সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আপু আমি বউ-মেয়েকে ছাড়া বাঁ’চতে পারবো না, প্লিজ হেল্প মি

news-image

আপু আমার বয়স ২৯। আমি আমার কাজিনকে ছয় বছর আগে লাইক করি এবং প্রপোজ করি। তখন ওর বয়স ১৭। ও একসেপ্ট করেনি। তখন আমিও এই জব করার ভিসা পাই আর চলে যাই। এক বছর পর আমি ওর সাথে ফোনে কন্টাক্ট করি। এক বছর কথা বলার পর ও আমার প্রপোজাল একসেপ্ট করে। আমি যেন খুশিতে পাগল হওয়ার অবস্থা। আপু তিন মাস পর ওকে বিয়ের জন্য পাত্র পক্ষ দেখতে আসে। তখন ও বিবিএ ফার্স্ট ইয়ার। ও আমাকে বললো- যদি কাউকে ওর আব্বু পাকা কথা দিয়ে ফেলে তাহলে আর কিছু করার থাকবে না। আর আমাদের চেয়ে ওদের আর্থিক অবস্থা ভালো। ও ওর আব্বুকে অনেক ভয় পায়। তাই আমাদের রিলেশনশীপের ব্যাপারে বলার সাহস হয়নি। আমিও পারিনি। তা ছাড়া আমি কেবল ক্লাস নাইন পর্যন্ত পড়েছি। তাই ওর বাবা-মা আমাদের সম্পর্ক কখনো মেনে নেবে না। তাই আমি আর ও পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

১৫ নভেম্বর ২০১৩ সালে আমরা পালিয়ে বিয়ে করি। আমি ছুটিতে আসি ওকে যে বিয়ে করব। তা পৃথিবীর কেউ জানত না। বিয়ের দিন ও আর আমি আমাদের মা-বাবাকে এসএমএস এ সব কিছু জানাই। আমার বাবা মা মেনেও নিল। ওর বাবা-মা মানেনি। তিনদিন পর ওর মা আমাদের বাড়িতে আসে। ওকে মারধোর করে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ও যায়নি। তারপর থেকে মাঝে মাঝে ওর মা, বাবা, নানু, মামারা ফোন করে ওকে বলতেন- তুই চলে আয়, তোকে ভালো উঁচু পরিবারে বিয়ে দেবো। জীবনভর সুখে থাকবি। ও বলে- না আমি এখানেই থাকবো। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ আমাদের একটি মেয়ে হলো। আমরা ভেবেছিলাম ওর বাবা মা এখন মেনে নিতে পারে।

১৩ জুন ২০১৬ সালে ওর পাকস্থলীতে পাথর ধরা পড়ে। আমরা মিটফোর্ট হাসপাতালে অনেক বার চেষ্টা করার পর ডাক্তার বলল প্রাইভেট অপারেশন করানোর জন্য। আমাদের আর্থিক সংকট চলছে এখন। তাই আমি বললাম পরে অপারেশন করাব। ও বলল ওর মাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করে। আমি তাই ওকে কিছুদিন বেড়ানর জন্য দিয়ে আসি। কিন্তু ওর মা বাবা কেউ আমাদের ফ্যামিলির কারো সাথে কথা বলত না। ৩০ জুলাই ২০১৬ ও বেড়াতে যাওয়ার পর সাত দিন আমার সাথে কথা বলে আর বলে আমাকে ডিভোর্স দিতে, না হলে ওর বাবা-মা আত্মহত্যা করবে। এরপর থেকে ওর ফোন অফ। আমি ওদের বাড়িতে গেলে আমাকে ওরা গেট থেকে বের করে দেয়।

৮ আগস্ট তারিখে ফার্স্টক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে আমার হাতে ডিভোর্স লেটার আসে। আমি আমার মেয়েকে দেখতে চাই- এ কথা ওর বাবা মাকে বললে উনারা বলে আগে কাবিন নামার তিন লাখ টাকা পে করো, তারপর তোমার মেয়ে তুমি নিয়ে যাও। আপু আমি অনেক অনেক টেনশনে আছি। ক্ষুধা লাগে না, ঘুম হয় না। ১৯ আগস্ট আপু আমি সুইসাইড করার ট্রাই করি। আল্লাহ মাফ করছে। ছাদ থেকে কোনো এক লোক দেখে ফেলে, সে যাত্রায় আমাকে বাঁচানো সম্ভব হয়। আপু আমার জীবনে আমি এত টেনশন করিনি। আপু, আমি আমার বউ আর মেয়েকে ছাড়া বাঁ’চতে পারব না। প্লিজ হেল্প মি!

প্রশ্নটি আমাদের ফেসবুক পেজে করেছেনঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তরুণ।

পরামর্শঃ ভাই রে, আপনাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমার সত্যই নেই। এত অল্প বয়সে জীবনের এত কঠোর বাস্তবতা, সম্পর্কের এত কুৎসিত রূপ আপনাকে দেখতে হচ্ছে- এটা আসলেই ভেঙে পড়ার মত একটি বিষয়। আর এসব নিয়ে ভেঙে পড়াটাই খুব স্বাভাবিক। আমি তাই আপনাকে কোন সান্ত্বনা দেব না, আপনাকে কিছু বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেব। পরামর্শগুলো প্রথমে আপনার ভালো না লাগলেও আবেগ ও শোকের প্রথম ধাক্কাটা কেটে যাবার পর যখন ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করবেন, তখন বুঝতে পারবেন যে এতে আপনার নিজেরই উপকার হবে।

দেখুন ভাই, মাঝে মাঝে জীবনে এমন কিছু সময় এসে উপস্থিত হয়, যখন আমাদের বাস্তবতা মেনে নেয়া ছাড়া আর কোনই উপায় থাকে না। আপনার জীবনে এটা ঠিক তেমনই একটি সময়। কারণ, কেউ যদি কাউকে ভালো না বাসে, কেউ যদি কারো সাথে বাস করতে না চায়- তাঁকে তো জোর করে ধরে রাখা যায় না! আপনি ভুল করেছেন, সেটা বলা যাবে না। কারণ অনেকেই তো পরিবারের অমতে বিয়ে করে আর বিয়ে করে ভালোও থাকে। ভুল করেছেন আপনার স্ত্রী আর সেই ভুলের মাসুল এখন আপনাকে দিতে হচ্ছে। তিনি আবেগের বসে ভুল করেছেন, আন্দাজও করতে পারেননি যে জীবন কত কঠিন। বাস্তবতার ছোবলে এখন যখন আর্থিক কষ্ট ফেস করতে হচ্ছে, তাঁর মন ঘুরে গিয়েছে। তিনি এখন মা বাবার কাছে আরামের জীবনে ফিরে যেতে চাইছেন, আপনার সাথে থাকতে চাইছেন না। আপনার ভালোবাসার চাইতে তাঁর কাছে টাকা পয়সার আরামটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু বছর পর হয়তো দেখবেন তিনি অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখেও আছেন। এখন আপনি নিজেই ভেবে দেখুন ভাই, এই স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে আপনি কি নিজেও সুখে থাকতে পারবেন? ধরুন কোনভাবে বুঝিয়ে নাহয় স্ত্রীকে ফেরিত নিয়েই এলেন জীবনে। কিন্তু যে স্ত্রীর মন পেতে টাকা পয়সাই মূল অবলম্বন, সেই স্ত্রীর সাথে কী আজীবন সুখে থাকা সম্ভব বলুন? আর যেহেতু লিখেছেন যে এখন আপনাদের আর্থিক সমস্যা চলছে, সেখানে স্ত্রীকে ফেরত আনলেও তো এই টাকার কারণে নিত্যদিন সংসারে অশান্তি লেগেই থাকবে!

একই কথাটা আপনার বাচ্চাটার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আপনার বাচ্চাটা এখনো শিশু ভাই, মাকে ছাড়া থাকা ওর পক্ষে এখনোই সম্ভব না। তাছাড়া একটি বাচ্চাকে ভালমতন মানুষ করতে গেলে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। যেখানে আপনি টাকার অভাবে স্ত্রীর অপারেশন করাতে পারেন নি বিধায় স্ত্রী ডিভোর্স নোটিস পাঠিয়েছে, সেখানে বাচ্চাটিকে এখনোই নিজের কাছে নিয়ে আসাটা কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলুন? বাচ্চাটা তো কষ্ট পাবেই, আপনি নিজেও কষ্ট পাবেন। বরং বাচ্চাটা আপাতত মায়ের কাছেই থাকুক, কেননা এই মুহূর্তে কোর্টে কেস করেও কোন লাভ হবে না। আদালতও বাচ্চাকে মায়ের কাছেই রাখতে দেবে। আপনি বরং সবকিছু বাদ দিয়ে নিজের আর্থিক অবস্থা ফেরানর চেষ্টা করুন। বোকামি করে বিদেশ থেকে চলে এসে সবচাইতে বড় ভুলটা করেছেন। একটা জিনিস মনে রাখবেন ভাই, যার টাকা আছে, তাঁর সব আছে। তাই সবার আগে নিজের আর্থিক অবস্থাটাই মজবুত করতে হবে।

আত্মহত্যা কোন সমধান না। কখনো হতে পারে না। আজ আপনি মরে যাবেন, কিছুদিন মা বাবা কাঁদবেন, তারপর আস্তে আস্তে সবাই ভুলে যাবে। এটাই দুনিয়ার নিয়ম। এটাই দুনিয়ার রীতি। তাই আপনি আজ মরে গেলে ক্ষতি শুধু আপনার একারই ভাই, আর কারো কিন্তু না। স্ত্রীর এই প্রতারনাকে জীবনের একটা চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিন, নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করে এমন অবস্থায় চলে যান যেন স্ত্রীও আপনাকে দেখে ছুটে আসতে চায় আর তখন যেন আপনি স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেয়ার যোগ্যতা রাখেন। মেয়েটিকে যেন একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ দিতে পারেন। টাকা হলে নিজের মেয়েকে নিজের কাছে এনে মনের মত মানুষ করবেন, এটাই হোক আপনার জীবনের লক্ষ্য।

এ জাতীয় আরও খবর

চু’রি করতে এসে ভাত রান্না করে খেয়েছে চোর!

অন্ধকার ঘরে ২৫ বছর ধরে শিকলবন্দী রতন

যৌ’নপল্লীতে প্রভা-মৌটুসী!

মেডিকেল শিক্ষার্থীর প্রেমের ফাঁদে পোল্যান্ড প্রবাসী, খুইয়েছেন ১০ লাখ

মাত্র ২২ সেকেন্ডে মোটরসাইকেল চু’রি!

অসাধারণ এক স্ন্যাপশট, চিত্রগ্রাহকের সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা

মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে পালালো মেয়ে!

মোহাম্মদপুরে আল্লাহর ৯৯ নাম সংবলিত স্তম্ভ নির্মাণ

প’তিতাবৃত্তিতে রাজি না হওয়ায় মেয়েকে নির্দয়ভাবে মারল বাবা!

শিক্ষার্থীদের সামনেই হাতুড়ি দিয়ে মোবাইল ফোন ভাঙলেন অধ্যক্ষ!

নকিয়া-স্যামসাং মোবাইল কম দামে বিক্রি করছে ২ চীনা নারী

এরা শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপ: শেখ হাসিনা