সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

খুলনায় থানায় ধ’র্ষিত গৃহবধূর লোমহর্ষক বর্ণনা

news-image

নিউজ ডেস্ক।। খুলনা জিআরপি থানায় গ’ণধ’র্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতে পাকশী থেকে গঠিত তদন্ত টিম প্রতিবেদন জমা দিতে আরো ১৫ দিন সময় চেয়ে আবেদন করেছে। এছাড়া ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল বুধবার আ’দালতে আবেদন করেছে তারা। রেলওয়ে পাকশী জেলা কর্তৃক গঠিত তদন্ত টিমের প্রধান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ জানান, ঈদের কারণে সবাই ছুটিতে থাকায় তদন্ত কাজে কিছু সময় প্রয়োজন। এজন্য আরো ১৫ দিন সময় চেয়ে রেলওয়ে পাকশী বরাবর আবেদন করা হয়েছে। তিনি গতকাল খুলনায় এসে ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করেছেন।

এদিকে, জিআরপি থা’নায় তিন সন্তানের জননীকে (৩০) গ’ণধ’র্ষণের ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠানসহ ৫ পু’লিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে দেওয়া ওই নারীর জবানবন্দিতে ওই রাতের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে ৫ ধর্ষক পু’লিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রেকর্ডকৃত মামলার এজাহারে উল্লিখিত বর্ণনা তুলে ধরা হলো।

নির্যাতিতা নারীর জবানবন্দি ও এজাহারের হুবহু বর্ণনা- ৪ঠা আগস্ট নির্যাতনের শিকার ওই নারী আদালতে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, “পু’লিশ হেফাজতে থাকাকালীন জিআরপি খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ নিজে তল্লাশির নামে তার যৌনাঙ্গের ভেতর আঙুল প্রবেশ এবং এর কিছুক্ষণ পর ডিউটি অফিসারের সহায়তায় তার ওপর ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন করেন। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে একই ডিউটি অফিসারের সহযোগিতায় তাকে চোখ বেঁধে অন্য একটি রুমে নিয়ে গিয়ে মুখে কাপড় বেঁধে অফিসার ইনচার্জ নিজে তিনবার, ডিউটি অফিসার একবার ও বাকি তিনজন পু’লিশ সদস্য সর্বমোট পাঁচজন মিলে পালাক্রমে অসংখ্যবার ধর্ষণ করে।

এ বিষয়টি কাউকে বললে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি প্রদান করেন।”

জবানবন্দিতে তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে হলুদ গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরে ডিউটি অফিসার থানায় আসেন। তিনি আমাকে চোখ বেঁধে একটা রুমে নিয়ে যান। রুমে যেতে দু-তিন মিনিট লাগে। রুমে গিয়ে দেখি ওসি সাহেব লুঙ্গি-গেঞ্জি পরা। তখন ওই ডিউটি অফিসার আমার মুখের ভেতরে ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে ফেলে যাতে কথা বলতে না পারি। ডিউটি অফিসার বাইরে গেলে ওসি সাহেব ভেতর থেকে দরজা আ’টকে দেন। এ সময় তিনি বলেন, “দেখি কোথায় কোথায় লাগছে? এই কথা বলে তিনি আমার শরীরের সকল কাপড় খুলে ফেলে এবং বলে এ ঘটনা যদি কাউরে কইছ তাহলে তোর পরিবারের সবগুলোকে একটার পর একটা মা’মলা দিব। এই কথা বলে আমাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধ’র্ষণ করে। ওসি সাহেব আমাকে দেড় ঘণ্টা তার রুমে রাখে। এরমধ্যে সে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিনবার ধর্ষ’ণ করেন। ধ’র্ষণের পূর্বে সে কনডম ব্যবহার করেছিল। এরপর ওসি সাহেব রুম থেকে চলে যান। তারপর বসন্তের দাগওয়ালা চিকনচাকন ডিউটি অফিসার রুমে আসেন। মুখ বাঁধা অবস্থায় তিনি আমার ইচ্ছার বি’রুদ্ধে আমার সঙ্গে যৌ’ন স’ঙ্গম করেন। তিনি আসার আগে সাথে করে ভিজা গামছা নিয়ে আসে এবং আমার শরীর মুছে নেয়। তিনিও ওসি সাহেবের মতো ক’ন’ডম ব্যবহার করেন। এরপর আমার শরীর কাজ করছিল না। এই অবস্থায় আরও একজন আসে। তাকে দেখলে চিনব। সে ভেজা গামছা দিয়ে আমার শরীর পরিষ্কার করে এবং ইচ্ছার বি’রুদ্ধে যৌ’ন স’ঙ্গম করে। ওই ব্যক্তি যাওয়ার পর আরো দু’জন আসে সবাইকে দেখলে চিনব। বাকিরা সবাই কনডম ব্যবহার করে। এভাবে ভোরের আজানের কিছু আগে আমাকে গারদে নিয়ে রেখে দেয়। পরের দিন পাঁচ বোতল ফেনসিডিল মামলা দিয়ে আমাকে কোর্টে চালান দেয়। পু’লিশ আমাকে ওইদিন মোবাইল চুরি করেছি- এই সন্দেহে আটক করেছিল। এই আমার জবানবন্দি। আমি ন্যায়বিচার চাই।”

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদ বলেন, জিআরপি থানায় গৃহবধূ ধ’র্ষণের ঘটনায় আ’দালতের নির্দেশে ওসি উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচজনের বি’রুদ্ধে পু’লিশ হেফাজতে নির্যাতন ও হ’ত্যা নিবারণ আ’ইনে মামলা হয়েছে। এ মা’মলার বাদী ভুক্তভোগী নারী নিজেই। এর আগে ৮ই আগস্ট দুপুরে নির্যাতনের শিকার নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কমিটি। জিজ্ঞাসাবাদের পরেই আদালতের নির্দেশে পাঁচ পু’লিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মা’মলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২রা আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে তিন সন্তানের জননীকে আ’টক করে খুলনা জিআরপি থানা পু’লিশ। ওই নারীর অ’ভিযোগ, মোবাইল ফোন চুরির অ’ভিযোগ দিয়ে তাকে আ’টক করা হয়। ওইদিন রাতে থানা হাজতে ওসিসহ ৫ পু’লিশ সদস্য তাকে মারধর ও ধ’র্ষণ করে। পরদিন ৩রা আগস্ট তাকে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ৪ঠা আগস্ট ওই নারী খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামানের আদালতে তাকে মারধর ও গ’ণধ’র্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে তার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে ৫ই আগস্ট তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এছাড়া উক্ত ধর্ষণের ঘটনায় ৫ই আগস্ট কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদসহ ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের কাজ শুরু করে। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, পু’লিশ পরিদর্শক শ ম কামাল হোসেইন ও মো. বাহারুল ইসলাম। উৎস: মানবজমিন।

এ জাতীয় আরও খবর

চু’রি করতে এসে ভাত রান্না করে খেয়েছে চোর!

অন্ধকার ঘরে ২৫ বছর ধরে শিকলবন্দী রতন

যৌ’নপল্লীতে প্রভা-মৌটুসী!

মেডিকেল শিক্ষার্থীর প্রেমের ফাঁদে পোল্যান্ড প্রবাসী, খুইয়েছেন ১০ লাখ

মাত্র ২২ সেকেন্ডে মোটরসাইকেল চু’রি!

অসাধারণ এক স্ন্যাপশট, চিত্রগ্রাহকের সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা

মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে পালালো মেয়ে!

মোহাম্মদপুরে আল্লাহর ৯৯ নাম সংবলিত স্তম্ভ নির্মাণ

প’তিতাবৃত্তিতে রাজি না হওয়ায় মেয়েকে নির্দয়ভাবে মারল বাবা!

শিক্ষার্থীদের সামনেই হাতুড়ি দিয়ে মোবাইল ফোন ভাঙলেন অধ্যক্ষ!

নকিয়া-স্যামসাং মোবাইল কম দামে বিক্রি করছে ২ চীনা নারী

এরা শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপ: শেখ হাসিনা