শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পাঁচ জেলায় ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট : হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও এতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপতালে আরো ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

রোববার রাত থেকে সোমবার বিকালের মধ্যে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল এবং খুলনা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এই ছয়জন হলেন, নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার ফাতেমা আক্তার (২১), খুলনার রূপসা উপজেলার খাঁজাডাঙ্গা গ্রামের সবজি বিক্রেতা মিজানুর রহমান (৪০), নেত্রকোণার কেন্দুয়ার আব্দুল লতিফের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪০), একই জেলার দুর্গাপুরের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সেলিম হোসেন (২৭), ফরিদপুর সদরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গীচর গ্রামের শেখ শফিউদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৫) এবং পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ফজলুর রহমানের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৮)।

সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের ‘ডেথ রিভিউ’ প্রক্রিয়া শেষ করে এ পর্যন্ত ৪০ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলার চিকিৎসকদের কাছ থেকে অন্তত ১৭২ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে গণমাধ্যম।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আব্দুর রশিদ জানান, ফাতেমা আক্তার নামে ২১ বছর বয়সী এক তরুণী রোববার রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেয়েটিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকা থেকে এনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। সে ছিল ব্লাড ক্যান্সারের রোগী ছিলো। কয়েক দিন আগে তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

আব্দুর রশিদ জানান, তার হাসপাতালে সোমবার পর্যন্ত ৩৭১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। ডেঙ্গুতে ভুগে মিটফোর্ডে এ পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু হলো।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক (আরপি) শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, মিজানুর বৃস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সোমবার সকাল ৭টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত খুলনায় এক বৃদ্ধাসহ পাঁচজনের জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জেলার সিভিল সার্জন এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, খুলনায় সোমবার পর্যন্ত ৫৭৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮৯ জন, যাদের ২০ জন সোমবার এসেছেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার জানান, নেত্রকোণার দুর্গাপুর থেকে সেলিম হোসেন (২৭) নামের এক রোগী গত মঙ্গলবারে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকালে তার মৃত্যু হয়।

আর আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে আরেক ডেঙ্গু রোগী সোমবার ভোরে মারা যান, যিনি আগের দিন দুপুরে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

লক্ষ্মী নারায়ণ বলেন, আনোয়ার কয়েক দিন নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শরীরের বিভিন্ন অর্গানের কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলার কারণে তার মৃত্যু হয়।

ময়মনসিংহ মেডিকেলে এ নিয়ে চারজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেল বলে লক্ষ্মী নারায়ণ জানান।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা জানান, দেলোয়ার হোসেন (৩৫) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রোববার ভর্তি হন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

দোলোয়ারের বাবা শফিউদ্দিন শেখ বলেন, তার ছেলেকে প্রথমে ফরিদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। দেলোয়ার ফরিদপুর শহরের পূর্বখাবাসপুর মসজিদের খাদেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫৭ জন ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ফরিদপুরের এ রোগে ভর্তি রয়েছে ৩৪৬ জন রোগী।

এ পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হলো বলে কামদা প্রসাদ জানান।

সোমবার দুপুরে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমাইয়া আক্তারের (১৮) মৃত্যু হয়েছে। সুমাইয়া পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ফজলুর রহমানের মেয়ে।

পরিবারের বরাত দিয়ে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বাকির হোসেন বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গেল বুধবার দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন সুমাইয়া আক্তার। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার তাকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।