বৃহস্পতিবার, ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দূষণের নগরী থেকে স্বচ্ছ শহর

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট : একই দেশ, একই জাতীয় সঙ্গীত। সকলেই সুর মেলান বন্দেমাতারামের সঙ্গে। কিন্তু সবকিছুতেই যেন বিস্তর ফারাক। একেবারে উল্টোও বলা চলে। অবকাঠামো, সুযোগ সুবিধা আর উন্নত জীবনের তুলনায় হয়তোবা পিছিয়ে কিন্তু এই শহরের আছে নিজস্বতা। বলছি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি আর গুজরাটের শহর রাজকোটের কথা।

দুটি শহরই এখন বেশ আলোচিত। দিল্লি বিশ্বের দূষিত শহর হিসেবে আর রাজকোট ভারত-বাংলাদেশের খেলা নিয়ে আলোচনায়। যদিওবা দিল্লিতেও খেলা হয়েছে, কিন্তু এই শহর আলোচিত তার দূষিত বায়ু নিয়ে।

ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সিরিজের সংবাদ সংগ্রহের জন্য গান্ধীজির দেশে পা রাখা। প্রথম খেলা দিল্লিতে হওয়ার কারণে প্রথমে যেতে হয় দূষিত এই নগরীতে। দিল্লিতে থাকতে হয়েছে দেড় দিন অর্থ্যাৎ ৩৬ ঘণ্টা। এই সময়ে সূর্যের আলো খুব কমই দেখা গেছে। দ্বিতীয় ম্যাচ ভারতের রাজধানী থেকে প্রায় ১২০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত রাজকোট শহরে। এখানে পা না রাখলে বোঝাই যেত না একই দেশের মধ্যে এরকম একটি শহরও থাকতে পারে। অবশ্য আন্তঃসংস্কৃতির দেশ ভারত বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এখানে নিঃশ্বাসের সঙ্গে থাকে স্বস্তি আর প্রশান্তি। শহরের মধ্যে নেই দালান-কোঠার সাড়ি, তবে আছে সবুজের সমারোহ। দিল্লির আকাশ যতটা না অন্ধকার (দূষিত অর্থে) এখানে তার চেয়েও অনেক বেশি ঝলমলে। রাজকোটের মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ করবে যে কাউকেই।

রাজকোটের গুণগানতো গাওয়া হলো অনেক, এবার একটু পরিচয় করে দেওয়া যাক। এই শহরটি গুজরাট রাজ্যের ৩৩টি জেলার একটি। গুজরাট রাজ্যকে মোট চারটি অঞ্চলে (উত্তর গুজরাট, দক্ষিণ গুজরাট, সেন্ট্রাল গুজরাট ও সৌরাষ্ট্র) ভাগ করা হয়েছে। রাজকোট সৌরাষ্ট্রর মধ্যে পড়েছে। এই অঞ্চলটি আরব সাগরের উপকূলে অবস্থিত। সৌরাষ্ট্র সুরাট ও খেতিওয়ার নামেও বিখ্যাত। সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে রাজকোটসহ ১২টি জেলা রয়েছে। তার মধ্যে রাজকোট হলো ভারতের শহরগুলোর মধ্যে সপ্তম স্বচ্ছ শহর। ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্যেই বোঝা যায় দিল্লির সঙ্গে তুলনায় কতটা পার্থক্য!

এখানকার মানুষের ভাষা গুজরাটি। এটাই তাদের মাতৃভাষা। এই ভাষায় প্রায় ৪৯ মিলিয়ন মানুষ কথা বলে। বিশ্বের ব্যবহৃত ভাষাগুলোর মধ্যে গুজরাটির অবস্থান ২৬ নম্বরে। এখানকার মাত্র ৪.৭১ শতাংশ মানুষ হিন্দিতে কথা বলে। প্রধান খাবার শাক-সবজি। সবজিতেই তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। সবজি দিয়ে তৈরি নানারকম বাহারি পদ দিয়েই এখানকার মানুষ খাওয়া দাওয়া করে। সবজি দিয়ে বানানো নানা আইটেমের সঙ্গে এখানকার কিছু বহুল প্রচলিত খাবার হলো ফাফডা, ওয়াফার, ভাজিয়া, গ্রিন চাটনি ও গ্যালক্সি পান। তবে এখানকার চায়ের কথা না বললেই নয়, এক কথায় দারুণ। এই শহর থেকে সর্ব ভারতে যাওয়ার জন্য রয়েছে সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা। জেলা শহর হলেও বিমানবন্দর, রেলওয়ে জংশন রয়েছে, আর বাস সার্ভিস তো আছেই।

ভারতের স্বাধীনতার আগে এই রাজকোটেই পড়াশোনা করেছিলেন দেশটির জাতির জনক মাহাত্মা গান্ধী। শৈশবকালে এখানকার আলফ্রেড স্কুলে দীক্ষা নিয়েছিলেন গান্ধীজী। এই স্কুল এখন গান্ধী মিউজিয়ামে পরিণত হয়েছে। সব মিলিয়ে ভারতের জাতির জনকের এই শহরে প্রায় তিন দিন থাকা হয়েছে, যার প্রতিটা সময় কেটেছে মুগ্ধতায়! আবার কখনো আসা হোক বা না হোক, স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে রাজকোটের মুগ্ধতা।