শুক্রবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘ভারতকে নগণ্য পরিমাণ পানি দিচ্ছি’

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফেনী নদী থেকে ভারতকে বাংলাদেশ ‘নগণ্য’ পরিমাণ পানি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এই ইস্যুতে হঠাৎ এত চিৎকার কিসের জন্য তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার গণভবনে ভারত সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ফেনী নদী থেকে ভারতকে পানি দেওয়ার ব্যাপারে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে সরকার প্রধান এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আচ্ছা আমি যদি আপনাদের জিজ্ঞাসা করি, ফেনী নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়? বলতে পারবেন? আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, ফেনী নদীর পানি নিয়ে এত কথা আসছে, তারপর বলেন এর উৎপত্তিস্থল কোথায়? ফেনী নদীর উৎপত্তিস্থল হচ্ছে খাগড়াছড়ি। খাগড়াছড়িতে এর উৎপত্তি। কিন্তু এটা খাগড়াছড়ি থেকে মাটিরাঙ্গা হয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী একটি নদী।’

তিনি বলেন, ‘এ নদীটা প্রায় ১১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত চলে আসছে, এখানে ৯৪ কিলোমিটারই আমাদের, আসলে এটা একটা বর্ডার, বর্ডারে অবস্থিত। এর বড় অংশই আমাদের বাংলাদেশে। এটি আসলে একটি সীমান্তবর্তী নদী। আপনারা জানেন, সীমান্তবর্তী নদীতে কিন্তু দুই দেশেরই অধিকার আছে। যেমন রাজশাহীর পদ্মা, এটি কিন্তু সীমান্তবর্তী নদী। মাতামুহুরি, সীমান্তবর্তী নদী। এরকম বহু নদী আছে। এমন ৭টা নদী আছে যেটা নিয়ে ইতিমধ্যে আমরা আলোচনা করেছি। সীমান্তবর্তী নদীগুলো, এগুলো যৌথভাবে আমরা ড্রেজিং করব। নদীর নাব্যতা রক্ষা ও অন্যান্য ব্যাপারে আমারা ইতিমধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন আমরা যে নদী নিয়ে কাজ করছি তা ভারতের একটা জায়গা সাবলট রামগড়ের সাথে। ওখানকার মানুষের খাবার পানির খুব অভাব। তারা আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে পানি তোলে। আর আমার বর্ডার থেকে যখন পানি তোলে তখন আমার দেশেও কিন্তু হয়। আমার দেশের ভূ-গর্ভস্থ পানিও কিন্তু চলে যায়। সেখানে সামান্য পানি আমরা তাদেরকে দেব। এখানে ভারতের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তিটা হয়েছে সেটা তাদের খাবার পানির জন্য। ১.২ কিউসেক পানি তারা নেবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদেরকে যে পানিটা দিচ্ছি তার পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। এত বড় একটা নদী, যে নদীতে যে পরিমাণ পানি আসে এবং বেশির ভাগ আমরা ব্যবহার করি তারাও ব্যবহার করে। আর এটা নিয়ে হঠাৎ এত চিৎকার কিসের জন্য আমি জানি না। কেউ যদি পানি পান করতে চায় আমরা যদি তা না দিই, এটা কেমন দেখায়? আমাদের তো আরও সীমান্তবর্তী নদী আছে, এটাও তো আমাদের চিন্তা করতে হবে। এখন এটা নিয়ে যারা লিখে যাচ্ছেন এবং চুক্তি বাতিল করতে হবে বলে যাচ্ছেন, কিছুক্ষণ আগেও তারা প্রেস কনফারেন্স করে অনেক কথা বলছেন।’

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের কাছে আমার প্রশ্ন, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে যখন ভারত যায় কিংবা খালেদা জিয়া একানব্বই সালে ক্ষমতায় এসে ভারত যায়, তারা কি গঙ্গা চুক্তি করতে পেরেছিল। পারে নাই। ফিরে এসে খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের কি বলেছিলেন, মনে আছে? বলেছিলেন, ভুলে গেছিলাম। যে দল দেশের স্বার্থের কথা সেটা বলতেই ভুলে যায়, সেই দল সামান্য ১.২ কিউসেক একটা ইউনিয়নে পান করার জন্য দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে?’

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তবর্তী নদী নিয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত বড় একটা নদী, এত বিশাল একটা এরিয়া। যেটা বাংলাদেশ-ভারত মিলে একটা নদী। যে অংশ থেকে পানি যাচ্ছে সেটা আমাদের মধ্যে পড়েছে বলেই তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হচ্ছে। এর বাইরেও ইতিমধ্যেই আমাদের যৌথ নদী কমিশনে আলোচনা করেছি। এখানে মনু, মহুরি, খোয়াই, গোমতি এবং ধরলা, দুধকুমার নদী। এই নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ইতিমধ্যে আমরা আলোচনা করেছি। আর তিস্তা নিয়ে তো আলোচনা চলছেই।’