শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যা, ঘাতক গণপিটুনীতে নিহত

news-image

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গায় দুর্বৃত্তের উপর্যপুরী ছুরিকাঘাতে হাসান আলী (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে এক স্কুলছাত্রীসহ আরও দুই জন। এ সময় গ্রামবাসীর প্রতিরোধে গণপিটুনীতে দুর্বৃত্ত আকবর আলীও নিহত হয়েছে। শনিবার (২৪ আগস্ট) ভোরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমিরপুর গ্রামে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহত হাসান আলী আমিরপুর গ্রামের হামিদুল ইসলামের ছেলে। গণপিটুনীতে নিহত আকবর আলী দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর মদনা গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকাতে সবজির ব্যবসা করত বলে জানিয়েছে গ্রামবাসী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমিরপুর গ্রামের পঙ্গু হামিদুল ইসলামের বাড়িতে শনিবার ভোররাতে আকবর আলী নামে এক দুর্বৃত্ত হানা দেয়। এ সময় ওই দুর্বৃত্ত হামিদুল ইসলামের স্কুল পড়ুয়া নাতনীর ঘরে ঢুকে ধর্ষণের অপচেষ্টা চালায়। স্কুলছাত্রীর আত্মচিৎকারে পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ করতে গেলে দুর্বৃত্ত আকবর আলীর উপর্যপুরী ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় গৃহকর্তার ছেলে হাসান আলী (২৬)। গুরুতর আহত হয় ওই স্কুলছাত্রীসহ তার পঙ্গু নানা হামিদুল ইসলাম।

গ্রামবাসী টের পেয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলে হামলাকারী আকবর আলীকে আটক করে গণপিটুনী দিলে ঘটনাস্থলেই তারও মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার অতি. পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার, মো. কলিমুল্লাহসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা গুরুতর আহত গৃহকর্তা পঙ্গু হামিদুল ইসলাম ও তার স্কুল পড়ুয়া নাতনীকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সকাল ৮টার দিকে নিহত হাসান ও গণপিটুনীতে নিহত আকবর আলীর লাশের সুরাতহাল রিপোর্ট সংগ্রহ শেষে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয় সদর হাসপাতালে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু এহসান মো. ওয়াহেদ রাজু জানান, উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের কারণে পঙ্গু হামিদুল ইসলামের শরীরে অসংখ্য ক্ষত হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী রেফার্ড করা হয়েছে। আহত স্কুলছাত্রীকেও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফকরুল আলম খাঁন জানান, গণপিটুনীতে নিহত আকবর আলীর স্বভাব চরিত্র খারাপ ছিল। স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের জন্যই মূলত সে ওই বাড়িতে হানা দেয়। স্থানীয় গ্রামবাসী এমনটিই তথ্য দিচ্ছেন। আমরা প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে কাজ করছি।