মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এই কূপের দিকে পাঁচ মিনিট তাকালেই মৃত্যু!

news-image

আমির খান অভিনীত পিকে ছবিটি নিশ্চয়ই দেখেছেন! মনে আছে কি? ছবির একটি দৃশ্যে ওপর থেকে নিচের দিকে সিঁড়ি নেমে যাওয়া একটি স্থান দেখানো হয়। যেখানে অন্ধকার সিঁড়ি ঘরের মধ্যে বসে থাকে পিকে। বলছি সেই অন্ধকার সিঁড়ি ঘরের কথা। হ্যাঁ, ওটাই ‘আগ্রাসেন কি বাওলি’।

‘বাওলি’ কথার অর্থ হল ধাপকুয়ো। গুজরাট, রাজস্থানের মতো শুষ্ক জায়গায় এই ধাপকুয়োকে কার্যত ‘জলমন্দির’ এর মতো সম্মান দেয়া হয়। এর ধাপে ধাপে যত নেমে যাওয়া যায়, বাড়তে থাকে গা ছমছমে ভাব। জনশ্রুতি অনুসারে, যদি কেউ পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে এখানে গিয়ে মনোযোগ সহকারে দেখে, তবে সে আত্মহত্যা করতো।

পিকে ছবির দৃশ্যে আমির খান

পিকে ছবির দৃশ্যে আমির খান

ভৌতিক রটনা

অতীতের ধাপকুয়ো আর পানির সন্ধান দেয় না। বরং তা দাঁড়িয়ে আছে ভৌতিক জায়গার নিদর্শন হয়ে। কথিত রয়েছে, এই বাওলির কালো টলটলে জল নাকি এক সময়ে সম্মোহন করত সাধারণ মানুষকে। সেই সম্মোহনের ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই নাকি ঝাঁপ দিয়েছেন এর কালো পানিতে। তাদের অশরীরী আত্মা নাকি এখনো ঘুরে বেড়ায় এর প্রতি কোণায়।

অনেক পর্যটকই নাকি ভৌতিক অভিজ্ঞতার কবলে পড়েছেন এই ধাপকুয়োর গভীরে। আবার একটা বড় অংশের মত, এই ঐতিহাসিক জায়গা মনোরম দর্শনীয় স্থান। নিছক গা ছমছমে ভাব ছাড়া আর কোনো ভৌতিক অভিজ্ঞতার বিন্দু বিসর্গ নেই। বিশ্বাসী-অবিশ্বাসীদের মতানৈক্যের মাঝে সবই বিশ্বাসে মিলায়, তর্কে বহুদূর। ‘পিকে’ ছবির শুটিংয়ের পরে এই স্থান আরো বেশি এগিয়ে আসে জনপ্রিয়তার নিরিখে।

এর নির্মাণশৈলী চোখে পড়ার মতো

এর নির্মাণশৈলী চোখে পড়ার মতো

ধাপকুয়োর ইতিহাস

সিন্ধু সভ্যতার খননেও ধাপকুয়োর সন্ধান পাওয়া যায়। ভারতের অন্যত্র যে ধাপকুয়ো পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম দিল্লির ‘আগ্রাসেন কি বাওলি’। অতীতে এর ধাপে ধাপে যত নামা হত শোনা যেত অতল জলের আহ্বান। এখন সেটুকুও শোনা যায় না। পরিবর্তে আছে, ভৌতিক পরিবেশ। দিল্লির ‘আগ্রাসেন কি বাওলি’ যেন বাস্তবের ক্ষুধিত পাষাণ।

দিল্লির কনট প্লেসের কাছেই আছে বহু ইতিহাসের সাক্ষী এই ধাপকুয়ো। মোট ১০৮ ধাপবিশিষ্ট এই স্থাপত্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পৌরাণিক রাজা অগ্রসেন বা উগ্রসেনের নাম। প্রজাদের পানির কষ্ট দূর করতে এই ধাপকুয়ো নির্মাণ করা হয়। তবে কোন শাসকের আমলে এই স্থাপত্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়, আজো তা জানা যায়নি। তবে স্থাপত্যের নজির দেখে মনে করা হয়, মধ্যযুগে ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতকে আবার নতুন করে একে তৈরি করেন তুঘলকি শাসকরা।

ধাপকুয়োটিতে রয়েছে ভৌতিক আবহ

ধাপকুয়োটিতে রয়েছে ভৌতিক আবহ

ঋতু অনুযায়ী ওঠানাম করত পানির স্তর। সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে নেমে পানি তুলে আনা হত। মোট তিনটি স্তরে ধাপে ধাপে নেমে যাওয়া এই ধাপকুয়োর প্রতি স্তর সাজানো খিলানে। মুসলিম ঘরানার স্থাপত্য আর ইতিহাসের আকর এই ধাপকুয়ো দিল্লির পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এটি অনেক দিন ধরে ভারতীয় ভুতুড়ে স্থান হিসেবে সংরক্ষিত ছিলো।

আগ্রাসেন কি বাওলি/বওলি/বাউডি! মারাঠিতে বলা হয়, বারাভ। গুজরাটিতে ভাভ, কন্নাডেতে কাল্যানি/পুস্কারনী বলা হয়। যার অবিধানিক বাংলা শব্দার্থ হলো পুকুর। এটি জনপ্রিয় কিংবদন্তী মহারাজ এগ্রাসেন বা সম্রাট আগাসেন কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল বলেই তার নামানুসারেই নামকরণ করা হয়।

স্থাপত্য শৈলীতে অনন্য

সেখানে গেলেই বাড়তে থাকে গা ছমছমে ভাব

সেখানে গেলেই বাড়তে থাকে গা ছমছমে ভাব

মহারাজ আগ্রাসেন সূর্য বংশের রাজা ছিলেন। তিনি মহারাষ্ট্রে যুগ যুগ ধরে হরিয়ানা প্রাচীন নগর আগ্রাহায় বসবাস করেছিলেন বলে অনেকের বিশ্বাস রয়েছে। ৩১২৪ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মহারাজা আগ্রাসেনের জন্ম হয়েছিলো বলে অনুমান করা হয়, যা হিন্দু দেবতা ভগবান শ্রী কৃষ্ণের সমসাময়িক।

আগ্রাসেন কি বাওলি তুগলক ও লোদি স্থাপত্য শৈলীর অন্তর্গত। কিছু কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন, এটি ১৪ শতাব্দীতে নির্মাণ করা হয়েছিলো। এটি লাল বালু পাথর দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া এটি দিল্লির শ্রেষ্ঠ বাওলিদের মধ্যে অন্যতম। এর দৈর্ঘ্য ৬০ মিটার, এবং প্রস্থ ১৫ মিটার। ভূমি থেকে বাওলির/পুকুরের তলা পর্যন্ত সুবিন্যস্ত ১০৫ টি সিঁড়ি রয়েছে।

দিনের বেলায় পর্যটকের বেশ আনাগোনা হয় স্থানটিতে

দিনের বেলায় পর্যটকের বেশ আনাগোনা হয় স্থানটিতে

সিঁড়িগুলো নিপুণভাবে নকশা করা রয়েছে, এবং ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে আলাদা আলাদা কক্ষে বিভক্ত করা হয়েছে। চার স্তর বিশিষ্ট পুকুরের চারপাশে উঁচু প্রাচীর, অনেকগুলো স্নানঘর সুসজ্জিত এবং এক পাশ গভীর কুয়া/কূপ-এর সঙ্গে সংযোজিত করা হয়েছে। এছাড়া বাওলির পশ্চিম কোণে সিঁড়ির উপরের ছাদযুক্ত অংশে একটি ছোট মসজিদ রয়েছে।

অবস্থান: এটি সংকোচিত হেইলি লেনে অবস্থিত, হাইল্লার রোডের কাছে, কানট প্লেসের কাছাকাছি, নয়াদিল্লির মধ্যে অবস্থিত। জন্তর মন্তর এবং ইন্ডিয়া গেট প্রায় ২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।

ধাপকুয়ো

ধাপকুয়ো

সময়: এই প্রাচীন ধাপকুয়োয় গিয়ে ইতিহাসকে অনুভব করতে চাইলে যেতে হবে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টার মধ্যে। সূর্যাস্তের পরে এখানে পর্যটকদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ।

এ জাতীয় আরও খবর

সরাইলে ১ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দে কর্মসৃজন কর্মসূচির উদ্বোধন

সরকার ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থাকবে : মো. মামুনুর রশিদ ডিসি

আরও ১১ টিভি সম্প্রচারের অপেক্ষায়

হোপ হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

অবশেষে রাজনের কারামুক্তি

নিজে নিজে পড়তে হবে, প্রাইভেট-কোচিং নয় : জাফর ইকবাল

বাঞ্ছারামপুরে পরকীয়ার বলি স্বামীকে হত্যা

‘বিএনপি-জামাত ক্ষমতার সময় বাংলাদেশ ছিল মিসকিনের দেশ’

বুলবুল তাণ্ডবে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ৯ জেলের লাশ উদ্ধার

তুরিন আফরোজ বললেন, আমি মুখ খুললে ট্রাইব্যুনালের অনেক কিছুই প্রশ্নবিদ্ধ হবে

তুরিনের বিরুদ্ধে মামলার ইঙ্গিত

ফেনীতে ফাঁসির মঞ্চ না থাকায় কুমিল্লায় যাচ্ছে নুসরাতের খুনিরা