শুক্রবার, ২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আব্দুল হামিদ জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিল মায়ের কোলে চড়ে

news-image

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : দাঁড়ানোর শক্তি না থাকলেও আছে অফুরান প্রাণ শক্তি। জীবনযুদ্ধে জয়ী হবার স্বপ্নে বিভোর শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. আব্দুল হামিদ যেন কোনো কিছুতেই হার মানতে নারাজ। শারীরিক প্রতিবন্ধতাকে পেছনে ফেলে মায়ের কোলে চড়ে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে খাগড়াছড়ির পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার এ শিক্ষার্থী।

শনিবার (২ নভেম্বর) মা হামিদা বেগম ছেলেকে কোলে নিয়ে আসেন পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে। নির্ধারিত আসনে বসিয়ে বাইরে অপেক্ষা করেন মা। পরীক্ষা শেষে আবারও মায়ের কোলে বাড়ি ফিরলো মো. আব্দুল হামিদ।

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার কলাবাগান এলাকার মো. আব্দুল আলী (পিঠা মেম্বার) ও হামিদা বেগম দম্পতির সাত ছেলে-মেয়ের মধ্যে ৭ম মো. আব্দুল হামিদ শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও শিক্ষায় পিছিয়ে নেই সে। মায়ের কোলে চড়েই পিএসসি শেষ করে এখন জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। একজন মায়ের অদম্য চেষ্টা আর ত্যাগের কারণে জেডিসির মঞ্চে মো. আব্দুল হামিদ।

পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাও. আবুল কাশেম বলেন, ৩২ ইঞ্চি উচ্চতার শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. আব্দুল হামিদ নিজের পায়ে ভর করে হাঁটতে না পারায় মায়ের কোলে করেই নিয়মিত ক্লাসে আসতো। প্রতিবন্ধী হওয়ায় আমরাও সবসময় তার প্রতি একটু যত্নশীল ছিলাম।

Panchari-Student-Exam

তিনি বলেন, মায়ের এ অসাধারণ ত্যাগ, পরিশ্রম ও ভালোবাসার সঙ্গে কারও ভালোবাসার কখনই তুলনা হয়। মা শুধুই মা।

পানছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুজ্জামান অলি বলেন, একজন মেধাবীর সামনে অভাব, অনটন আর প্রতিবন্ধকতা যে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না তার অনন্য দৃষ্টান্ত পানছড়ির শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. আব্দুল হামিদ। একজন মমতাময়ী মায়ের ওপর ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে কাঙ্খিত লক্ষ্যে সে।

পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মায়ের কোলে চড়ে আসা আব্দুল হামিদ পরীক্ষা কেন্দ্রের নিয়মানুযায়ী সুবিধা পাবে। লেখাপড়ার প্রতি তার আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি তার কাঙ্খিত সাফল্য কামনা করছি।

আব্দুল হামিদের বাবা মো. আব্দূল আলী (পিঠা মেম্বার) ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দু’দুবার বসতবাড়িসহ দোকান আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হওয়া মো. আব্দুল আলী (পিঠা মেম্বার) পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার সামনে একটি টঙ দোকানে চা বিক্রি করেন। আর শীতের মৌসুমে ভাপা পিঠা বিক্রি করেন। একটি ছোট্ট চা দোকানই তার ভরসা। পুঁজি সঙ্কটে ব্যবসা ও সংসারের ব্যয়ভার চালাতে হিমসিম খেলেও সন্তানের জন্য সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন তিনি।

তিনি জানান, আব্দুল হামিদসহ তার দুই ছেলে প্রতিবন্ধী এবং দুজনেই শিক্ষা ভাতা পায়।