শনিবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কাল থেকে ২২ দিনের জন্য ধরা যাবে না ইলিশ

news-image

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি : ইলিশ রক্ষায় প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

নিষিদ্ধকালীন এই সময়ে উপকূলীয় এলাকার জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার। মৎস্যজীবীরা বলছেন, সরকারের এ আইনকে তারা মেনে চলবে। এরইমধ্যে সাগর থেকে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে মাছধরার ট্রলারগুলো।

আশ্বিনের পূর্ণিমার সময় আগামী ৯ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। যা গত বছর নিষিদ্ধের সময় ছিল ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর।

১৯৮৫ সালের মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধি (প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন ফিস রুলস, ১৯৮৫) অনুযায়ী প্রতিবছর আশ্বিনী পূর্ণিমার সময় ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন ফিস রুলস সংশোধন করে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময় ২০১৬ সালে বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়। এর আগে এ সময় ছিল ১৫ দিন। ২০১৫ সালের আগে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময় ছিল ১১ দিন।

উপকূলীয় নদ-নদীতে এসে মা ইলিশ মূলত সারা বছরই প্রজনন ঘটায়। তবে মৎস্য বিজ্ঞানীদের গবেষণা মতে, চান্দ্রমাসের ভিত্তিতে প্রধান প্রজনন মৌসুম ধরে আশ্বিন মাসের প্রথম চাঁদের পূর্ণিমার দিন। যাতে মা ইলিশ নির্বিঘেœ মিঠাপনিতে এসে প্রজনন ঘটাতে পারে সেজন্য পূর্ণিমার আগে চার দিন ও পরের ১৭ দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে।

নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা, পরিবহন, গুদামজাতকরণ কিংবা বিক্রিও সম্পূর্ণ বেআইনি। এ আদেশ অমান্য করলে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়দণ্ড পেতে হবে।

উপকূলীয় বরগুনা জেলার ৮০ ভাগ মানুষ কোনো না কোনো ভাবে মৎস্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, যারা কিনা বঙ্গোপসাগর ও এর মোহনাসংলগ্ন বলেশ্বর, বিষখালী ও পায়রা নদীতে ইলিশ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। এ জেলায় নিবন্ধিত জেলে সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারের মধ্যে কার্ডধারী জেলের সংখ্যা ৩৪ হাজার ২১১ জন।

মা ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে এই কার্ডধারী জেলেদের বিশেষ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) ভিজিএফ খাদ্যশস্য কর্মসূচির আওতায় মাথাপিছু ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। আর কেউ আইন অমান্য করলে তাদের জেল জরিমানাসহ জাল, দড়ি ও ট্রলার নিলাম দেওয়া হবে বলে আমাদের সময়কে জানান পাথরঘাটার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু।

তিনি আরও জানান, ইলিশ রক্ষায় প্রধান প্রজনন মৌসুমের ইলিশ শিকারের নিষিদ্ধ সময়ে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন নদ-নদীতে নৌবাহিনী, নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ড বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে এবং মৎস্য বন্দর, মৎস্য আড়ত, হাট-বাজার গুলোতে অতিরিক্ত নজর ও অভিযান চালানো হবে।

এই বিষয়ে বরগুনা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী আমাদের সময়কে জানান জেলা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। যাতে কোনো ট্রলার এই সময়ে নদীতে মাছ শিকার করতে না যায় সে ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে ভারতীয় জেলেরা যেন বাংলাদেশি জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার না করে এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে নজরদারি রাখার অনুরোধও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত ৬৫ দিনের মৎস্য অবরোধ কর্মসূচিতে দেশীয় মৎস্য সম্পদের কোনো উন্নতি হয়নি। বরং এই ২২ দিনের কর্মসূচি সরকার সফলভাবে বাস্তবায়ন করলে সামনের ইলিশ মৌসুমে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে এমনটি আশা করছেন তিনি।