সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের কারণে হুমকির মুখে সৌদিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট : অবৈধভাবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়া রোহিঙ্গাদের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে সৌদিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার। গত কয়েক বছরে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে অবৈধভাবে সৌদি আরবে গেছে। তাদের এমন উপস্থিতিতেই মূলত বাংলাদেশি শ্রমিকরা সংকটের মুখে পড়েছেন।

সৌদিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের কারণে সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নানামুখী সংকট দেখা দিয়েছে। বহু বছর ধরে সৌদিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা রোহিঙ্গাদের কারণে নানা রকম সমস্যায় পড়ছেন। ফলে নতুন করে সে দেশে শ্রমিক পাঠানো যাচ্ছে না। রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে স্থানীয় দালাল ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট বানিয়ে গত কয়েক বছরে সৌদি আরবের বাংলাদেশি শ্রমবাজারে ভাগ বসিয়েছে। এ সংকটের পাশাপাশি বাংলাদেশের লক্ষাধিক শ্রমিক পেশা বদল করে অন্য কাজে নিয়োজিত হয়েছেন। গত কয়েক দিনে মক্কা এলাকা ঘুরে বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

শ্রমবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত তিন বছরে বাংলাদেশি অন্তত লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মচ্যুত হয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গিয়ে স্বল্প বেতনে কাজ নিচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশিরা চাকরি হারাচ্ছেন, কাজ হারাচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সৌদি আরবের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দাসহ নানা সংকট। আর এসব কারণেও বাংলাদেশিদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এদিকে সৌদির শ্রমবাজারে আগের মতো শ্রমিক নিতে পারছে না বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। যদিওবা কিছু শ্রমিক লাখ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত তাদের খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। গত ছয় মাসের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ থেকে ৩২৬ জন সৌদি আরবে ফ্রি ভিসায় (আকামা ছাড়া) এসেছেন। এখানে আসার পর তারা জানতে পারেন কাজ নেই। জানা গেছে, প্রতারণার শিকার হয়ে সৌদি আরবে অসংখ্য বাংলাদেশি নাগরিক পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

তাদের দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে। এদের একজন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কেরামত আলী (৩২)। ভিটেবাড়ি বিক্রি করে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে সৌদি আরবের মক্কায় এসেছেন তিনি। এজেন্ট তাকে একটি দোকানে আড়াই হাজার রিয়ালের একটি চাকরির কথা বলেছিলেন। এক মাস কাজ করার পর তিনি দেখেন বেতন দেওয়া হয়েছে ১১০০ রিয়াল। এ টাকা থেকে তিনি খাবেন কী আর দেশেই বা পাঠাবেন কী! পরে দালালের সহযোগিতায় দুই হাজার রিয়ালে হোটেলে কাজ নিয়ে এখন তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কারণ আগের মালিক তাকে খুঁজছেন। কেরামতকে পেলে দেশে পাঠিয়ে দেবেন ওই মালিক।

মক্কার ইব্রাহিম খলিল রোডের বাংলাদেশ মেডিকেল সেন্টারে বসে কথা হয় কুলসুম বিবি নামে এক মহিলার সঙ্গে। তিনি জানান, তিনিও ছয় মাস আগে মাসিক তিন হাজার রিয়াল বেতনে এখানে এসেছেন। এক মাস কাজ করার পর জানতে পারেন তার মাসিক বেতন ১৫০০ রিয়াল। পরে তিনি প্রতিবাদ করেন। এ কারণে তাকে নির্যাতন করা হয়। আরেকটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে অবৈধ পথে শ্রমিক যাওয়া আগের চেয়ে বেড়েছে। সৌদি অভিবাসন বিশ্লেষক শেখ জায়েদ সুলতান মিজি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সৌদি আরবে কর্মীর চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ থেকে না নিয়ে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকরা এলেও ভালো বেতন পাচ্ছেন না। আকামা পরিবর্তনের নামে কষ্টের শিকার হচ্ছেন তারা। সৌদি আরবের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আবদুল মাজিদ খান বলেন, ‘প্রচলিত শ্রমবাজারের ওপরই নির্ভরশীল আমরা। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাজার খুঁজতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু আশার আলো নেই সেভাবে। সৌদি আরবের বাজার নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপর বেশি জোর দিতে হবে।’ তিনি বলেন, কতিপয় রিক্রুটিং এজেন্সির ভিসা কেনাবেচার কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে অভিবাসন ব্যয় অনেকগুণ বেশি। পুরো রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়াটি চলছে নীতি-নৈতিকতার বাইরে। বিডি-প্রতিদিন