রবিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় গৃহবধূ প্রেমের টানে বাংলাদেশে, সীমান্তে উত্তেজনা

news-image

সিলেট প্রতিনিধি : প্রেমের জন্য মানুষ কত কিছুই না করে। প্রেমের টানে এবার ভারত থেকে বাংলাদেশে ছুটে এলেন এক গৃহবধূ, আর তা নিয়ে সীমান্তে চলছে উত্তেজনা।এ ঘটনায় ভারতীয় খাসিয়ারা ধরে নিয়ে গেছে এক বাংলাদেশি যুবককে, ধরে নিয়ে গেছে শতাধিক গরুও।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলায় ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, গত শনিবার জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার টিপরাখলা সীমান্তের বাসিন্দা হারিছ উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মিয়া শ‌নিবার ভারতের সীমান্তবর্তী এসপিটিলা এলাকার হেওয়াইবস্তির খাসিয়া সম্প্রদায়ের গৃহবধূ চংকর খাসিয়াকে গোপনে দেশে নিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

এরপর গত রোববার সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠক হয়। পতাকা বৈঠকে দুদিনের মধ্যে ভারতীয় নারীকে ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয় বি‌জি‌বি। কিন্তু ফিরোজসহ ওই নারী আত্মগোপনে থাকায় বিজিবি তাদের খুঁজে পায়নি।

এদিকে ভারতীয় ওই নারীকে ফেরত না দিতে পারায় মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ১২৮৮ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলার এলাকা দিয়ে ভারতীয় হেওয়াই বস্তির খাসিয়ারা বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে। সশস্ত্র খাসিয়ারা টিপরাখলা গ্রামের তজম্মুল আলীর ছেলে আব্দুন নুরকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় খাসিয়ারা হাওর থেকে বাংলাদেশিদের পালিত শতাধিক গরু ধরে নিয়ে যায়।এরপর থে‌কে সীমান্তে দু-দেশের নাগরিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ১৯ বিজিবির জৈন্তাপুর ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুল কাদির, নিজপাট ইউপির সদস্য মনসুর আহমদ, আব্দুল হালিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

১৯ বিজিবির জৈন্তাপুর ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুল কাদির বলেন, ‘গত শ‌নিবারের ঘটনার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের মধ্যস্থতায় খাসিয়াদের সঙ্গে আলাপ করে দুদিনের মধ্যে ভারতীয় নারীকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেই। তারা আমাদের কথা আমলে নেয়। কিন্তু ফিরোজের পরিবার আমাদের কথা না রাখায় ভারতীয় খাসিয়ারা উত্তেজিত হয়ে বাংলাদেশের সীমান্তে প্রবেশ করে আব্দুন নুরসহ বেশ কিছু গরু ধরে নিয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। খাসিয়ারা যাতে আর বাংলাদেশিদের গরু ধরে নিতে না পারে সে জন্য সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।’

এ জাতীয় আরও খবর