শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাইলেন ফখরুল

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের অধীন ফের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এদিন গাজীপুর পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবদুল করিমসহ তার অনুসারীদের বিএনপিতে যোগ দেন। যোগদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার। বিএনপি মহাসচিব তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

যোগ দেয়া নেতাকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যখন বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের কর্মকাণ্ডের রাজনীতি করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যখন ২৬ লাখ মানুষকে আসামি করা হয়েছে, এক লাখের উপরে মামলা করা হয়েছে, যখন এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে, সেই সময় আবদুল করিমের মতো একজন জনপ্রিয় নেতা বিএনপিতে যোগ দেয়া নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এই সময়ে তার বিএনপিতে যোগ দেয়াটা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা সঠিক পথে আছি, আমাদের রাজনীতি সঠিক পথে আছে। তাকে আমরা দলে বরণ করে নিচ্ছি।

শক্তিশালী সংগঠন গড়ার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সংগঠনের কোনো বিকল্প নেই। সংগঠন থাকলে আন্দোলন, নির্বাচনে সফল হতে পারবো। এই কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এদেশের সব মানুষ বিশ্বাস করে খালেদা জিয়াই একমাত্র গণতান্ত্রিক নেত্রী, যিনি গণতন্ত্রকে উদ্ধার করতে পারেন। আমরা সবার আগে দেশনেত্রীর মুক্তি চাই। তিনি এদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ৩০ ডিসেম্বর এদেশে কোনো ভোট হয়নি, এটি সবাই জানে। এই দখলদারি সরকার, যারা নির্বাচন না করে ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে তাদেরকে পদত্যাগ করে অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। একই সঙ্গে যে নির্বাচন কমিশন আছে তাদেরকে বাতিল করে দিয়ে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এটা ছাড়া দেশে কোনোদিন রাজনৈতিক ও অর্থনেতিক মুক্তি আসবে না।

সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিকে বিরাজনীতিকিকরণ করছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যেন রাজনীতি করতে না পারে সেজন্য একে একে সংবিধানে পরিবর্তন করেছে। রাজনীতির মাঠকে সম্পূর্ণভাবে শূন্য করে দেয়ার একটা চক্রান্ত তারা শুরু করেছে। যার মূল উদ্দেশ্য হলো এই দেশে একটাই দল থাকবে। আর কোনো দল থাকবে না।

সরকার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নিয়ে সিন্ডিকেট করছে এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কোরবানির চামড়া বিক্রি করে বহু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা চলত। আজকে সেটাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তাদের দলীয় দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট ও সরকারের নীতিমালা না থাকার কারণে চামড়া ধ্বংস হয়ে গেছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম শুক্কুর, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল হক মোল্লা প্রমুখ। এসময় গাজীপুর মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী ও সদ্য বিএনপিতে যোগ দেয়া নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।