বৃহস্পতিবার, ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিশু সন্তানের সামনেই ‘গণধর্ষণ’, সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

news-image
ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার মনপুরা উপজেলায় শিশু সন্তানের সামনেই গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলার ছয় আসামির অন্যতম ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাতে উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। নজরুল সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গতকাল রোববার রাতে গোপন সংবাদ পেয়ে সাকুচিয়া ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আজ সোমবার ভোররাতে তাঁকে মনপুরা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। নজরুল ইসলাম গণধর্ষণ মামলার পাঁচ নম্বর আসামি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চর পিয়াল থেকে সন্তানসহ ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ। ভুক্তভোগী গৃহবধূ চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর দুই সন্তান রয়েছে।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামের বেলাল পাটোয়ারী (৩৫), মো. রাসেদ পালোয়ান (২৫), শাহীন খান (২২), কিরণ (২৬) ও রিয়াজ (২৭)।
মামলার বরাত দিয়ে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চরফ্যাশন উপজেলায় বাবার বাড়ি থেকে মনপুরায় শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন ওই গৃহবধূ। আড়াই বছরের শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বেতুয়া লঞ্চঘাট হয়ে স্পিডবোটে করে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় স্পিডবোটে থাকা যাত্রী বেলাল, রাসেদ, শাহীন, কিরণ, রিয়াজ জোরপূর্বক বোটটিকে পাশের চর পিয়ালে নিয়ে শিশু সন্তানের সামনেই তাঁকে গণধর্ষণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলায় আরো বলা হয়, ‘পরে স্পিডবোটের মালিক দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম (৩০) আরেকটি স্পিডবোট নিয়ে চর পিয়াল গিয়ে ওই গৃহবধূকে আবারও ধর্ষণ করেন। নজরুল ধর্ষণের ভিডিও ধারণও করেন এবং বিষয়টি নিয়ে কথা বললে ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন।’
ওসি সাখাওয়াত বলেন, ‘খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টায় চর পিয়াল থেকে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে মনপুরা থানায় নিয়ে আসি। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মনপুরা থানায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে এ মামলা করেন। শনিবার রাত থেকেই আমরা আসামিদের ধরার জন্য অভিযান শুরু করি। যেকোনোভাবেই হোক তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।’
সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অলি উল্লাহ কাজল জানান, চরে থাকা মহিষের বাথানিয়ারা ঘটনাটি তাঁকে প্রথমে জানান। পরে তিনি মনপুরা থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেনকে জানান। ধর্ষণ মামলার আসামি নজরুল ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন বছর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তবে এ ঘটনায় বিএনপির লোকজনও জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।