বৃহস্পতিবার, ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বউ ভাগিয়ে নেওয়ায় ধন্যবাদ!

news-image

অনলাইন ডেস্ক : শুধু এক নারীর জন্য আর কোনো ফুটবল দলকে এতটা ভুগতে হয়নি। শুধু ওয়ান্ডা নারার জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবলে অনেক তোলপাড় হয়েছে। ম্যাক্সি লোপেজের ঘর ছেড়ে মাউরো ইকার্দির প্রেমে পড়েছিলেন এই মডেল। সে সম্পর্কের জেরে অনেক ভুগতে হয়েছে ইকার্দিকে। বহুদিন পর লোপেজ এ ব্যাপারে ইকার্দিকে ক্ষমা করে দিলেন। শুধু তা-ই নয়, ওয়ান্ডা নারার সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়াছাড়িতে ভূমিকা রাখায় ধন্যবাদ দিয়েছেন ইকার্দিকে!

আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লোপেজ ২০০৮ সালে বিয়ে করেছিলেন মডেল ওয়ান্ডা নারাকে। প্রথমদিকে ভালোই চলছিল তাদের। তিন সন্তানকে ঘিরে আবর্তিত সংসারে ঝড় তুললেন মাউরো ইকার্দি। ২০১২-১৩ মৌসুমে সাম্পদোরিয়াতে যোগ দেন ইকার্দি। দুজনেই আর্জেন্টাইন হওয়ায় ইকার্দি ও লোপেজের মধ্যে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু মৌসুম শেষ হতে হতেই সে সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। কারণ তত দিনে লোপেজকে ছেড়ে ওয়ান্ডা ইকার্দির প্রেমে মজে যান। লোপেজের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করার কিছুদিনের মধ্যেই ইকার্দিকে বিয়ে করেছেন ওয়ান্ডা।

এ ঘটনা আর্জেন্টাইন ফুটবলেও দাগ কেটেছিল। ডিয়েগো ম্যারাডোনা তো সরাসরিই বলেছিলেন, যে বন্ধুর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নেয় তাঁকে কখনো জাতীয় দলে ডাকা ঠিক না। আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হোক। ওদিকে লোপেজের সঙ্গে মেসিসহ জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের ভালো সম্পর্ক থাকাতেই নাকি ক্লাব ফুটবলে বছরের পর বছর দুর্দান্ত খেলেও আর্জেন্টিনা দলে ডাক পাচ্ছিলেন না ইকার্দি। ওয়ান্ডাকে বিয়ের আগে আর্জেন্টিনার পক্ষে একটি ম্যাচ খেলা পরের তিন বছরে গোলবন্যা বইয়েও দলে ঢুকতে পারেননি।

এত দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অন্যকে খোঁচা দিয়ে পার করেছেন লোপেজ ও নারা। কিন্তু গতকাল এক সাক্ষাৎকারে ইকার্দিকে ক্ষমা করার কথা বলেছেন লোপেজ, ‘আমি ইকার্দিকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং ওর সঙ্গে আমার আর কোনো সমস্যা নেই। আমার জীবনে এখন ফুটবল ছাড়া একটাই লক্ষ্য, সেটা হলো আমার বাচ্চাদের খুশি করা।’ এখানেই থামলে চলত। ক্ষমা করার এ খবর আজ প্রকাশিত হওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে আরেকটু যোগ করেছেন, ‘আমি শুধু মাউরোকে ক্ষমাই করিনি, ডব্লুকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে ধন্যবাদও দিতে চাই…’

এত বড় খোঁচা ওয়ান্ডা মেনে নেবেন কেন? ইনস্টাগ্রামে জবাব দিয়েছেন, ‘সম্মান হলো টাকার মতো। আপনি চাইতে পারেন, কিন্তু সেটা অর্জন করাই ভালো।’ নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে ওয়ান্ডার সঙ্গে ইকার্দির বিয়ের পরবর্তী ঘটনায় লোপেজের ইঙ্গিতের সত্যতা মেলে। ওয়ান্ডাকে নিজের এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ইকার্দি। এর পর থেকেই ক্লাব ইন্টার মিলানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে তাঁর। গত মৌসুমের শেষভাগটা ফর্মের চূড়ান্তেও বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এ মৌসুমে তো ধারে আসতে হয়েছে পিএসজিতে। সেখানে এসেও ঝামেলা পাকিয়েছেন, বলেছেন পিএসজি নাকি ইকার্দির সম্ভাব্য গন্তব্যের মাঝে সবচেয়ে বাজে! পিএসজি যে ব্যাপারটি ভালোভাবে নেয়নি, সেটা বলা বাহুল্য।