মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৭ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করা সংবিধান ও আইন বিরোধী, বললেন ভিপি নুর

news-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ নিয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর৷ তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে ধর্মীয় উগ্রবাদী, সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধ৷’ তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-র এজিএস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ডাকসুর বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ ডাকসুর গঠনতন্ত্রেও এটা অন্তর্ভুক্ত হবে৷’-ডয়চে ভেলে

ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘ধর্মভিত্তিক বা ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রস্তাব ছিল ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক মাযহারুল কবির শায়ন ও সদস্য রাকিবুল ইসলামের৷ তবে আমি ও আমার প্যানেলের সমাজসেবা সম্পাদক ১৯৯০ সালে পরিবেশ পরিষদের যে সিদ্ধান্ত ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের উগ্র মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের ছাত্রসংগঠন নিষিদ্ধ—সেই প্রস্তাব দেই৷ পরে আমাদের প্রস্তাব মডারেট করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ধর্মীয় উগ্রপন্থি ও সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী রাজনীতি নিষিদ্ধ৷ সাধারণ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যে নিষিদ্ধ হয়েছে সেটা নয়৷’

তিনি বলেন, ‘আমরা তো সাধারণ ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারবো না। কারণ, এটা আমাদের বর্তমান সংবিধান ও আইনের বিরোধী৷ নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন নিয়ে অনেকগুলো ধর্মীয় সংগঠন রাজনীতি করছে৷ ডাকসুতে আমাদের আলোচনার সময় ভিসি স্যারও বলেছেন, ধর্ম অনেক সেনসিটিভ৷ যাতে কারোর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে- সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে৷’

নুর আরো বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ডাকসুর বৈঠকের শেষ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের ৩৪ জনের ভর্তি জালিয়াতি ও জিএস রাব্বানীর বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় আমাকে অপমান করায় আমি ওয়াক আউট করি৷ পরে তারা ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি-না আমার জানা নেই৷ আমি থাকা অবস্থায় সিদ্ধান্ত হয়েছে ধর্মভিত্তিক কোনো উগ্র, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক সংগঠন নিষিদ্ধ৷ এটা ডাকসুর গঠনতন্ত্রেও অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়৷ সাধারণভাবে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের কোনো সিদ্ধান্ত তখন হয়নি৷’

এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় রাজনীতি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে আসেনি৷ ৯০-এ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই সব ছাত্র সংগঠন এ বিষয়ে একমত হয়ে কাজ করেছে৷ এবার ডাকসু নির্বাচনের আগে আমরা পরিবেশ পরিষদের কাছে দাবি বরেছি৷ এমনকি ছাত্রদলও একমত হয়েছে৷ তখন বলা হয়েছিল, নির্বাচিত ডাকসু সিদ্ধান্ত নেবে৷ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ আশা করি জাতীয় রাজনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যাবে৷ আমরা মনে করি, ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত৷ সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকবে৷ কিন্তু ধর্মকে কেন্দ্র করে বা ধর্মভিত্তিক কোনো রাজনীতি আমরা দেখতে চাই না৷’

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনের তৎপরতা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন৷ মিছিলের আগে সমাবেশে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, ‘মুক্ত চিন্তার সূতিকাগার বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মের মতো আদর্শভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা একটি স্বৈরাচারমূলক আচরণ৷ ভাবতে আশ্চর্য লাগে, স্বৈরাচারবিরোধী ও গৌরবময় অতীত সমৃদ্ধ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ডাকসু নিজেই স্বৈরাচারী আচরণ করছে৷’

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ নিয়ে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি৷ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোবারক হোসাইনকেও ফোনে পাওয়া যায়নি৷

এ জাতীয় আরও খবর

মহাসড়কে ওসির হাতে রজনীগন্ধা চালকের মুখে হাসি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা

আমাদের না জানিয়ে হঠাৎ খেলা বন্ধ করে দেয়া একটা চক্রান্ত : পাপন

নেতানিয়াহু সরকার গঠনে ব্যর্থ

নদীর তীরবর্তী প্রতিষ্ঠানের প্লট-ফ্ল্যাট ক্রয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের

রংপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

এক পা উদ্ধারের পর পাওয়া গেলো খণ্ডবিখণ্ড দেহ

৪ কেজি চাল বিক্রির টাকায় ১ কেজি পেঁয়াজ কিনলেন নাছিমা

জমকালো অভিষেক সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর

আমি পদত্যাগ করব না : মেনন

খ্যাপা গরু সামলাতে প্রযুক্তি সম্পন্ন হেলিকপ্টার!

গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড