সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১২ বছর ধরে শিকলবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন কৃষিবিদ বজলু!

news-image

এখন তার বয়স ৪৮ বছর। ১২ বছর আগে তার পায়ে পড়ানো হয় শিকল। তাই এখনো তাকে দিন কাটাতে হচ্ছে শিকলবন্দী অবস্থায়। কারো সঙ্গে দেখা হলে অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতেন তিনি। এই হলো ১৯৯৬ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি, এজি অনার্স পাশ করা বজলুর রহমানের জীবন। বজলুর রহমান ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা ধীতপুর ইউপির টুংরাপাড়া গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একটি ঘরের দরজা খোলা ভেতরে পাতলা কাপড় গায়ে জড়িয়ে শিকলবন্দী বসে রয়েছেন বজলুর রহমান। মেঝের মাঝখানে পুঁতা একটি বাঁকা লোহার সঙ্গে কয়েকটি তালা অনুমান দেড়ফুট লম্বা শিকল পায়ের সঙ্গে লাগানো । ঘরে মধ্যে মলমূত্র ত্যাগ করায় প্রতিদিন ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়।

অপুষ্টিতে ভোগে শরীরে বাসা বেঁধেছে রোগ বালাই। চেহারায় পড়েছে বার্ধক্যের ছাপ। কোনো কিছু জানতে চাইলে প্রলাপ বকেন। স্মৃতিভ্রষ্ট হওয়ায় নিজ সন্তানদের কথাও কিছু বলতে পারেন না।

বজলুর রহমানের বৃদ্ধা মা জানান, প্রায় ২০-২২ বছর আগে তার ছেলে মানসিক ভরসাম্যহীন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করা হয়েছে। কিছুটা সুস্থ্য হওয়ার পর বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর শিফাত ও সুপ্তি নামে দুটি মেয়ে সন্তানের বাবা হন বজলুর রহমান। পুনরায় তার অবস্থা খারাপের দিকে গেলে ৫-৬ বৎসরের মাথায় বজলু ও দুই মেয়েকে ফেলে তার স্ত্রী চলে যায়। সেসময় মস্তিস্ক বিকৃত হওয়ার কারণে নানা রকম তাণ্ডব করায় নিরাপত্তার জন্য ভাইয়েরা তাকে শিকলে বেঁধে ঘরবন্দী করেন। ঘুমান কিভাবে জানতে চাইলে তিনি জানান, হাঁটু ঘেরে মেঝেতে উভো হয়ে কখনো বা বসা অবস্থায়।

চাচাদের তত্ত্বাবধানে দুই মেয়ের মধ্যে লেখাপড়া করার সময়ে সিফাতের বিয়ে দেয়া হয়েছে। বজলুর ছোট মেয়ে সুপ্তি এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

বজলুর সহপাঠী ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক মানিক জানান, ৮৮-৮৯ ব্যাচে তারা দু’জনেই ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি, এজি অনার্স ভর্তি হন। বজলু এ সেকশনে সোহরাওয়ার্দী হলে আর তিনি বি সেকশনে আশরাফুল হক হলে ছিলেন। বজলু লেখাপড়ায় বরাবরই এগিয়ে থাকতো। দেখা হলে অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতেন।সেশন জটের কারণে ১৯৯৬ সনে তারা অনার্স ফাইনাল সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

বজলুর রহমানকে এ অবস্থা হতে উদ্ধার করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে একজন কৃষিবিদকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করবেন সরকারের কাছে এমনিই দাবি এলাকাবাসীর।