মঙ্গলবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘সুন্দরী-গরিব-অসহায় ছাত্রীদের জম মতিন স্যার’

news-image

নিউজ ডেস্ক।। কুমিল্লার হোমনায় আবদুল মতিন নামে একটি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত আবদুল মতিন উপজেলার রামকৃষ্ণপুর কামাল স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে উঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটি ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন আবদুল মতিন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত প্রায় ১১ বছর আগে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর কামাল স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন আবদুল মতিন। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠে। সম্প্রতি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবদুল মতিনের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে আবদুল মতিনের এসব অপকর্মের কথা প্রকাশ করা হচ্ছে।

গত ১১ আগস্ট ‘নীল প্রজাপতি’ নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে আবদুল মতিনের বিভিন্ন সময়ের যৌন নির্যাতনের ফিরিস্তির কথা তুলে ধরা হয়। ওই আইডিতে তথ্য প্রকাশ করা ব্যক্তিটি নিজেকে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী বলে উল্লেখ করেছেন। তবে নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি।

‘নীল প্রজাপতি’ নামক ফেসবুক আইডিতে পোস্টের মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়, ‘ঈদের আনন্দ যেন আর আগের মত নেই। কিছু কিছু কষ্ট বুকে চেপে ধরে রাখতে গিয়ে আজ আমি দিশেহারা। আমি রামকৃষ্ণপুর কামাল স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী। আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন স্যার (সুন্দরী, গরিব ও অসহায় ছাত্রীদের জম)। একজন অসৎ ও খারাপ স্বভাবের ব্যক্তি। সে স্কুলে প্রতিটি সুন্দরী ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। আগেও একবার বিচার হয়েছে তার, কিন্তু মতিন স্যার পরির্বতন হয়নি। বরং আরো বেড়েছে তার হাত নাকি অনেক লম্বা, কেউ কিছু করতে পারবে না। তাই আমরা সকল ছাত্রীরা অসহায়, তার যৌন হয়রানি মধ্যে প্রতিদিন কেউ না কেউ পড়ছে। এই মতিন স্যার আমাকে অষ্টম শ্রেণি থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত ৪ বার অফিসে ডেকে নিয়ে প্রেমের প্রস্তাব করে, আমি রাজি না হওয়ার কারণে এখন আমাকে বলছে আমি যদি প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হই, তাহলে আমাকে এসএসসির টেস্ট পরীক্ষার ফেল করিয়ে দিবে। আর প্রতিদিন ক্লাসে আমার বদনাম করাতেই আছে। এখন আমি কি করব সবাই আমাকে সাহায্য করেন এবং স্যারের বিচাররে ব্যবস্তা করেন…..’। এসব তথ্যের সঙ্গে ওই প্রধান শিক্ষকের যৌন নির্যাতনের আরো সাতটি ফিরিস্তি প্রকাশ করা হয় ফেসবুকে।

অভিযোগকারীর সেই পোস্টের নিচে বেশ কিছু কমেন্টও পড়ে। সেখানে কিছু ছবিও পাওয়া যায়। ছবিতে দেখা যায়, শিক্ষক আব্দুল মতিন কয়েকটি মেয়ের সাথে ঘনিষ্টভাবে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন।

শনিবার দুপুরে এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবদুল মতিন বলেন, ‘আমি গত ১১ বছর ধরে এই স্কুলে রয়েছি। আমি দুই ছেলে এবং দুই মেয়ের জনক। আমার বড় ছেলে ম্যাজিস্ট্রেট, বাকিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করছে। এই বিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরও আমি সন্তানের মতো দেখি। ফেসবুকে আমার বিরুদ্ধে প্রচার করা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ষড়যন্ত্রমূলক। মূলত এলাকার কিছু বখাটে ছেলে আমার প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের ইভটিজিং করে। আমি এসব ঘটনার প্রতিবাদ করি। এজন্য ওই বখাটেরা ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ সকলকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো.ফজলে রাব্বি বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ উৎস: বাংলা রিপোর্ট

এ জাতীয় আরও খবর

ফাঁ’সির রায় শুনে হাসলেন আ’সামি, আর কাঁদলেন বাদী

বাংলাদেশ থেকে আরও জনশক্তি নিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

পতন হইলে বউ ছাড়া কেউ পাশে থাকে না : যুবলীগ সভাপতি

এবার পুজায় বাজার মাতাচ্ছে ‘রানু’ শাড়ি

প’রকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্ত্রীকে পোড়াল স্বামী!

একাধিক ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত, লাপাত্তা মাদরাসা শিক্ষক

দুই বছর ধরে মেয়েকে শিকলে বেঁধে ভিক্ষা করছেন মা

সৌদিতে হামলায় ইরানের জড়িত থাকার প্রমাণ দেখালো যুক্তরাষ্ট্র

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাবে যে পাঁচটি খাদ্যাভাস

জব্দ করা ই’য়াবা ভাগ করে নিচ্ছিলেন ৫ পুলিশ

রিফাত-মিন্নির নতুন ভিডিও যে তথ্য দেয়

রোমের রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া অর্থ ফেরত দিয়ে আলোচিত বাংলাদেশী তরুণ