মঙ্গলবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রংপুরে রেভন এগ্রোর আগাছা নাশক প্রয়োগে মরে গেছে ধানের ক্ষেত : কৃষকের সর্বনাশ

news-image

রংপুর ব্যুরো : রংপুরের বদরগঞ্জে রেভন এগ্রো কেমিক্যাল কোম্পানির পেরাটক নামের আগাছা নাশক প্রয়োগে সর্বনাশের মুখে পড়েছেন দুইজন কৃষক। আগাছা দমনের বিষ প্রয়োগ করায় এক বিঘা ৩০ শতাংশ আমন ধানের ক্ষেত মরে গেছে। আমনের ক্ষেতের এমন করুণ পরিণতিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ঘটনাটি ঘটেছে বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ছোট হাজীপুর ও একই ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামে। ভুক্তভোগি কৃষক ফারুক হোসেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনও ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে রেভন এগ্রোর রংপুর বিভাগীয় বিক্রয় ব্যবস্থাপক বলেন কোন ব্যবসায়ী ওই কৃষকদের কাছে ঔষধ বিক্রি করেছে তা তার জানা নেই।

অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বদরগঞ্জ পৌরশহরের কীটনাশক ব্যবসায়ী মোরশেদ সারবিতান থেকে রেভন কম্পানীর পেরাটক নামে ঘাস (আগাছা) দমনের ঔষধ কেনেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ছোটহাজীপুর ফকিরগঞ্জ গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন(৪২)। পরের দিন সকালে তিনি প্রায় এক বিঘা জমিতে আগাছা দমনের ওই ঔষধ প্রয়োগ করেন। এতে ঘাস দমনের সঙ্গে আমন ধানক্ষেত মরে যায়। প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে তাঁর। একই অবস্থা দেখা যায়, ওই ইউনিয়নের ওসমানপুর ডাকরাপাড়া গ্রামের কৃষক সাদেকুল ইসলামের। তিনিও গত এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় এক কীটনাশক ব্যবসায়ীর পরামর্শে ৩০ শতাংশ জমিতে ঘাস মারার ঔষধ ছিটিয়ে দেন। কিন্তু ঘাসের সঙ্গে আমন ধান ক্ষেত মরে যায়।

ভুক্তভোগি কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, ‘ঘাস নিধনের জন্য কীটনাশক ব্যবসায়ী ঈমান আলীর পরামর্শ নেই। তিনি আমাকে রেভন কোম্পানির প্যারাটক নামে ঘাস মারার ঔষধ দেয়। পরের দিন জমিতে ঔষধ ছিটিয়ে দিলে ঘাসের সঙ্গে ধানক্ষেতও পুড়িয়ে যায়। অথচ কীটনাশক ব্যবসায়ী আমার কাছে নাকি ঔষধ বিক্রি করে নাই। তিনি এখন অস্বীকার করছে।
ওই ইউনিয়নের ওসমানপুর ডাকরাপাড়া গ্রামের অপর কৃষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, খরচ বাচানোর জন্য আগাছা নিধনের ঔষধ দিলাম। এখন দেখি গোটা ধান ক্ষেত শুকিয়ে লালবর্ণ ধারণ করেছে।

কীটনাশক ব্যবসায়ী ঈমান আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এটি ঝাড়-জঙ্গল মারার ঔষধ। আমি কোন কৃষকের কাছে ধানের ক্ষেতে আগাছা মারার ঔষধ বিক্রি করি নাই। কৃষকরা কার কাছ থেকে ঔষধ কিনেছে তারাই বলতে পারবেন।’

রেভন এগ্রো কেমিক্যালের রংপুর বিভাগীয় বিক্রয় ব্যবস্থাপক আল আরাক্কা মুঠোফোনে বলেন, ‘ওই ঔষধ দিয়ে ঝাড়-জঙ্গল মারা হয়। ধান ক্ষেতে প্রয়োগ করার সুযোগ নেই। ছয় ঘণ্টার মধ্যে ধান ক্ষেত মরে যাবে। এখন কোন ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছে ওই ঔষধ বিক্রি করেছে তা আমার জানা নেই।’

বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মো. জোবাইদুর রহমান বলেন, ‘মৌখিকভাবে বিষয়টি জানার পর ধান ক্ষেত দেখার জন্য একজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

ফাঁ’সির রায় শুনে হাসলেন আ’সামি, আর কাঁদলেন বাদী

বাংলাদেশ থেকে আরও জনশক্তি নিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

পতন হইলে বউ ছাড়া কেউ পাশে থাকে না : যুবলীগ সভাপতি

এবার পুজায় বাজার মাতাচ্ছে ‘রানু’ শাড়ি

প’রকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্ত্রীকে পোড়াল স্বামী!

একাধিক ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত, লাপাত্তা মাদরাসা শিক্ষক

দুই বছর ধরে মেয়েকে শিকলে বেঁধে ভিক্ষা করছেন মা

সৌদিতে হামলায় ইরানের জড়িত থাকার প্রমাণ দেখালো যুক্তরাষ্ট্র

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাবে যে পাঁচটি খাদ্যাভাস

জব্দ করা ই’য়াবা ভাগ করে নিচ্ছিলেন ৫ পুলিশ

রিফাত-মিন্নির নতুন ভিডিও যে তথ্য দেয়

রোমের রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া অর্থ ফেরত দিয়ে আলোচিত বাংলাদেশী তরুণ