শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগদান করেনি ৬ ডাক্তার!

news-image

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন ‘যেসব ডাক্তারদের যেখানে বদলি করা হবে তারা যদি সেখানে কাজ না করেন তা হলে তাদেরকে ওএসডি করে রেখে দিতে হবে, তাদের দরকার নেই’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন হুঁশিয়ারির পরেও তার নিজ নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বদলির পর কাজে যোগ দেয়নি ৬ ডাক্তার। বিষয়টি জানার পর অনেকেই হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তারদের ২১ টি পদের অনুকুলে বর্তমানে এখানে মাত্র ৩জন ডাক্তার রয়েছে।

গত ২৯ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ডা. মো: শরাফাত হোসাইন (কোড-১১৩৬৪২), ডা. মো: আবু দাউদ খান মো: ইয়াহিয়া (কোড-৩৯৬৪৯), ডা. মো: রেজাউল করিম(কোড-১১৩৬৬৭) কে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বদলি করে।

অপরদিকে একই তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ডা. মো: সাকীফ মাহরিয়ার (কোড-১৩০৮৩২), ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেন (কোড- ১০০৪৮১৬), ডা. মো: আহসান কবির (কোড- ১৩৪৫৩৫), ডা. ছাইয়োদ মুহাম্মদ আমরুল্লাহ (কোড- ১০০৩৮৯২) কে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বদলি করে। বদলিকৃত এই ৭ ডাক্তারকে চলতি মাসের ২ তারিখের মধ্যে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগদান করতে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এই ৭ ডাক্তারের মধ্যে শুরু মাত্র ডা. ছাইয়োদ মুহাম্মদ আমরুল্লাহ কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগদান করেছে। বাকি ৬ ডাক্তার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনাকে অপেক্ষা করে এখনো কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগদান করেনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুশান্ত বৈদ্যর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, পদায়নকৃত ৭ ডাক্তারকে চলতি মাসের ২ তারিখে এখানে যোগদান করতে বলা হয়েছিল । কিন্তু এ ৭ ডাক্তারের মধ্যে শুধু মাত্র ডা. ছাইয়োদ মুহাম্মদ আমরুল্লাহ যোগদান করেছেন। বাকি ৬ ডাক্তার এখানে যোগদান করেনি। বিষয়টি আমি চলতি মাসের ১২ তারিখে লিখিত ভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছে।

যোগদানকৃত ডাক্তার ডা. ছাইয়োদ মুহাম্মদ আমরুল্লাহ বলেন, আমি এখানে যোগদান করার পরে দেখলাম, প্রতিদিন এখানে আউট ডোরে ২থেকে ৩শত রোগী হয়। আমরা যে কয়েকজন ডাক্তার এখানে আছি তাদের রোগী দেখতে হিমশিত খেতে হচ্ছে।

কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কেন এই ৬ ডাক্তার যোগদান করলেন না এ বিষয়ে জানার জন্য তাদের মুঠোফোনে চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

ডহরপাড়া গ্রামের মো: রফিকুর ইসলাম পটু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেও যে সকল ডাক্তার এখানে যোগদান করেননি তাদের এই সাহসিকতায় আমরা হতাশ। এ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ জনগনের বসবাস। এই বিপুল জনগনের চিকিৎসার জন্য রয়েছে মাত্র ৩জন ডাক্তার। এখানে জরুরী ভাবে ডাক্তার প্রয়োজন।

গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. তরুন মন্ডল বলেন, আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কথা বলেছি। বদলিকৃত ডাক্তারদের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগদান করতেই হবে। যদি তারা এখানে যোগদান না করে তা হলে তাদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শাস্তিমূলক ব্যবস্থ্যা গ্রহণ করবে বলে জানিয়ে।

এ জাতীয় আরও খবর

আইয়ুব বাচ্চুকে হারানোর এক বছর

তিলের খাজা তৈরির রেসিপি

বার্সেলোনা থেকে এল ক্লাসিকো সরিয়ে ফেলার প্রস্তাব

গ্রামীণফোনের সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পাওনা আদায়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

নারায়ণগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মর্টারশেল উদ্ধার, নিস্ক্রিয় করলো সেনাবাহিনী

কাভার্ডভ্যান চাপায় ট্রাফিক সার্জেন্ট নিহত

ইলিশ ধরা নিয়ে গোলাগুলি, বিএসএফ সদস্য নিহত

নানা অভিযোগ : কাউন্সিলর পদ হারালেন সাঈদ

এফডিসিতে সমর্থকদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, মৌসুমীর অভিযোগ

আবরারের ছোট ভাই ফাইয়াজ কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে ভর্তি হলেন

টি-টোয়েন্টি সিরিজ : দলে ফিরলেন আরাফাত সানি ও আল আমিন