সোমবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কারবালার যে ঘটনাগুলো কেউ বলে না (ভিডিও)

news-image

নিউজ ডেস্ক : মুসলিম উম্মাহর কাছে আশুরার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক। কারবালা প্রান্তরে (৬০ বা ৬১ হিজরির ১০ মুহাররম) মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্রইমাম হোসাইন (রা.)-এর মর্মান্তিক শাহাদাত বরণ ‘আশুরা’কে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত করেছে। ফলে কারবালা ও কারবালা সংক্রান্ত ইতিহাস জরুরি বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

কারবালা ইতিহাস সম্পর্কে জুবাইর ইবনে বাক্কার (রহ.) বলেন, হোসাইন ইবনে আলী (রা.) চতুর্থ হিজরির শাবান মাসের ৫ তারিখে জন্মগ্রহণ
করেন। আর আশুরার জুমার দিনে ৬১ হিজরিতে তিনি শহীদ হন। তাকে সিনান ইবনে আবি আনাস নাখায়ি বা শিমার হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করে খাওলি ইবনে ইয়াজিদ আসবাহি হিময়ারি। সে হোসাইন ইবনে আলীর মাথা শরীর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে এবং ওবায়দুল্লাহর দরবারে নিয়ে যায়।কারবালার প্রান্তরে সে অশুভ দিনে পাপিষ্ঠরা যে নির্মমতা ও নির্দয়তার পরিচয় দিয়েছে, তা পাষণ্ড হৃদয়েও ব্যথা ও যাতনা সৃষ্টি করে। শাহাদাতের পর হজরত হোসাইন (রা.)-এর দেহ মোবারকে মোট ৩৩টি বর্শা ও ৩৪টি তরবারির আঘাত দেখা যায়। শরীরে ছিল অসংখ্য তীরের জখমের চিহ্ন। তার সঙ্গে মোট ৭২ জনকে শহীদ করে ঘাতকরা।

ইরানের আল মুজতবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহনাজ আরফিন এসম্পর্কে বলেন, ইমাম হোসাইন (রা.)-এর সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল খিলাফত ব্যবস্থার পুণর্জীবন। ইয়াজিদের বিরুদ্ধে কুফাবাসীর সাহায্যের প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত হয়ে হোসাইনের (রা.) স্ত্রী, ছেলে, বোন ও ঘনিষ্ঠ ২০০ অনুচর নিয়ে ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কুফার উদ্দেশে মক্কা থেকে রওনা হন। ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালা নামক স্থানে পৌঁছালে কুফার গভর্নর ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ তাকে বাধা দেন। রক্তপাত ও খুনাখুনি বন্ধের উদ্দেশে হজরত হোসাইন (রা.) তিনটি প্রস্তাব দেন।

এক. তাকে মদিনায় ফিরে যেতে দেওয়া হোক। দুই. তুর্কি সীমান্তের দুর্গে অবস্থান করতে দেওয়া হোক। তিন. ইয়াজিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য দামেস্কে পাঠানো হোক। কিন্তু ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে তার হাতে আনুগত্যের শপথ নিতে আদেশ দেন। হজরত হোসাইন (রা.) ঘৃণা ভরে তার এ আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন।

অবশেষে ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী হজরত হোসাইনকে (রা.) অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং ফোরাত নদীতে যাতায়াতের সব পথ বন্ধ করে দেয়। হজরত হোসাইন (রা.)-এর শিবিরে পানির হাহাকার শুরু হয়।

তিনি ইয়াজিদ বাহিনীর উদ্দেশে ভাষণে বলেন, আমি যুদ্ধ করতে আসিনি, এমনকি ক্ষমতা দখল আমার উদ্দেশ্য নয়। খিলাফতের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার আমার কাম্য। তোমাদের শত্রুতা থাকতে পারে আমার সাথে কিন্তু ছোট ছোট শিশুদের কেন পানি দিচ্ছ না।

ইয়াজিদ বাহিনী ১০ মুহাররম তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ অসম যুদ্ধে একমাত্র ছেলে হজরত জায়নুল আবেদিন (রহ.) ছাড়া ৭০ থেকে ৭২ জন শহীদ হন। হজরত জায়নুল আবেদিন (রাহ.) অসুস্থতার জন্য তাবুতে ছিলেন। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে পারেননি। আর এজন্য একমাত্র নবী পরিবারের পুরুষ সদস্য সেদিন বেঁচে যান।

হজরত হোসাইন (রা.) মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত শত্রুর সঙ্গে লড়াই করে যান।অবশেষে তিনি আশুরার দিন আসরের সময় শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন। হজরত হোসাইন (রা.)-এর ছিন্ন মস্তক বর্শা ফলকে বিদ্ধ করে দামেস্কে পাঠানো হয়।

ইতিহাস সাক্ষী, হজরত হোসাইন (রা.)-কে কারবালা প্রান্তরে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল, মাত্র ৫০ বছরের ব্যবধানে করুণ পন্থায় তাদের
প্রত্যেকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

যশোরে বাচ্চাকে মারধর করায় দলবল নিয়ে থানায় হনুমান

‘মন্ত্রী ফোন দিলেই ধরি না, তোমাদের মতো সাংবাদিকদের কাছে কী জবাব দেব?’

মধ্যরাতে বনানীতে ভিসিপুত্রের কাণ্ড!

যুদ্ধ শুরু হলে তার কোন সীমানা থাকবে না: জারিফের হুঁশিয়ারি

আল্লাহ ও ইসলামকে নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি করে প্রভাষক

৫৪ বছর পর চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-দার্জিলিং ট্রেন

সরাইলে আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, সম্মিলিত নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ সমাবেশ

চার ক্লাবে মিলল টাকা, মদ, সিসা, ক্যাসিনো-জুয়ার সামগ্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক ব্যবসায়ী, পাচারকারীদের বাড়ি চিহ্নিতকরণ শুরু

পাকিস্তানে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২৬

জয়নাল-ফারুকের ভয়ঙ্কর তথ্য : রোহিঙ্গা এনআইডি তৈরিতে ইসির ২০ জন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিভাইস ব্যাপ ও মাদক কেমিক্যালসহ আটক ২ জনকে দন্ড