বৃহস্পতিবার, ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সরকার দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে : ভিপি নুর

news-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য পাগল হয়ে গেছে। তাই দেশের মানুষ ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর ক্ষমতা হারানোর ভয়ে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। দেশকে একটি গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নোয়াখালী জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল পূর্বে সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

ডাকসুর ভিপি বলেন, আজকে শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই নয় বরং প্রত্যেকটি ভিন্নমতের মানুষ যারা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে, সরকারের অন্যায়, অনিয়ম, লুটপাট দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে সবাই আজকে নির্যাতনের শিকার, হামলার শিকার, মামলার শিকার।

সরকারকে হুঁশিয়ার করে নুর বলেন, এভাবে মানুষকে আর দমন করতে পারবেন না। মানুষ কিন্তু নিজ হাতে অস্ত্র তুলে নেবে। প্রয়োজনে আপনাদের দেশছাড়া করবে। সেজন্য কিন্তু ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ শহীদ রক্তের বিনিময়ে ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন করেছিল। সেই দেশের মানুষ তাদের স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্য, গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সুশাসন নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনে আবার নিজ হাতে অস্ত্র তুলে নেবে। তখন কিন্তু দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যাবে। কারণ আপনারা ইতোমধ্যে দেশের প্রত্যেকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছেন।

তিনি আরও বলেন, নিজেদের নগ্ন হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আজকে কোন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কাজ করতেছে না। বিচার বিভাগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশে মৃত্যুবরণ করার আকুতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ভিন্নমতের রাজনীতির কারণে তাকে পাসপোর্ট দেয়া হয়নি।

নুর বলেন, আজকে মানুষের মনে ক্ষোভ, সেই ক্ষোভ আপনারা বুঝতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন। আপনারা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ প্রত্যেকটি আন্দোলনে দেখেছেন জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ। সেই প্রতিবাদগুলো শুধুমাত্র ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয় আপনাদের যে ব্যর্থতা, আপনাদের যে দুঃশাসন, আপনাদের যে নির্যাতন, নিপীড়ন সে নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছিল। আপনারা আজকে যদি সময় থাকতে সংশোধন হোন, না হলে জনগণ কিন্তু আপনাদের বিতাড়িত করতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসবে। আমরা বলে দিতে চাই জনগণ, সাধারণ ছাত্র, শিক্ষক, যেকোনো মানুষের আন্দোলনে ষড়যন্ত্র না খুঁজে যুক্তিকতা দিয়ে বিবেচনা করে আন্দোলনের সমাধানের চেষ্টা করুন।

বিক্ষোভ মিছিল পূর্ববর্তী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, তারেক রহমান, সোহরাপ হোসেন, মোল্লা বিন ইয়ামিন, মো. আতাউল্লাহ প্রমুখ।