বৃহস্পতিবার, ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সরাইলে দখল হচ্ছে নদী, কেউ কিছুই বলছে না !

news-image

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউপির পূর্ব রাণীদিয়া তিতাস নদীর তীর আড়ৎ ঘাট এলাকায় বীরদর্পে দখল করা হচ্ছে নদীর জায়গাসহ খাস জমি। ড্রেজার মেশিনে বালু ফেলে সরকারি এসব জায়গা অবৈধভাবে ভরাট করছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। সেখানে রাতের আঁধারে বালু ফেলে তিতাস নদীর বেশপরিমাণ জায়গা ইতোমধ্যে ভরাট করা হয়েছে। সেই এলাকায় প্রকাশ্যে এই অবৈধ দখলের প্রতিযোগিতা চললেও সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস, থানাপুলিশ, নৌপুলিশ, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ দায়িত্বশীল সকলেই এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকায় রয়েছে।

অভিযোগ আছে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে অবৈধ রফাদফায় রাতের আঁধারে দখলদাররা ড্রেজার মেশিনে বালু ফেলে সেখানে নদীর জায়গাসহ খাস খতিয়ানভুক্ত জমি দখলে রামরাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে।যার কারণে সংশ্লিষ্ট সবাই চুপ ! অথচ গত ৫ নভেম্বর এসব দখলের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় শতাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া হয়।

ইউএনও বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, স্থানীয় হেফজুল মিয়া ও জসিম উদ্দিন দু’জনে নদী তীরবর্তী খাস জমি দখলে নিয়ে বালু ভরাটের পর সেখানে ‘ডকইয়ার্ড’ নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর মনির হোসেন নামে আরেক দখলদার নদীতে বালু ফেলে বিশাল জায়গা ভরাট করছেন। ভরাটের পর তিনিও সেই জায়গায় ডকইয়ার্ড নির্মাণ করবেন।

এ ব্যাপারে জানতে শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস এ প্রতিবেদককে বলেন, কোনো অবস্থাতেই নদীর জায়গা দখল করতে দেওয়া হবে না। আমরা সরেজমিন গিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করবো।

এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা প্রিয়াংকা জানান, নদী দখল ও খাস জমি কোনটাই দখল করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রতিবেদন দিতে অরুয়াইল ইউপির চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তিনি এখনও কিছুই জানাননি। বিষয়টি এখন আমি নিজে পরিদর্শনে যাব।