শনিবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাতের খাবার খেতে গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে মিন্নি

news-image

টানা ৪৮ দিন কারাভোগের পর গতকাল মঙ্গলবার বরগুনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান দু’র্বৃত্ত’দের হা’মলায় নি’হত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। সেখান থেকে বাবা মোজাম্মেল হক কিশোরের সঙ্গে বাসায় যান তিনি।

এরপর বিকেল থেকে আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষিদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। পরে রাতে যখন মিন্নি খেতে যান তখন হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিনি। স্বামী রিফাত শরীফের কথা মনে হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানান মিন্নির বাবা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিন্নির বাবা বলেন, ‘জামিনের কপি বরগুনার আদালতে পৌঁছেছে শুনে মিন্নির মা মেয়ের প্রিয় খাবার (কবুতরের বাচ্চা) রান্না করে রেখেছিল। কিন্তু ও (মিন্নি) একটু মুখে দিতেই তা খেতে পারেনি।

মিন্নির বাবা আরও বলেন, ‘গতকাল বাসায় আসার পর সারা রাত একটুও ঘুমাতে পারেনি মিন্নি। রিফাত শরীফের কথা মনে করে শুধুই কান্নাকাটি করেছে। এর আগে গত ২৯ আগস্ট মিন্নিকে দুই শর্ত দিয়ে অন্তর্বর্তী স্থায়ী জামিন দেন হাইকোর্ট। সেই অন্তর্বর্তী জামিন আদেশের স্বাক্ষরিত কপি গতকাল বেলা ১২টার দিকে বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসে পৌঁছায়। এরপর বিকেলে মুক্তি পায় মিন্নি।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর বলেন, ‘পুলিশ মিন্নির ওপর যে নির্যা’তন করেছে তার কারণে তার শ’রীরের ব্য’থা এখনো কমেনি। রাতে ঘুমাতে পারেনি ব্য’থায়। ওষুধ খাওয়ার পরেও ব্য’থা কমেনি। তিনি বলেন, ‘কান্নাকাটি করে মিন্নির চোখ-মুখ শুকিয়ে গেছে। তাকানো যায় না ওর দিকে। আমি দু -এক দিনের মধ্যেই ওকে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রওনা হব।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে দুর্বৃত্তরা মিন্নির স্বামী রিফাত শরীফকে প্র’কা’শ্যে কু’পি’য়ে গু’রুতর আ’হত করেন। ওইদিন বিকেলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা যান মিন্নির স্বামী।