তি দেবে সৌদি

news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবে কারাবন্দী এক নারী অধিকার কর্মীর পরিবার অ’ভিযোগ করেছে যে, ওই অধিকার কর্মীকে আ’টক অবস্থায় নি’র্যাতনের কথা গোপন করলে মুক্তি দেবে কর্তৃপক্ষ। বন্দীদের ওপর নি’র্যাতনের অ’ভিযোগ নতুন নয়। আ’টকদের মধ্যে এ পর্যন্ত চারজন নি’র্যাতনের অ’ভিযোগ তুলেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কারাগারে তাদের বিদ্যুতের শক, চাবুক দিয়ে পেটানো এবং যৌ’ন নির্যাতন করা হয়েছে।

লুযেইন আল হাথলুল নামের ওই নারী অধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বিরোধী অপশক্তির সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অ’ভিযোগ আনা হয়। চলতি বছরের মার্চে তিনিসহ আরও নয়জন অধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

সৌদি আরবে নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার আদায়ে লুযেইন আল হাথলুলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। নারীরা এখন স্বাধীনভাবে গাড়ি চালানোর অনুমতি পেলেও এর পেছনে কাজ করে এখন কারাগারে বন্দী রয়েছেন লুযেইন।

ব্রাসেলসে বসবাসকারী তার বোন লীনা আল হাথলুল মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় বলেছেন, আমি এ বিষয়ে লিখে হয়ত ঝুঁকি নিচ্ছি। হয়ত এতে আমার বোনের ক্ষতি হবে কিন্তু আমার পক্ষে এ ব্যাপারে কিছু না বলে আর থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, লুযেইনকে একটা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তাকে বলা হয়েছে যে, তাকে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা এই বিষয়টি তিনি যদি অস্বীকার করেন তবে তাকে মুক্তি দেয়া হবে। তিনি আরও লিখেছেন, আবারও বলছি লুযেইনকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে শারীরিক ও যৌ’ন নির্যাতন করা হয়েছে।

তার পরিবার এর আগেও শারীরিক ও যৌ’ন নি’র্যাতনের অ’ভিযোগ তুলেছে। কিন্তু সৌদি সরকার বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এই অ’ভিযোগের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হলেও তারা এ বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

লুযেইন হাথলুল সৌদি আরবে নারী অধিকার বিষয়ে পরিচিত একটি মুখ। ২০১৪ সালে তিনি প্রথম পরিচিতি পান। সে সময় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সীমান্ত দিয়ে তিনি গাড়ি চালিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। পুরো বিষয়টি টুইটারে লাইভ করেছিলেন তিনি।

অনেক সমালোচনার মুখে চলতি বছরের জুনে নারীদের গাড়ি চালানোর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সৌদি।সেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলা নারীদের পুরুষ অভিভাবক সম্পর্কিত একটি আইনও চলতি মাসে শিথিল করা হয়েছে।

ওই আইন অনুযায়ী, একজন নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তার কোনো পুরুষ আত্মীয় অর্থাৎ বাবা, ভাই, স্বামী ও ছেলের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। সম্প্রতি ওই আইনের একটি ধারা পরিবর্তিত হয়েছে। আগে দেশের বাইরে কোথাও যেতে হলে সাথে করে কোন পুরুষ অভিভাবককে নিয়ে যেতে হতো। কিন্তু এখন আর তার প্রয়োজন হবে না।

এসব আইনের পরিবর্তন হতে থাকলেও এগুলো পরিবর্তনের জন্য আন্দোলনে যাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাদের মধ্যে বেশিভাগই এখনো কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অ’ভিযোগ অস্বীকার করেছে। আ’টক মানবাধিকার কর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে পশ্চিমা দেশগুলো। জাতিসংঘের তরফ থেকেও তাদের মুক্তি দেয়ার আহবান জানানো হয়েছে।

গত বছর তুরস্কে সৌদি দূতাবাসে সাংবাদিক জামাল খাসোগজির হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সৌদি আরবকে আরও কঠোরভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য সমালোচনা করা হচ্ছে। এসব সমালোচনার ব্যাপারে সৌদি আরব বলছে, মানবাধিকারের নাম করে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চলছে।

গত বছরের আগস্টে কানাডার পক্ষ থেকে আ’টক মানবাধিকার কর্মীদের মুক্তির দাবি তোলা হয়েছিল। এরপরেই সৌদি আরব কানাডার সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং কানাডার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে।

এ জাতীয় আরও খবর

১০০ বছর পরে যে ফুল ফোটে

বিয়েতে রানী ভবানীর ছিল তিন শর্ত

৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ভাতিজিকে ধ’র্ষণ

একাধিক প্রেমিক ছিলো রানুর জীবনে, ফাঁস করলেন পরিচালক

সাবেক মন্ত্রীকে নিয়ে হোটেলে ছিলেন, স্বীকার করলেন সানাই

প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগদান করেনি ৬ ডাক্তার!

‘ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ালে সৌদি আরব ও আমিরাত ধ্বংস হয়ে যাবে’

যুদ্ধের শঙ্কার মধ্যেই ইরান-রাশিয়া-চীনের যৌথ নৌমহড়া

যে কারণে ২০ গানম্যান নিয়ে রাজকীয় ভঙ্গিতে চলতেন জিকে শামীম

বিসিএস উত্তীর্ণের দিন এলো ক্যান্সারের খবর!

বাসা ছেড়ে দেয়ায় স্বামীকে পি’টিয়ে স্ত্রীকে ধ’র্ষণ

জব্দ করা কোটি কোটি টাকা বেকারদের কর্মসংস্থানে ব্যয় করার প্রস্তাব রাশেদা রওনকের