সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শাড়ির চেয়ে জিন্স বেশি যৌ’ন আবেদনময়ী

news-image

আধুনিক পরিসংখ্যান অবশ্য বলছে, জিন্স পরিহিত নারীরা বেশি যৌ’ন আবেদনময়ী। তবে স্থানভেদে এই আবেদন পাল্টে যেতে পারে। কারণ সব সমাজে, এমনকি প্রাণিজগতে সব বিপরীত লিঙ্গের কাছে পরষ্পরের যৌ’ন আবেদন কম নয়- সে পোশাক পরুক আর না-ই পরুক।

যৌ’ন আবেদন হারিয়ে গেলে তো পৃথিবীর জীবনই খতম। নারীর এমন দেমাগ আর পুরুষ কাহাতক সহ্য করবে। কবিরা কি নিয়ে কবিতা লিখবে। নারীবাদিতারও অবসান ঘটবে। যৌ’ন আবেদন হারিয়ে গেলে নারী আর পুরুষ আলাদা চিহ্ন নিয়ে তখন তৃতীয় লিঙ্গের মাসির আশ্রমে বাস করবে।

সৌন্দর্য আর যৌ’নতার মধ্যে মূলত কোনো পার্থক্য নেই। কৈশোরে লরেন্সের একটা লেখা পড়েছিলাম, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় লাবণ্য বনাম যৌ’নতা। যার লাবণ্য যত বেশি সে তত যৌ’ন আবেদনময়ী। সকলেই জানে, নারীর স্তন শিশুর খাদ্যভাণ্ডার, নারীর জরায়ু শিশুর বেড়ে ওঠার কারখানা, নারীর মূত্রদ্বার শিশুর পৃথিবীর প্রবেশ পথ- সবই প্রকৃতির নিজস্ব প্রয়োজনে। কিন্তু এ সব নিরস শরীরী বস্তুসমূহ তো তখনই মাহাত্ম্য লাভ করে যখন বিপরীত লিঙ্গের কাছে যৌ’ন আবেদনময়ী হয়ে ওঠে।

মানুষ সমুদ্র ও পাহাড় দেখতে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে যত না ভ্রমণ করে তারচেয়ে বেশি ভ্রমণ করে নারীর সৌন্দর্য দেখতে। পৃথিবীর যত নামী মিউজিয়াম, আর্ট গ্যালারি সবই তো যৌ’ন আবেদনময়ী নারীদের ভাস্কর্য আর চিত্রকর্মে ভরপুর। আর যে সুন্দর দর্শনে বিপরীত লিঙ্গে মনে আন্দোলন উপস্থিত না হলো- সেই সৌন্দর্য দিয়ে আমি কি করব। তবু সৌন্দর্যের ধারণা মনের কাছে, তবে সে মন নিরপেক্ষ নয়, সে মন নির্মাণে সমাজ একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

আফ্রিকার বিয়ের বাজারে মেয়েদের মূল্য নির্ধারণ হয় শরীরের মাংসের পরিমান দেখে, আর ইউরোপে জিরো ফিগার। অধিকাংশ ইউরোপীয় মেয়েরা বুকের ক্লিভস আর উরুযুগল নগ্ন রাখে। আরবীয় পুরুষরা হয়তো বোরখার সাইজ দেখে এর পরিমাপ করে থাকে। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ একটু পুরনো দিনের মানুষ, তার তারুণ্যে যে সব শাড়ি পরিহিত যৌবনবতী নারীর স্মৃতি আছে- এই লেখা হয়তো তারই স্মৃতিচারণ।

কারণ বর্তমান পরিসংখ্যান ভিন্ন কথা বলছে, শাড়িতে নয়, জিন্সে নারী আরো আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। দেশে দেশে নারীদের পোশাকের বৈচিত্র্য এমনকি বাঙালি মেয়েদের পরিবর্তিত পোশাকেও তাদের কম যৌ’ন আবেদনময়ী মনে হয় না।