শনিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গারা ৫ দাবিতে মিয়ানমারে ফিরতে রাজি

news-image

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া যে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন,নিজ দেশে ফিরে যেতে পাঁচটি শর্তের কথা বেশ জোরালোভাবে জানিয়েছেন তারা। এই পাঁচ শর্ত পূরণ হলেই তারা কেবল নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে ইচ্ছুক।

যদিও এর আগে প্রত্যাবাসন শুরুর সময় (২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি) তারা আট দফা দাবি তুলেছিল। যার মধ্যে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, বাড়িঘর, জমি ফেরত পাওয়ার মতো বিষয়গুলো ছিল।

তবে এবার পাঁচটি দাবির একটি তালিকা সম্বলিত লিফলেট গত দুদিন ধরে ক্যাম্পগুলোতে প্রচার করছে ‘ভয়েস অব রোহিঙ্গা’ নামে একটি সংগঠন। লিফলেটে যে পাঁচটি দাবির বাস্তবায়ন চায় রোহিঙ্গারা তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

রোহিঙ্গাদের দাবিসমূহ হলো-

১. রোহিঙ্গারা আরাকানের স্থানীয় আদিবাসী এবং সে জন্য তাদের ‘ন্যাটিভ স্ট্যাটাস’ বা স্থানীয় মর্যাদা সংসদে আইন করে পুনর্বহাল করতে হবে যার আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি থাকতে হবে।

২. নাগরিকত্ব : প্রথমত,আরাকান রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ‘সিটিজেন কার্ড’ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত,বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরও ‘সিটিজেনশিপ কার্ড’ দিয়ে প্রত্যাবাসন করে স্থানীয় নাগরিক মর্যাদা দিতে হবে। তৃতীয়ত, একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় থাকা রোহিঙ্গাদের সিটিজেনশিপ কার্ড দিয়ে স্থানীয় নাগরিক মর্যাদা দিতে হবে।

৩. প্রত্যাবাসন : রোহিঙ্গাদের তাদের নিজস্ব গ্রামে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া জমিজমা যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ ফেরত দিতে হবে।

৪. নিরাপত্তা : আরাকানে রোহিঙ্গাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য রোহিঙ্গা পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

৫. জবাবদিহিতা : বার্মার স্থানীয় আদালতের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির মতো কোনো ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনালে অপরাধীদের বিচার করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের এই দাবি ক্যাম্পে থাকা সবার,নাকি কিছু গোষ্ঠীর-এমন প্রশ্নের জবাবে ‘ভয়েস অব রোহিঙ্গা’ নামে সংগঠনটির মুখপাত্র শমসু আলম বলেন, ‘তাদের মধ্যে সক্রিয় আরও অন্য সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করেই তারা এসব দাবি চূড়ান্ত করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় সভা করেছি। রোহিঙ্গাদের নিয়ে বসেছি। মতামত নিয়েছি। সবাই এসব দাবি আদায়ে একমত হতে রাজি হয়েছে। প্রত্যাবাসনের জন্য যে উত্থাপন করা হয়েছে তাতে ৭৫ ভাগ রোহিঙ্গাই এর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।’

কুতুপালংয়ে ২৬ নম্বর ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা নেতা বদরুল আলম বলেন, ‘এখানে এগারো লাখ রোহিঙ্গাদের দেখভাল করতে আমরা ক্যাম্পভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়ে ৫৫ জনের একটি কমিটি করেছি, যে কমিটিতে আমিও আছি। প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা, ঘর-বাড়ি ভিটা জমি ফেরত দেওয়া ও নিরাপত্তাসহ ৫টি দাবি আমাদেরও।’

তিনি বলেন, ‘এসব দাবি বাস্তবায়ন ছাড়া প্রত্যাবাসনের কাজ সফল হবে না। কারণ নাগরিকত্ব ও স্থানীয় হিসেবে মর্যাদা না পেলে রোহিঙ্গারা সেখানে ফিরলে সেই আগের মতোই নির্যাতন নিপীড়নের মুখে পড়বে।’

বদরুল আলম আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক এবং বার্মা সরকার তার অবস্থান পরিষ্কার করুক রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বিষয়ে।’

এ জাতীয় আরও খবর

মেয়াদউর্ত্তীণ তিস্তা রেলসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেই: ঝুঁকি নিয়ে চলছে ১৮ট্রেন

বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের রংপুর বিভাগীয় আহবায়ক কমিটি গঠিত

ঘুষ, দুর্নীতি অভিযোগ সত্য প্রমানিত হওয়ায় নাসিরনগরের ভূমি কর্মকর্তা নিম্ন পদে অবমনিত

নাসিরনগরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সংবর্ধনা

উত্তাল লেবাননে বাংলাদেশিদের সতর্কভাবে চলাফেরার নির্দেশ

যুবলীগের সম্মেলনকে ঘিরে শীর্ষ পদে আলোচনায় আছেন যারা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু

সাব্বিরের বাদ পড়া নিয়ে যা বললেন নান্নু

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগে জার্মানির প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

দেশে দুর্নীতিবিরোধী অব্যাহত থাকবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জীবনে যে পরিবর্তন আনে বিয়ে

জঙ্গিবাদের রিক্রুটার মটিভেটররা ইন্টারনেটে আকর্ষণীয় অফার দিচ্ছে