মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঢাকা থেকে শিয়ালের মাংস এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেস্টুরেন্টে বিক্রি করছে একটি চক্র

news-image

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল : রাজধানী ঢাকা থেকে কম দামে শিয়ালের মাংস কিনে প্যাকেট জাত করার পর তা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাসির মাংস হিসেবে দীর্ঘ দিন যাবত বিক্রি করে আসছে একটি চক্র।

সোমবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল বিশ্বরোড মোড় এলাকায় এক রেস্টুরেন্টে শিয়ালের মাংস বিক্রির সময়ে এ চক্রের দুই সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে হাইওয়ে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ২৭ কেজি শিয়ালের মাংস ও ১০ কেজি কলিজা উদ্ধার করা হয়।

আটকৃতরা হলেন- হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মুড়াকুড়ি এলাকার মাসুক মিয়ার ছেলে আরজত আলী (২২) ও একই এলাকার সাবু মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২০)। পরে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা প্রিয়াংকা শিয়ালের মাংস বিক্রির দায়ে ভোক্তা অধিকার আইনের ২০০৯ এর ৫৩ ধারায় অভিযুক্ত আরজত আলীকে ছয়মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও সাদ্দাম হোসেনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এরআগে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আরজত আলী জানান, ঢাকার পূর্ব রামপুরা এলাকার ‘আল মেজবান’ নামে একটি মাংসের দোকান থেকে কম দামে শিয়ালের মাংস ও কলিজা কিনে এনে প্যাকেট জাতের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকার রেস্টুরেন্টে গিয়ে তা খাসির মাংস বলে বিক্রি করতেন তারা। এ কাজের জন্য তাকে প্রতিমাসে আট হাজার টাকা বেতন দেওয়া হতো। তিনি আরও জানান, রাজধানী গুলশান নিকেতন এলাকার ডি-ব্লক, রোড নং-৬, হাউজ নং-২৩ এই বাড়িতে শিয়ালের মাংস প্যাকেট জাত করেন নিজাম মিয়া নামে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। পরে প্যাকেট জাত এসব মাংস দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হয়।

অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন জানান, তিনি আশুগঞ্জ এলাকায় একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। কিছুদিন আগে এ মাংস বিক্রি কাজে তিনি জড়িত হন। তবে তিনি জানতেন এসব খাসির মাংস। আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলি এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ছয় কেজি মাংস ও কলিজা বিক্রির পর বাকি মাংস সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে তিনি পুলিশকে জানান।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাইনুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিয়ালের মাংস ও কলিজাসহ এই চক্রের দুইজনকে আটক করা হয়। তারা দীর্ঘ দিন যাবত এখানে এই অপকর্ম করে আসছে। আটক শিয়ালের মাংস ও কলিজা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে স্থানীয় পাঙ্গাস মাছ চাষের একটি পুকুরে ফেলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা প্রিয়াংকা জানান, এই চক্রটি শিয়ালের মাংস প্যাকেটজাত করার পর তা খাসির মাংস বলে এখানকার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বিক্রি করে আসছিল।
অভিযুক্তদের সাজা দেওয়া হয়েছে। এই অপকর্ম ও চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ জাতীয় আরও খবর

শাহাদাত ১ বছর নিষিদ্ধ

নতুন সড়ক আইন প্রয়োগ : জেলায় জেলায় বাস বন্ধে দুর্ভোগ

হরেক রকমের মাছের মেলা

হ্যাটট্রিক জয়ের চ্যালেঞ্জ টিউলিপের সামনে

রাঙ্গামাটিতে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে নিহত ৩

মিরাজ মনে করেন গোলাপি বলে বাড়তি সুবিধা

বাবার কাছে মোবাইল না পেয়ে স্কুল ছাত্রের আত্মহত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে স্কুলছাত্র গ্রেপ্তার

পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনী পন্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ওয়ার্কার্স পার্টির মানববন্ধন

ভূরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ : আটকা পড়েছে পণ্যবাহী গাড়ী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা মানব কল্যান সংঘঠনের উদ্যোগে শীতবন্ত্র বিতরণ

হেফাজতের মালিক আল্লাহ, টেটা-বল্লম নয় : সরাইল থানার ওসি