বৃহস্পতিবার, ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রংপুরে স্কুল ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্তের রহস্যজনক মৃত্যু

news-image

রংপুর ব্যুরো : রংপুর মহানগরীর একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী ২৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্ব হয়ে পড়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে একটি ল্যাপরোসি মিশন নামের একটি বেসরকারি সংস্থার আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনা জানাজানির পরই অভিযুক্ত তোফাজ্জল হোসেন রহস্যজনকভাবে বিষক্রিয়ায় মারা গেছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

তবে ধর্ষিতার মা এখনো নিশ্চিত নয়, যে কে তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। ধর্ষিতার মা জানান, রংপুর সদরের চন্দপাট ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর সরদারপাড়া গ্রামের মৃত খেতু শেখের পুত্র তোফাজ্জল হোসেন দীর্ঘ দিন বছর থেকে রংপুর মহানগরীর নাজিরেরহাটের সোনারবাংলা নার্সারি দেখাশুনার কাজ করতো।

আমি তার রান্নাবান্নার কাজ করে দিতাম। আমার মেয়েও সেখানে আসা যাওয়া করতো। আমার মেয়ে আমাকে জানিয়েছে এরই মধ্যে তোফাজ্জল আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। আমি আমার মেয়ের পেট বড় হওয়ার পর বিয়ষটি টের পেয়েছি। এখন আমার এই মেয়ের বাচ্চাটার কি হবে। সেটা আমি জানতে চাই। আমাকে এখনই কেউ ঘর ভাড়াও দিচ্ছে না। সমাজে একঘরে করে রেখেছে।

তিনি বলেন, আমি মামলা করেছি। এর পেছনে তোফাজ্জল নাকি আরও অন্য কেউ জড়িত আছে। সেটা খুঁজে বের করতে হবে পুলিশকে।

ল্যাপরোসি মিশনের সুপারভাইজার সিস্টার নওমি জানান, শিশুটি এখনও মানসিকভাবে বিপর্যস্থ। তাকে সেবা যত্ন দিয়ে সুস্থ করার চেস্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনার প্রকৃত বিচার হওয়া দরকার।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাজিরহাট থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম জানান, ধর্ষিতা রংপুর মহানগরীর নজিরহাটের স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। মায়ের সাথে এক নার্সারিতে কাজ করতো। নার্সারিতে আসা-যাওয়ার মধ্যে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এরপর তাকে স্থানীয় একটি মিশনে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা গত রবিবার হাজিরহাট থানায় অজ্ঞাতনামাদের অভিযুক্ত করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন।

সোনার বাংলা নার্সারি এন্ড এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিক জুয়েল জানান, তিন বছর ধরে তোফাজ্জল আমার নার্সারির সব বিষয় দেখাশুনা করে আসছে। তিনি জানান, তোফাজ্জলের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের বিষয়টি আমি জানি না।

অন্যদিকে, চন্দনপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, অনেকেই এখন বলছেন তোফাজ্জরের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার ব্যাপারে একটি মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আসলে তিনি এই দোষে অভিযুক্ত নাকি অন্য কেউ তা খতিয়ে দেখা দরকার।

তবে এলাকাবাসী ও পুলিশের বিভিন্ন সূত্রের ধারণা, ধর্ষণের ঘটনার সাথে তোফাজ্জল নাকি অন্য কেউ আছে বিষয়টি এখনো পরিস্কার নয়। কারণ তোফাজ্জলের বিষপানে মৃত্যু ঘটনাটি রহস্যজনক। তার বাড়ির লোকজনও সেভাবে কথা বলছে না।

হাজিরহাট থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান জানান, যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রাথমিক অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি মারা গেছেন। বলা হচ্ছে, তার বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে। তবে তার মৃত্যুটা স্বাভাবিক নাকি বিষক্রিয়ায় হয়েছে সে বিষয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। ধর্ষিতার মা অভিযোগ করেছেন নার্সারিতে কাজ করা তোফাজ্জল হোসেন তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। ঘটনাটি যখন জানাজানি হওয়ার পর শুনেছি তোফাজ্জল নার্সারিতে দেয়া কিটনাশক খেয়ে গত শুক্রবার অসুস্থ হয়। তাকে হাসাপাতালে নেয়া হলে তিনি মারা যান।