মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা ও যৌতুক না দেয়ায় স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা!

news-image

রংপুর ব্যুরো : রংপুরের পীরগঞ্জে পুলিশ কনস্টেবল মাইদুল ইসলামের একাধিক পরকীয়া প্রেমে বাঁধা দেয়া এবং যৌতুকের দাবী পুরন না করায় স্ত্রী সুবর্না আক্তারকে বেদম পিটিয়ে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করে ওই কনস্টেবল এবং তার এক ভাতিজা। গতকাল সোমবার এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন নির্যাতিত ওই গৃহবধু।

মামলা ও পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর কুমারগাড়ী গ্রামের মৃত. আনিছার রহমানের ছেলে মাইদুল ইসলাম রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল (কং নং- ১৪০৪) পদে ২০১১ সালে যোগদান করে। সে বিগত ২০১৩ সালে একই ইউনিয়নের ধুলগাড়ী গ্রামের আবুল কালাম মিয়ার একমাত্র মেয়ে সুবর্নাকে বিয়ে করে। এখন পর্যন্ত তাদের সংসারে সন্তান নেই।

বিয়ের পর থেকেই ওই কনস্টেবল ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে। তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজশাহীতেই স্ত্রী সুবর্নাকে কয়েকদফা মারপিট করে। এছাড়াও ওই কনস্টেবল রাজশাহীতে একাধিক মহিলার সাথে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হলে সুবর্না বাঁধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সুবর্নাকে কয়েকদফায় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন করলে রাজশাহী পুলিশ লাইনে ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ৩/৪ বার বিভাগীয় বিচার হয়। একপর্যায়ে কনস্টেবল মাইদুলকে ২০১৭ সালে বরিশাল র‌্যাবে সংযুক্ত করা হয়। সেখানেও ওই কনস্টেবল আবারো একাধিক পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হলে প্রতিবাদ ও বাঁধা দেয় স্ত্রী। ফলশ্রæতিতে সুবর্নার উপর নির্যাতনের খড়গহস্ত নেমে আসে। কনস্টেবল মাইদুলের অপরাধের ব্যাপারে বরিশাল র‌্যাব অফিসেও ২ বার শালিস হয়। গত ২ অক্টোবর সুবর্নাকে মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতন করায় তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তার চিকিৎসা চলে। এ ব্যাপারে বরিশালে স্থানীয় পত্রিকায় লেখালেখি হলে সম্প্রতি তাকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে পাঠানো হয়।

গত ৯ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত কনস্টেবল মাইদুলের ছুটি শুরু হলেও সে তার স্ত্রীকে যৌতুকের টাকা আনার জন্য বাড়ীতে পাঠায়। একপর্যায়ে মাইদুল গত ১৮ অক্টোবর বাড়ীতে এসে যৌতুকের টাকা না পেয়ে ওইদিন রাত ২ টার দিকে তার ভাতিজা বিপ্লবসহ বেদম মারপিট করে বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখে। পরদিন দুপুরে সুবর্নার অবস্থা আশংকাজনক হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। এ সময় বড়আলমপুর ইউনিয়নের মমিন মার্কেট নামকস্থানে কনস্টেবল মাইদুল তার পথরোধ করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা আবারো কনস্টেবলের হাত থেকে তাকে রক্ষা করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের এফ-১৬ নম্বর বিছানায় অসহ্য যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন সুবর্না। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এবং গলায় জখম দেখা গেছে।

কর্তব্যরত ডাক্তার বকুল মিয়া বলেন, এ রোগীর (সুবর্না) অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। চিকিৎসাধীন সুবর্না জানায়, আমি ওর (স্বামী) নির্যাতন সহ্য করে আসছি। আমাকে সন্তানও নিতে দেয় না। চাকরীতে পদোন্নতির কথা বলে লাখ লাখ টাকা নিয়েছে। আরও দাবী করছে। আর কত টাকা দিবো? সে ১৮ অক্টোবর ছুটিতে এসে তার বাড়ীতে আমাকে গভীর রাতে সে এবং তার ভাতিজা বিপ্লব যৌতুকের জন্য আমাকে মারধর করে। চিকিৎসা নিতে আসার সময়ও রাস্তার মধ্যে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। আমি বাঁচতে চাই। আমাকে বাঁচান। এ ব্যাপারে সে বাদী হয়ে থানায় স্বামীসহ কয়েকজনকে আসামী করে মামলা (নং-২৩ (২১/১০/১৯) করেছেন।

পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরেস চন্দ্র বলেন, সরকারী চাকরীজীবির বিরুদ্ধে মামলা হলে গ্রেফতারে নির্দেশ প্রয়োজন হয়। আমরা নির্দেশ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেব। তবে অন্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। বর্তমানে সুবর্নার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এ জাতীয় আরও খবর

শাহাদাত ১ বছর নিষিদ্ধ

নতুন সড়ক আইন প্রয়োগ : জেলায় জেলায় বাস বন্ধে দুর্ভোগ

হরেক রকমের মাছের মেলা

হ্যাটট্রিক জয়ের চ্যালেঞ্জ টিউলিপের সামনে

রাঙ্গামাটিতে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে নিহত ৩

মিরাজ মনে করেন গোলাপি বলে বাড়তি সুবিধা

বাবার কাছে মোবাইল না পেয়ে স্কুল ছাত্রের আত্মহত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে স্কুলছাত্র গ্রেপ্তার

পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনী পন্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ওয়ার্কার্স পার্টির মানববন্ধন

ভূরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ : আটকা পড়েছে পণ্যবাহী গাড়ী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা মানব কল্যান সংঘঠনের উদ্যোগে শীতবন্ত্র বিতরণ

হেফাজতের মালিক আল্লাহ, টেটা-বল্লম নয় : সরাইল থানার ওসি