সোমবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এরশাদের শূন্য আসনের মনোনয়ন নিয়ে পরিবার ও দলের দ্বন্দ্বে রংপুরে জাতীয় পর্টিতে ভাঙ্গনের সুর

news-image

রংপুর ব্যুরো : আমরা ওয়েটিং লিস্টের প্রার্থী। মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশও নেই। তবে ১০ শতাংশ আশা নিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। তবে চারিদিকে যা শুনছি তাতে মনে হয় রংপুর সদর আসনের মনোনয়ন দলের নয় এরশাদ পরিবারের সদস্যরা পাচ্ছেন। পরিবারের কেউ মনোনয়ন পেলে এটা দলের জন্য মঙ্গল হবেনা। কথাগুলো এরশাদের শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারি প্রেসেডিয়াম সদস্য ও জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীরের।

আরেক মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারি মনোনয়ন প্রত্যাশি মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৯০ সালে এরশাদের মুক্তির আন্দোলন রংপুরের মানুষ করেছে। এরশাদের মুক্তির জন্য তার পরিবারের কেউ মাঠে নামেনি। দীর্ঘদিন থেকে জাতীয় পার্টি করি। এর পরেও দল যদি আমাকে মূল্যায়ন না করে পরিবারের সদস্যকে মনোনয়ন দেয় তা রংপুরবাসি মেনে নিবে না। পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলেও দলের জন্য মারাত্মক পরিনতি ডেকে আনবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন এরশাদের পরিবার রংপুরের মানুষকে কৃতদাস ভাবছে। যাকেই মনোনয়ন দিবে সেই বিজয়ী হবে এমনটা ভাবছে এরশাদ পরিবার। আসলে এবার তা হবে না। রংপুরের মানুষ এরশাদ পরিবারের কাউকে মেনে নিবেনা।

রংপুর সদর আসনের নির্বাচনের দিনক্ষন যত এগিয়ে আসছে ততই জাতীয় পার্টির নেতাদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একাধিক জাপা নেতাদের সাথে কথা বলে যে টুকু জানা গেছে তা হল,দলের এবং স্থানীয় নেতাদের বাইরে এই আসনে এরশাদ পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে দলের ভাঙ্গন কেউ ঠেকাতে পারবেনা। সেই সাথে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এবার এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আওয়ামী লীগ।

জাপার একাধিক নেতা মনে করেন, রংপুর সদর আসনে প্রার্থী নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দলে কোন্দল প্রকোট হয়ে উঠছে। কোন্দল ঠেকাতে না পারলে খোদ রংপুরেই জাপা তার অস্তিত্ব হারাবে। রংপুরে জাপা নেতাকর্মীরা মনে করেন নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণে ভুল করলে দলের ভাঙ্গন অনিবার্য। এরশাদের পরিবারের কেউ এই আসনে নির্বাচন করলে দলে বিদ্রোহ দেখা দিবে। বৃহস্পতিবার এরশাদের ভাগনি টুম্পা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করায় খুশি হতে পারেননি রংপুরের তৃণমূল নেতা কর্মীরা।

জাতীয় পার্টির একাধিক নেতাদের মতে,রংপুর-৩ আসনটি এরশাদের পরিবার নিজেদের মধ্যে রাখতে চায়। এবিষয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মাদ কাদের ও বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে রওশন পুত্র সাদ এই আসনে প্রার্থী হবে। এছাড়াও পরিবারের মধ্যে এরশাদের ভাতিজা সাবেক এমপি আসিফ শহরিয়ার, জি এম কাদেরের স্ত্রী শরীফা কাদের, এরশাদের ভাগ্নি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলুর স্ত্রী টুম্পা’র নাম শোনা যাচ্ছে। অনেকে মনে করেন সাদকে প্রার্থী করা হলে জি এম কাদেরের সাথে রওশান এরশাদের দূরত্ব কমে যাবে। দেবর ভাবির সম্পর্ক ঠিক রাখতে আসনটি পরিবারের সদস্যের কাছে থাকাটা যুক্তিযুক্ত মনে করছেন অনেকে।
এদিকে রংপুর-৩ আসনের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীসহ দল থেকে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও একাধিক কাউন্সিলর স্বাক্ষরিত একটি আবেদন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই আবেদনে বলা হয়েছে রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে রংপুর মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসিরকে দলীয় মনোনয়ন দিতে।

এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতবার পর্যন্ত জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির আহমেদ, জেলা জাপার প্রেসেডিয়াম সদস্য শিল্পপতি ফখর উজ জামান জাহাঙ্গির, ও এরশাদের ভাগ্নি মেহেজেবুন নেছা টুম্পা। মেহেজেবুন নেছা এরশাদের বোন মেরিনা রহমানের মেয়ে। মেরিনা গত সংসদে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন। মেহেজেবুনের বাবা আসাদুর রহমানও সংসদ সদস্য ছিলেন। এরশাদের পরিবারের লোকেরা যেমন চান উপনির্বাচনে এরশাদের আসনটিতে তাঁদের পরিবারের কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোক, একইভাবে স্থানীয় নেতাও চান এরশাদ পরিবারের বাইরে অন্য কেউ এই আসনের হাল ধরুক। এই দ্ব›েদ্ব রংপুর থেকে দলের ভাঙ্গন শুরু হবে বলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক এমএ রাজ্জাক খান সরাসরি না বললেও ইঙ্গিতে এরশাদ পরিবারের সদস্য মনোনয়ন পেতে পারে বলে মন্তব্য করে বলেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় দলের কোন ক্ষতি হবেনা। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবার সদর আসনটি জাতীয় পার্টির হাত ছাড়া হতে পারে। কারণ এখানে এবার সরকারদলীয় প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবেন।

এদিকে এরশাদের ভাতিজা সাবেক এমপি আসিফ শাহরিয়ার এরই মধ্যে বিশাল শো ডাউন দিয়ে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে জানান দিয়েছে। আসিফ বলেন, স্থানীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য কাউকে প্রার্থী করলে জাপার তৃণমূল নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবে না। বারবার ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এবার ভুল সিদ্ধান্ত নিতে দেয়া হবে না। যাকে কেউ চিনেন না তাকে কেন মানুষ ভোট দিবে। তিনি মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করবেন বলে জানান।

সিটি করপোরেশনের ২৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসন। ১ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা কথা রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৪২ হাজার ১৪৯ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার দুই লাখ ২০ হাজার ৭১৫ জন এবং পুরুষ ভোটার দুই লাখ ২১ হাজার ৪৩৪ জন। ১৭৫টি কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব ভোটার ইভিএমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এ জাতীয় আরও খবর

যশোরে বাচ্চাকে মারধর করায় দলবল নিয়ে থানায় হনুমান

‘মন্ত্রী ফোন দিলেই ধরি না, তোমাদের মতো সাংবাদিকদের কাছে কী জবাব দেব?’

মধ্যরাতে বনানীতে ভিসিপুত্রের কাণ্ড!

যুদ্ধ শুরু হলে তার কোন সীমানা থাকবে না: জারিফের হুঁশিয়ারি

আল্লাহ ও ইসলামকে নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি করে প্রভাষক

৫৪ বছর পর চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-দার্জিলিং ট্রেন

সরাইলে আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, সম্মিলিত নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ সমাবেশ

চার ক্লাবে মিলল টাকা, মদ, সিসা, ক্যাসিনো-জুয়ার সামগ্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক ব্যবসায়ী, পাচারকারীদের বাড়ি চিহ্নিতকরণ শুরু

পাকিস্তানে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২৬

জয়নাল-ফারুকের ভয়ঙ্কর তথ্য : রোহিঙ্গা এনআইডি তৈরিতে ইসির ২০ জন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিভাইস ব্যাপ ও মাদক কেমিক্যালসহ আটক ২ জনকে দন্ড