শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নিয়োগ দুর্নীতি তদন্ত করলেন যুগ্ম সচিব! : অভিযোগের সত্যতা মিলেছে

news-image

রংপুর ব্যুরো : রংপুরের পীরগঞ্জে ৭৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘দপ্তরী কাম প্রহরী’ পদে নিয়োগে সীমাহীন দুর্ণীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দিনব্যাপী ১ সদস্যের ওই কমিটি তদন্ত করে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ওই কমিটি গঠন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে উপজেলার ২’শ ১৩ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ‘দপ্তরী কাম প্রহরী’ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হবে। ইতিপূর্বেই ১’শ ৩৫ টি বিদ্যালয়ে নিয়োগ হওয়ায় ৭৮টি বিদ্যালয়ে হয়নি। একাধিকবার নিয়োগের উদ্যোগ নিলেও তা স্থগিত হয়ে যায়। গত বছরের ২২ অক্টোবর উপজেলা বাছাই ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি এবং ইউএনও ওই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেন। নিয়োগ কমিটিতে এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষা অফিসার, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ৭৮টি বিদ্যালয়ের নিয়োগের জন্য মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।

বিশ্বস্ত সুত্র জানিয়েছে, নিয়োগটি পেতে চাকরী প্রত্যাশীরা জমিজমা, বসতভিটেসহ সর্বস্ব বিক্রি করে নিয়োগ কমিটির এক সদস্যকে (এমপি ব্যতীত) সরাসরি আবার দালালের মাধ্যমে ৬ লাখ থেকে ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। একাধিক চাকরী প্রত্যাশী স্থানীয় এমপিসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ করে। এরই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব মাহবুবার রহমানকে প্রধান করে ১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল বুধবার দিনব্যাপী ওই কমিটি পীরগঞ্জের ইউএনও’র কার্যালয়ে বসে নিয়োগের সাথে জড়িতদের নিয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্ত করেন। এ সময় উপজেলার দশটিরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রত্যাশীরা সরাসরি এসে তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করে।

নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিএমএ মমিন বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অপরদিকে মাঠপর্যায়ে তদন্ত না করে অফিসে বসেই তদন্ত করলেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটি প্রধান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব মাহবুবার রহমান বলেন, এখানে বেশিরভাগ লোকই স্টেক হোল্ডার (সুবিধাভোগী)। যারা আবেদনকারী বা যারা পরীক্ষা নিয়েছে, যারা যোগাযোগ করেছে। স্বার্থ যাদের রয়েছে, তাদের সবার সাথে কথা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আসলে ম্যাসেজটা পেয়েছি, যতটুকু দরকার ছিল। ওটা কিন্তু হয়েছে। আমরা ক্লিয়ার হয়েছে। উল্লেখ্য, উৎকোচ গ্রহনসহ বিভিন্ন অভিযোগের কারণে ২০১৪ সাল থেকে নিয়োগটি ঝুলে ছিল।