শুক্রবার, ২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এক কেজি ওজনের ৪ ইলিশের দাম ১৩শ টাকা!

news-image

ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার মেঘনা-তেতুঁলিয়া নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা-ইলিশ শিকারের মহোৎসব চলছে। এদের মধ্যে ভোলা সদরের রাজাপুর, ভেদুরিয়া, ইলিশা, বোরহানউদ্দিনের হাকিমউদ্দিন, মির্জাকালু, জয়া, চরফ্যাশনের কুকরি মুকরি, ঢালচর, পাতিলা ও দৌলতখান, তজুমদ্দিন, মনপুরা ও লালমোহন উপজেলার পুরো এলাকার মেঘনা-তেতুঁলিয়া নদীতে রাতের আঁধারে মা-ইলিশ শিকারের মহোৎসব চলছে।

ভোলার রাজাপুরের জেলেদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চাল সব জেলে না পাওয়ায় ও মহাজন এবং এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধের চাপে তারা রাতের আঁধারে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে মা-ইলিশ শিকার করতে বাধ্য হচ্ছে।

তারা জানান, অনেক কষ্ট করে রাতের আঁধারে মা-ইলিশ শিকার করে গোপনে বিক্রি করেন। আগের চেয়ে অনেক কম দামে এ ইলিশ বিক্রি করছেন তারা। ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ হালি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং এক কেজি বা তার একটু বেশি ওজনের ইলিশের হালি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০-১ হাজার ৩০০ টাকা।

এদিকে মা-ইলিশ অভিযানের ২২ দিন পর্যন্ত সব ব্যাংক ও এনজিওকে ঋণের কিস্তি না নেয়ার জন্য ভোলা প্রশাসন থেকে চিঠি দেয়া হলেও তা মানছেন না অনেক এনজিও বলে অভিযোগ জেলেদের।

ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, আমরা মা-ইলিশ অভিযান এ বছর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। এছাড়া এনজিও ও ব্যাংকগুলোতে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন কিস্তি না নেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছি। তবে কোনো ব্যাংক বা এনজিও যদি আমাদের নিষেধ অমান্য করে তাহলে আমরা তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলার সাত উপজেলায় এক লাখ ৩২ হাজার জেলের সরকারিভাবে নিবন্ধন রয়েছে। এদের মধ্যে সরকারিভাবে ২০ কেজি করে মা-ইলিশের অভিযানে এ বছর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৮৮ হাজার ১১১ জনকে।

ভোলা জেলা মৎস্য অফিসার এসএম আজহারুল ইসলাম জানান, কিছু অসাধু জেলে উচ্চ মুনাফার জন্য নদীতে গিয়ে মা-ইলিশ শিকার করছে। আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, কোনো জেলে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ইলিশ শিকারে নদীতে যায় না। এটা জেলেরা নিজেদের বাঁচানোর জন্য বলে থাকতে পারে।