সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসে টেবিলে পা তুলে দিলেন জমিদাতা

news-image

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ৪৭ নম্বর মধ্য শিয়ালকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা মোহাম্মদ ইউনুস মোল্লার অত্যাচারে শিক্ষকরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। গত কয়েকদিন ধরেই তিনি স্কুলের শিক্ষকদের ওপর নানা ধরনের অযাচিত খবরদারি করে আসছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পরে বিদ্যালয়ের দাতাসদস্য মোহাম্মদ ইউনুস মোল্লা স্কুলে আসেন। স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসে টেবিলের ওপর পা তুলে শিক্ষকদের নানারকম আদেশ নির্দেশ করতে থাকেন। এ নিয়ে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।একপর্যায়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিনকে জুতা নিয়ে মারতে ওঠেন। অন্য শিক্ষকবৃন্দ এ ঘটনায় হতবাক হয়ে যান।

সহকারী শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, জমিদাতা ইউনুস মোল্লা বিদ্যালয়ে এসে তার কাছে স্কুলের স্টিল আলমিরার চাবি চান। তিনি চাবি দিতে অস্বীকার করায় তার বিরুদ্ধে ক্ষেপে গিয়ে তাকে নানারকম অ’শ্লীল মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে সে তার পায়ের জুতা খুলে শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের সামনেই তাকে মা’রতে উদ্যত হন।

ইউনুস মোল্লার হুমকি-ধামকির এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের এ অপমানের বিচার চেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজা আক্তার এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এ ঘটনার বিচার দাবি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের জমিদাতা সদস্য মো. ইউনুস মোল্লা বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। তিনি কয়েকদিন আগে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এসে ২ সেপ্টেম্বর তিনি বিদ্যালয়ে আসেন। বিদ্যালয়ে এসেই তিনি শিক্ষক হাজিরা খাতা নিয়ে হাজিরা খাতায় উল্টাপাল্টা মন্তব্য লেখেন। এরপর শিক্ষকদের নানাভাবে ধমকাতে থাকেন।

তিনি বলেন, আমি স্কুলের জমিদাতা সদস্য। এই স্কুল আমার, আমার বাপ-দাদার। আমি যেভাবে যা বলব শিক্ষকদের তা শুনতে হবে। এই বলে শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের আদেশ-নির্দেশ করতে থাকেন।তিনি আরও বলেন, আমি যে ক’দিন বাড়িতে থাকব সে’কদিন প্রতিদিনই স্কুলে আসব এবং আমার কথামতো শিক্ষকদের চলতে হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল হালিম বলেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ছাড়া শিক্ষক হাজিরা খাতায় অন্য কেউ মন্তব্য লেখার অধিকার রাখেন না। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান তিনি।

উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু বলেন, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন, তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।জমিদাতা ইউনুস মোল্লার ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।