বুধবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নিশ্চয় আল্লাহপাক তাঁর বান্দাকে ক্ষমা করে দেন

news-image

ইসলাম ডেস্ক- ‘কুল ইয়া ইবাদিয়াল লাজিনা আশরাফু আলা আনফুসিহিম লা-তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহ ইন্নাল্লাহা ইয়াগফিরুজ জুনুবা জামিয়া ইন্নাহু হুয়াল গাফুরুর রাহিম’ অর্থাৎ ‘বলে দিন হে আমার বান্দারা তোমরা যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ তারা আল্লাহর রহমতপ্রাপ্তি থেকে নিরাশ হইয়ো না।

নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গোনাহ মাফ করবেন, তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা জুমার আয়াত-৫৩)। সহিহ হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) সূরা জুমারের এ আয়াতটি সারা বিশ্বের মানুষের জন্য সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক মর্মে অভিহিত করেছেন। আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বিপথগামী বান্দাদের তাঁর কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য বলেছেন।

ক্ষমাপ্রার্থী যদি আল্লাহর আজাবের ভয়ে ভীত হয়ে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য তার জীবনে ঘটে যাওয়া কবিরা, সগিরা, ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত, জ্ঞাত-অজ্ঞাত প্রকাশ্য ও গোপনীয় যে কোনো গোনাহর জন্য ক্ষমা চায় তাহলে আল্লাহপাক তাকে করুণা করবেন। বান্দাদের ক্ষমা করে দেবেন বলে ওয়াদা করেছেন। কারণ মানুষকে তিনি আশরাফুল মাখলুকাত অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, তাই তিনি তাদের সহসা বেইজ্জতি করতে চান না। তাই তিনি তাদের জন্য তাঁর ক্ষমার দ্বার উন্মুক্ত রেখেছেন।

মানবজাতির মধ্যে আমরা কি কেউ তার ডাক শুনছি? আমাদের মধ্যে যারা ধর্মীয় জ্ঞানে গুণী, যাদের ওপর দায়িত্ব রয়েছে আমাদের সতর্ক করার। তারা এ দায়িত্ব পালন করছেন কিনা ভেবে দেখার সময় এসেছে। আমাদের রব আল্লাহ কত মহান ভেবে দেখা যাক। একজন বিধর্মী, কাফের না মুশরেক, খ্রিস্টান, ইয়াহুদি নাসারা না অন্য কোনো ধর্মাবলম্বী হোক না কেন সে যদি তার আগের ধর্ম ত্যাগ করে আল্লাহর একাত্ববাদে বিশ্বাসী হয়ে বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) কে নবী বলে স্বীকার এবং আখেরাত দিবসের ওপর বিশ্বাস রেখে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সকালে পাঠ করে : ওই দিন জোহরের নামাজের ওয়াক্ত হওয়ার আগে মৃত্যুবরণ করেন তাহলে আল্লাহপাক তাকে জান্নাতে দাখিল করে দেবেন।

এ জন্য যে, সে শিরকমুক্ত হয়েছেন এবং আখেরি নবীর ওপর ঈমান এনে আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামে দীক্ষিত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। তাই তার অতীত গোনাহগুলো মাফ হয়ে গেল। তাহলে উম্মতে মোহাম্মাদী আরও অগ্রগামী নয় কি? কারণ তারা তো শুরু থেকে শিরকমুক্ত। তাদের ঈমান রয়েছে ফেরেশতাকূলের ওপর, আসমানি কিতাবগুলোর ওপর। বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূল্লাহকে নবী মেনে তাঁর ওপর নাজিলকৃত কোরআনের বিধি-বিধান তারা বিশ্বাস করে। তবে পালন করতে গিয়ে গাফিলতি ও মনোযোগ এড়িয়ে চলার মনোভাব তাদের মধ্যে দেখা যায়।

এ জন্যই আল্লাহপাক তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর আজাব থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। ক্ষমা চাইতে হবে আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে। তিনি যে কঠিন শাস্তি দিতে পারেন এবং সেই শাস্তি পৃথিবীর সব যন্ত্রণার চেয়ে অত্যন্ত ভয়াবহ। যে শাস্তিতে মানুষ মরবেও না এবং বাঁচবেও না। মানুষকে পাপ থেকে বাঁচতে হবে। সর্বক্ষেত্রে পরম করুণাময়ের সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহ ক্ষমা পছন্দ করেন, তাই জুমারের এ আয়াত হচ্ছে আমাদের জন্য আশার বাণী। কাজেই আল্লাহর রহমত প্রাপ্তি থেকে আমাদের কোনোক্রমেই নিরাশ হওয়া উচিত নয়।

এ দেশের মুসলমান আমরা হতভাগ্য এ জন্য যে, আমরা ধর্মীয় নিয়ম-কানুন কেবল শোনার মাধ্যমেই পালন করে থাকি। কোরআন পাঠ করলেও আমরা শতকরা নিরানব্বই জন তার ভাবার্থ জানি না। বাংলা তরজমা থাকলেও তা পড়ার চেষ্টা করি না। শুধু আরবি ভাষায় কোরআন পাঠ করে থাকি। যা পড়ছি তাতে আল্লাহপাক কি আদেশ-নির্দেশ ব্যক্ত করেছেন জানার আগ্রহ নেই। অন্যদিকে যারা জানেন তারাও তাদের মতো বলে যাচ্ছেন।

সম্মানীয় ইমাম ও খতিবদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংকীর্ণ মনোভাব দেখা যায়। আল্লাহপাক যে কত উদার এবং কত ব্যাকুল বান্দাকে ক্ষমা করতে সে বিষয়টি বলতে তারা কার্পণ্যবোধ করেন। এ আয়াতের বিশ্লেষণধর্মী ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কেউ কেউ বলে থাকেন আল্লাহ সগিরা গোনাহ মাফ করার কথা বলেছেন কবিরা গোনাহ নয়। অথচ এই আয়াতে স্বয়ং আল্লাহপাকের ঘোষণা হচ্ছে ‘সর্ব গোনাহ মাফ করে দেব’।

কোনো একশ্রেণীর গোনাহ মাফের কথা বলা হয়েছে কি? অপরদিকে লক্ষ্য করা যায় যে, তারা যখন এ আয়াত পাঠ করেন তখন তাদের কণ্ঠ থাকে স্বাভাবিক, তাদের নিজেদের অন্তরে ও আল্লাহর ক্ষমা প্রাপ্তির ঘোষণার জন্য শোকর গুজারের ভাব পরিলক্ষিত হয় না। অথচ এ ধার্মিক আলেমরাই কোরআনের আরবি ভাষার শাব্দিক তরজমা বাংলায় করে থাকেন। এ আয়াতই কেবল নয়, বাংলাদেশে এমন ইমাম ও খতিব মেলা ভার যিনি ভয় বা আজাবের আয়াত পাঠ করলে তার কণ্ঠ ভীত বিহ্বল হয়। যদি তারা আয়াতের ভাবার্থ জেনেও থাকেন তাহলেও তাদের কণ্ঠে ভয়ার্ত ধ্বনি উচ্চারিত হবে না কেন? আল্লাহর ভয়ে ইমামদের মন ভীত হয় না।

অন্যদের হবে কীভাবে? আমরা যারা আল্লাহর ঘর মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববিতে নামাজ আদায় করেছি তারা সবাই স্বীকার করবেন, এ রহমতের আয়াত যখনই কোনো ইমাম সাহেব নামাজে পাঠ করেন তখন তাদের কণ্ঠ ক্রন্দনে ভারী হয়ে যায়। তাদের অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদতে থাকেন। এ দৃশ্য না দেখলে বুঝা যাবে না। ইমামদের অন্তরে তওবার অপরিসীম গুরুত্ব অনুভূত হয় বিধায় তারা ক্রন্দন করেন।

অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলিমদেরকেও তারা বোঝাতে চেষ্টা করেন এ মর্মে হে মুসলিম ভাই ও বোনেরা আল্লাহ যখন ওয়াদা করেছেন তওবা কবুল করবেন। এটা জানার পরও কেন আমরা তওবা করছি না। তওবা করে কেন গোনাহগুলো মাফ করিয়ে নিচ্ছি না। সময় তো এখনও আছে। আমরা তো নামাজে দণ্ডায়মান। এ নামাজ শেষে যেন আমরা তওবা করে নিই।

কাজেই আসুন। আমরা নিজ নিজ পাপের জন্য অন্তরের অন্তস্থল থেকে তওবা করি। আমরা স্বীকার করি আল্লাহর কাছে হে আল্লাহ শয়তানের প্ররোচনায় হোক অথবা রিপুর অবাধ্যতার তাড়নায়, জিহ্বার লিপ্সায়, শরীরের অবাধ্যতায়, মানসিক প্রশান্তির অশুভ তাড়নায়, নিজের জাগতিক ক্ষমতা জাহিরের জন্য তোমার আদেশ-নির্দেশ অমান্য করে ভুল পথে চলেছি।

যার ফলে যে সব পাপ কাজ করেছি তা উল্লেখ করে যেমন- আমি মানুষ খুন করেছি / চুরি-ডাকাতি করেছি, যিনা/ ব্যভিচার করেছি, আমানতের খোয়নত করেছি, তাই আমার যত কবিরা, সগিরা, ইচ্ছাকৃত অনিচ্ছাকৃত জ্ঞাত-অজ্ঞাত, প্রকাশ্য ও গোপনীয় গোনাহগুলোর জন্য আমি লজ্জিত এবং এ জন্য তুমি যে শাস্তি দেবে এর ভয়ে আমি খুবই ভীত ও সন্ত্রস্ত। তোমার কঠিন শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য তোমারই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

তুমি তো ক্ষমা পছন্দ কর তাই আমাকে ক্ষমা করে দাও। তোমার গোলাম ওয়াদা করেছে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে আর জড়িত হবে না। তুমি আমাকে ভবিষ্যৎ গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দাও। তুমি ছাড়া গোনাহ মাফ করার ক্ষমতা আর কারও নেই। তুমি আমাকে তোমার রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দিয়ে রক্ষা কর।

তাই আসুন, আমরা সবাই আল্লাহর দরবারে এ প্রার্থনা করি হে আল্লাহ আমাদের শক্তি দাও, মন দাও তওবার দিকে অনুপ্রাণিত হতে।

এ জাতীয় আরও খবর

সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর শপথ বুয়েটের

উত্তরবঙ্গের মানুষের আর মঙ্গা শব্দ শুনতে হবে না- প্রধানমন্ত্রী

ক্ষমতা ও অর্থ চায় না, মানুষের ভালোবাসায় ভবিষ্যৎ পথ চলতে চায়

সেই ওয়াহিদুল হকের বিচার শুরু

উত্তরবঙ্গের মানুষের আর মঙ্গা শব্দ শুনতে হবে না- প্রধানমন্ত্রী

ভেসেছে মানবতা কেঁদেছেন মানুষ

মাশরাফি-মুশফিকের অভিনন্দনে ভাসছে জামাল ভূঁইয়ারা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশ্ব খাদ্য দিবস ও ইঁদুর নিধন দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা

ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আদেশ ৩ নভেম্বর

দু’দিন সারাদেশে বৃষ্টি হতে পারে

ক্ষুধা দূরীকরণ, বাংলাদেশ টেক্কা দিল ভারত-পাকিস্তানকে

গোয়ালঘরে শিকলে বাঁধা বৃদ্ধা মা, বললেন মোর পোলারা ভালো