সোমবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সরাইলে কলেজছাত্র ইকরাম খুনের জট খুলছে না

news-image

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল কালিকচ্ছ বারজীবিপাড়ায় নির্মমভাবে খুন করা হয় কলেজছাত্র ইকরাম হোসেনকে। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন- উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য মো. নাজিম উদ্দিন, স্থানীয় স্কুল শিক্ষিকা মোছা. নাজমা বেগম, নিহত ইকরামের ভাগিনা ইমরানুল হাছান সাদী। প্রতিবেশী মো. শিমুল ও তার ভাই সোহাগ। এদের মধ্যে সাদী নিজেকে জড়িয়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আদালতে জবানবন্দি দেন।

এদিকে নিহতের পিতা মো. সহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে এই পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দেন। অপরদিকে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত নাজিম উদ্দিনকে দুই দিন ও শিমুল, সোহাগ ও নাজমা প্রত্যেকের তিন দিন করে পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আগামি দু’চার দিনের মধ্যে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হবে বলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (২২ আগস্ট) সরাইল থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো জানিয়েছেন।

এদিকে ইকরাম খুনের ঘটনায় ভাগিনা সাদী নিজেকে এ খুনের সঙ্গে জড়িয়ে আদালতে জবানবন্দি দিলেও এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা গুঞ্জন আছে জনমনে। পুলিশও বিষয়টি নিয়ে দু’টানায় রয়েছে। এ খুনের ঘটনায় স্কুল শিক্ষিকা নাজমা বেগম ও তার ভাই সাবেক ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিনকে জড়ানোর বিষয়টি নিয়েও এলাকায় নানা মহলে সমালোচনা বিদ্যমান আছে। এ মামলায় তাদেরকে আসামি করা নিয়েও রয়েছে দুইধরণের বক্তব্য।

পুলিশ বলছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে নাজমা ও তার ভাই নাজিম উদ্দিনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে মামলার বাদীর আপত্তিতে তাদেরকে আসামি করা হয়। অপরদিকে বাদী সহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদেরকে কাছে দাবি করেন, তাদেরকে এ মামলায় পুলিশ আসামি করেছে। নাজমা ও নাজিম উদ্দিন এ খুনের পরিকল্পনাকারী। কারণ তারা আসামি শিমুলকে অতীতে নানা কাজে সহযোগিতা করেছেন। তাই তারা ভাই বোন আমাদের দৃষ্টিতে অপরাধী।

এদিকে শিমুল ও সোহাগ গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ খুনের ব্যাপারে তারা কিছুই স্বীকার করেননি। নাজমা ও নাজিম উদ্দিনের ব্যাপারেও তারা কিছু বলেননি। এরআগে সাদী এ খুনের ব্যাপারে চাঞ্চল্যের তথ্য দিলেও নাজমা ও নাজিম উদ্দিনের ব্যাপারে সাদীও কিছুই বলেননি। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, স্কুল শিক্ষিকা নাজমা বেগম ও তার বড় ভাই নাজিম উদ্দিনকে কেন এই মামলায় আসামি করা হলো? তাদের স্বজনদের অভিযোগ, একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র চালিয়ে তাদেরকে এ মামলায় আসামি বানিয়েছে। তারা ইকরাম হত্যার প্রকৃত দোষীদের বিচার চান।

অপরদিকে এলাকার লোকজন ইকরামের প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে তারা সোচ্চার। ইকরামের মরদেহ প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে সাংবাদিকদের জানান, ইকরামকে বড় নিষ্ঠুরভাবে খুন করা হয়েছে। এটি নিশ্চিত পেশাদার কিলারের কাজ। এ খুনের ঘটনাটি রহস্যে ঘেরা। মনে হচ্ছে প্রকৃত দোষীদের ধামাচাপা দিতে একটি মহল ঘটনার শুরু থেকেই বিষয়টি ভিন্নভাবে নেওয়ার অপচেষ্টা করছে।

নিহত ইকরামের মরদেহের বর্ণনা দিতে গিয়ে বাবা সহিদুল ইসলাম জানান, ইকরামকে প্রথমে জবাই করা হয়। পরে তার হাত ও পায়ের রগ কাটা হয়। দুই কান ও নাক কাটা হয়। একটি চোখ তুলে নেওয়া হয়। তারপর শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে কাটার পর লাশ বস্তাবন্দি করা হয়।

সরাইল থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো এ প্রতিবেদককে বলেন, ইকরাম হত্যাকাণ্ডটি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে দেখছে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে। এ ঘটনায় নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, এই বিষয়টিও পুলিশ দেখছে। অচিরেই সবকিছু বেরিয়ে আসবে।

উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্ট সকালে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের বারজীবীপাড়ায় খালাত বোন লাভলী বেগমের বাড়ির একটি ঘরের খাটের নীচ থেকে কলেজছাত্র ইকরামের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে ওই এলাকার সহিদুল ইসলামের ছেলে ও সরাইল সরকারি কলেজের প্রথমবর্ষের ছাত্র।

এ জাতীয় আরও খবর

যশোরে বাচ্চাকে মারধর করায় দলবল নিয়ে থানায় হনুমান

‘মন্ত্রী ফোন দিলেই ধরি না, তোমাদের মতো সাংবাদিকদের কাছে কী জবাব দেব?’

মধ্যরাতে বনানীতে ভিসিপুত্রের কাণ্ড!

যুদ্ধ শুরু হলে তার কোন সীমানা থাকবে না: জারিফের হুঁশিয়ারি

আল্লাহ ও ইসলামকে নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি করে প্রভাষক

৫৪ বছর পর চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-দার্জিলিং ট্রেন

সরাইলে আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, সম্মিলিত নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ সমাবেশ

চার ক্লাবে মিলল টাকা, মদ, সিসা, ক্যাসিনো-জুয়ার সামগ্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক ব্যবসায়ী, পাচারকারীদের বাড়ি চিহ্নিতকরণ শুরু

পাকিস্তানে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২৬

জয়নাল-ফারুকের ভয়ঙ্কর তথ্য : রোহিঙ্গা এনআইডি তৈরিতে ইসির ২০ জন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিভাইস ব্যাপ ও মাদক কেমিক্যালসহ আটক ২ জনকে দন্ড