সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মেঘনায় ভরা মৌসুমে মাছের খরা

news-image

গোলাম সারোয়ার, আশুগঞ্জ প্রতিনিধি:পানিতে টইটুম্বুর মেঘনা। মাছের ভরা মৌসুম চলছে। কিন্তু মাছের দেখা নেই। ভরা মৌসুমেও মেঘনায় যেন মাছের খরা চলছে। আগে যে পরিমাণ মাছ জালে ধরা পড়তো এখন তার সামান্যতম ও ধরা পড়ে না। এখন ছোট-বড় সব নদীতে দলবেঁধে নৌকা ও জাল দিয়ে মাছ ধরে, কিন্তু সেই তুলনায় জালে মাছ ধরা পড়ে না।

কয়েকবছর আগেও পাঁচ-সাতজন জেলে নৌকাপ্রতি তিন-চার হাজার টাকার মাছ ধরতো সেখানে এখন জেলেরা সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টানাজাল, বেড়জাল পানিতে ফেলে দেড়-দুই হাজার টাকার মাছও পায় না। বাধ্য হয়ে অনেক জেলেই মাছ ধরা ছেড়ে অন্য পেশায় কর্মসংস্থানের সন্ধান করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদীতে ভরা মৌসুমে পানি আছে ঠিকই কিন্তু জেলেরা মাছে পাচ্ছে না। আর যতোটুকু পাচ্ছে তাও না পাওয়ার মতই। মেঘনা নদীর মাছ দিয়ে পরিবারের ভরণ পোষণ করানো অনেক জেলের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত জেলেরা নদীতে জাল ফেলতেই থাকে কিন্তু আশানুরূপ মাছ জালে ধরা আটকা পড়ে না।

আশুগঞ্জের মেঘনা নদীতে জেগে উঠা শ্যামল চরে প্রায় দুই শতাধিক জেলে পরিবারের বসবাস। যাদের পেশা নদীতে মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহ করা। আর তারা সবাই এই মেঘনা নদীতেই মাছ ধরে। কিন্তু নদীতে মাছ ধরে পরিবারের ভরণ-পোষণ যেন অসম্ভব!

আশুগঞ্জের চর সোনারমপুরের জেলে শ্যামল বর্মন ও গোপাল বর্মন। শ্যামল বর্মন আশুগঞ্জের চর সোনারামপুরে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন আর মেঘনা নদীতে মাছ ধরছেন জন্মের পর থেকেই। হতাশামিশ্রিত কণ্ঠে তিনি জানান, বাপ-দাদার পেশা ছাড়তেও পারি না! বাঁচাও কষ্টকর।
জেলে প্রদীপ চন্দ্র দাস বলেন, আগে বর্ষার সময় সন্ধ্যা রাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদীতে জাল বাইস(নদীতে মাছ ধরা) করলে নৌকার ডেরা বোয়াল, চিতল, কাল বাউস, বামট, পাঙ্গাস, সাইপ্লা, বাছা, গাউড়া, পুটি, বাইলা, টুইট্টা, মিরহা, বোয়াল, চিতল, বামটসহ আরো অনেক জাতের মাছে ভইরা যাইতো। কিন্তু এখন সারারাত নদীতে জাল বাইস কইরাও ( নদীতে মাছ ধরে) শুধু সাইপ্লা, কাজলি, বাছা আর গুইড়া ইছা ছাড়া আর কিছুই ধরা পড়ে না। তাছাড়া অহন মাছের চেয়ে জেলেদের পরিমাণ বেড়ে গেছে। তাই তেমন মাছও পাওয়া যায় না।

মেঘনা নদীতে মাছ ধরে ভৈরবের মাছের আড়তে বিক্রি করেন জোটন দাস ও পবা চন্দ্র বর্মন। তারা জানান, আগে নদীতে থেকে মাছ ধরে ভৈরবের আড়তে এক-দুই মণ মাছ বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন সারারাত মাছ ধরে তিন-চার কেজিও বিক্রি করতে পারি না। তবে আগে মাছ বেশি ধরলেও তেমন দাম পেতাম না। কিন্তু এখন মাছের দাম ভাল হওয়াতে কম ধরলেও কিছুটা পুষে যায়।

আশুগঞ্জ বাজারে কয়েকজন মাছ বিক্রেতা বলেন, মাছ পানিতে থাকবো কিভাবে। নদীতে, বিলে, হাওরে পানিতে কোন মাছ ছাড়া হয় না। আর কারেন্ট জালের কারণে ছোট থাকতেই মাছগুলো ধরা পরে। তাই দিনে দিনে দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। আমরা ভাল মাছ কিনতে পারি না। তাই ক্রেতাদের কাছেও বিক্রি করতে পারি না।

মৎস্য অধিদফতরের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক আনোয়ার হোসেন দেশকালকে জানান, কিছু অসাধু জেলে আছে যারা অবাধে মাছ নিধন করে। সময় না বুঝে ডিমওয়ালা মাছ ও ছোট মাছ নিধন করার কারণেই নদীতে মাছ উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তাছাড়া দিন দিন নদী ও খালগুলো অবাধে ভরাট করা হচ্ছে। আমরা মৎস্য অধিদফতরের আওতায় প্রতি বছরই নদীতে ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ বৃদ্ধির জন্য পোনা অবমুক্ত করে থাকি।